দিকপাল

ইরান যুদ্ধে এখন হরমুজ প্রণালি খোলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য: ভ্যান্স


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৫৮ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান যুদ্ধে এখন হরমুজ প্রণালি খোলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য: ভ্যান্স
ছবি: সংগৃহীত

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার চেয়ে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনাই এখন ইরান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে মার্কিন প্রশাসনের এই কৌশলগত পরিবর্তনের তথ্য জানা গেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে তেল পরিবহন নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য, যাতে দেশজুড়ে আমেরিকানদের গাড়ি ও বাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের খরচ সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়। এর পরেই আসবে ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পায় তা নিশ্চিত করার দ্বিতীয় লক্ষ্যটি।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে ইরান এখন দরকষাকষির টেবিলে বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, এই যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন জনগণের অসন্তোষের কারণে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে আসায় সরাসরি সামরিক হামলার বদলে ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ রেখে 'ধীরে চলো' নীতি গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জানিয়েছেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে আগামী সপ্তাহে তেহরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নতুন ‘অর্থনৈতিক শাস্তি’ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তি নিশ্চিত করতে চাইলেও ইরান সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণসহ বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যা মেনে নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য বেশ জটিল। সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুত কমে আসা এবং বড় কোনো সামরিক বা অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে নতজানু করতে না পারায় ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে বিকল্পের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমে আসছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


ইরান যুদ্ধে এখন হরমুজ প্রণালি খোলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য: ভ্যান্স

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার চেয়ে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনাই এখন ইরান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে মার্কিন প্রশাসনের এই কৌশলগত পরিবর্তনের তথ্য জানা গেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে তেল পরিবহন নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য, যাতে দেশজুড়ে আমেরিকানদের গাড়ি ও বাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের খরচ সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়। এর পরেই আসবে ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পায় তা নিশ্চিত করার দ্বিতীয় লক্ষ্যটি।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে ইরান এখন দরকষাকষির টেবিলে বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, এই যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন জনগণের অসন্তোষের কারণে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে আসায় সরাসরি সামরিক হামলার বদলে ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ রেখে 'ধীরে চলো' নীতি গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জানিয়েছেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে আগামী সপ্তাহে তেহরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নতুন ‘অর্থনৈতিক শাস্তি’ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তি নিশ্চিত করতে চাইলেও ইরান সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণসহ বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যা মেনে নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য বেশ জটিল। সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুত কমে আসা এবং বড় কোনো সামরিক বা অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে নতজানু করতে না পারায় ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে বিকল্পের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমে আসছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল