রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে অবশেষে গতি পাচ্ছে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫ এর দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট। প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করার প্রস্তুতি চলছে।
১৭ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পথ নির্মিত হবে মাটির নিচে পাতাল পথ হিসেবে। নতুন রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই পথে মোট ১৫টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ১১টি ভূগর্ভস্থ এবং ৪টি উড়াল স্টেশন হিসেবে নির্মিত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এডিবি সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়া ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছে।
নতুন এই রুটে চলাচলের জন্য প্রাথমিকভাবে ১৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন রাখা হবে। প্রতিটি ট্রেনে ৬টি করে কোচ থাকবে এবং একবারে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পর পর ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত সম্পূর্ণ পথ অতিক্রম করতে সময় লাগবে মাত্র ২৮ মিনিট। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩৫ সাল নাগাদ ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটিতে পৌঁছাবে। ফলে রাজধানী ও আশেপাশের এলাকার তীব্র যানজট নিরসনে বিশ্বমানের এই পরিবহন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অতিসম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক করতে সমগ্র মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে লাস্ট-মাইল কানেকটিভিটি হিসেবে মনোরেল যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিদ্যমান অন্যান্য মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর কাজ কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বিশেষ করে এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ উত্তরাঞ্চলীয় রুটের ক্ষেত্রে ঠিকাদার নিয়োগ বিলম্বিত হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় ও সময়সীমা বৃদ্ধির সংশোধন প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে চলমান এমআরটি লাইন-৬ উত্তরার উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরোদমে সচল রয়েছে এবং কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। নতুন ও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা সমস্ত রুটগুলোর নির্মাণ শেষ হলে ঢাকার পুরো মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে অবশেষে গতি পাচ্ছে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫ এর দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট। প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করার প্রস্তুতি চলছে।
১৭ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পথ নির্মিত হবে মাটির নিচে পাতাল পথ হিসেবে। নতুন রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই পথে মোট ১৫টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ১১টি ভূগর্ভস্থ এবং ৪টি উড়াল স্টেশন হিসেবে নির্মিত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এডিবি সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়া ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছে।
নতুন এই রুটে চলাচলের জন্য প্রাথমিকভাবে ১৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন রাখা হবে। প্রতিটি ট্রেনে ৬টি করে কোচ থাকবে এবং একবারে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পর পর ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত সম্পূর্ণ পথ অতিক্রম করতে সময় লাগবে মাত্র ২৮ মিনিট। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩৫ সাল নাগাদ ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটিতে পৌঁছাবে। ফলে রাজধানী ও আশেপাশের এলাকার তীব্র যানজট নিরসনে বিশ্বমানের এই পরিবহন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অতিসম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক করতে সমগ্র মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে লাস্ট-মাইল কানেকটিভিটি হিসেবে মনোরেল যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিদ্যমান অন্যান্য মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর কাজ কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বিশেষ করে এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ উত্তরাঞ্চলীয় রুটের ক্ষেত্রে ঠিকাদার নিয়োগ বিলম্বিত হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় ও সময়সীমা বৃদ্ধির সংশোধন প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে চলমান এমআরটি লাইন-৬ উত্তরার উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরোদমে সচল রয়েছে এবং কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। নতুন ও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা সমস্ত রুটগুলোর নির্মাণ শেষ হলে ঢাকার পুরো মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন