দিকপাল

হিমবাহ ধসে মানচিত্র থেকে মুছে গেল চীন-নেপাল সীমান্তের গিরং বন্দর


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৩৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হিমবাহ ধসে মানচিত্র থেকে মুছে গেল চীন-নেপাল সীমান্তের গিরং বন্দর

হিমবাহ ধসের পর সুনামির তোড়ে নেমে আসা কাদা, পাথর ও পানির প্রবল তোড়ে কার্যত মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে চীন-নেপাল সীমান্তের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ত ‘গিরং’ স্থলবন্দর। গত ২৬ আগস্ট নেপাল অংশে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে চীনের তিব্বত ও নেপালকে সংযুক্ত করা এই কৌশলগত সীমান্তপথটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা প্রথমবারের মতো বিধ্বস্ত গিরং বন্দর পরিদর্শনের সুযোগ পান। পরিদর্শনে দেখা যায়, যেখানে একসময় পাঁচতলা বিশিষ্ট সুবিশাল চীনা কাস্টমস ভবন ছিল, সেটির এখন আর কোনো অস্তিত্বই নেই। কাদার তোড়ে ভেসে গেছে সীমান্ত এলাকার প্রায় ২০ মিটার উঁচু বিশালাকার প্রবেশ ফটকটিও। পুরো এলাকাটি এখন কেবল কাদা, বিশাল আকারের পাথর ও বিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

চীনের তিব্বত অংশে এ পর্যন্ত ৪৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫১৯ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৪৯ জন ভারতীয় নাগরিকসহ ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ কৈলাস-মানসসরোবরগামী তীর্থযাত্রী। নিখোঁজদের সন্ধানে চীনা উদ্ধারকর্মীরা গভীর কাদার ভেতরে অনুসন্ধানী রাডার ও ভারী খননযন্ত্র ব্যবহার করে তল্লাশি চালাচ্ছেন। দুর্গম পরিবেশ ও বিদ্যুৎহীনতার বাধা কাটাতে সম্প্রতি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিকল্প সড়ক চালু করে উদ্ধার সরঞ্জাম ঘটনাস্থলে পৌঁছানো হয়েছে।

বিগত এক দশকে গিরং বন্দরটি চীন ও নেপালের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং হিন্দু তীর্থযাত্রীদের চলাচলের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর থেকে এই বন্দরের ওপর নির্ভরতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু গিরং বন্দর ধ্বংসই নয়, নেপালের ত্রিশূলী নদী উপত্যকার শত শত গ্রাম, সেতু ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নেপালকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও আবাসন সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি পুরো হিমালয় অঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয় ও হিমবাহ ধসজনিত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার আবশ্যিকতাকে আবারও বিশ্ব দরবারে উন্মোচিত করল।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হিমবাহ ধসে মানচিত্র থেকে মুছে গেল চীন-নেপাল সীমান্তের গিরং বন্দর

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হিমবাহ ধসের পর সুনামির তোড়ে নেমে আসা কাদা, পাথর ও পানির প্রবল তোড়ে কার্যত মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে চীন-নেপাল সীমান্তের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ত ‘গিরং’ স্থলবন্দর। গত ২৬ আগস্ট নেপাল অংশে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে চীনের তিব্বত ও নেপালকে সংযুক্ত করা এই কৌশলগত সীমান্তপথটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা প্রথমবারের মতো বিধ্বস্ত গিরং বন্দর পরিদর্শনের সুযোগ পান। পরিদর্শনে দেখা যায়, যেখানে একসময় পাঁচতলা বিশিষ্ট সুবিশাল চীনা কাস্টমস ভবন ছিল, সেটির এখন আর কোনো অস্তিত্বই নেই। কাদার তোড়ে ভেসে গেছে সীমান্ত এলাকার প্রায় ২০ মিটার উঁচু বিশালাকার প্রবেশ ফটকটিও। পুরো এলাকাটি এখন কেবল কাদা, বিশাল আকারের পাথর ও বিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

চীনের তিব্বত অংশে এ পর্যন্ত ৪৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫১৯ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৪৯ জন ভারতীয় নাগরিকসহ ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ কৈলাস-মানসসরোবরগামী তীর্থযাত্রী। নিখোঁজদের সন্ধানে চীনা উদ্ধারকর্মীরা গভীর কাদার ভেতরে অনুসন্ধানী রাডার ও ভারী খননযন্ত্র ব্যবহার করে তল্লাশি চালাচ্ছেন। দুর্গম পরিবেশ ও বিদ্যুৎহীনতার বাধা কাটাতে সম্প্রতি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিকল্প সড়ক চালু করে উদ্ধার সরঞ্জাম ঘটনাস্থলে পৌঁছানো হয়েছে।

বিগত এক দশকে গিরং বন্দরটি চীন ও নেপালের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং হিন্দু তীর্থযাত্রীদের চলাচলের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর থেকে এই বন্দরের ওপর নির্ভরতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু গিরং বন্দর ধ্বংসই নয়, নেপালের ত্রিশূলী নদী উপত্যকার শত শত গ্রাম, সেতু ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নেপালকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও আবাসন সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি পুরো হিমালয় অঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয় ও হিমবাহ ধসজনিত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার আবশ্যিকতাকে আবারও বিশ্ব দরবারে উন্মোচিত করল।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল