ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কড়া হুমকির মুখে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী তিনটি বিশাল ট্যাংকার দিক পরিবর্তন করে সুয়েজ খালের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। চীন ও ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এসব জাহাজ সংঘাতপূর্ণ ইয়েমেন উপকূল অতিক্রম না করে নিরাপদ দূরত্বের দিকে মোড় নেয়।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের পর এবার লোহিত সাগরের কৌশলগত পথে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন-ইসরায়েলি ও ইরান সংঘাতের নতুন ধাপ হিসেবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। বিভিন্ন শিপিং কোম্পানিতে পাঠানো ই-মেইলে তারা সৌদি আরবের কোনো বন্দরে পণ্য লোড বা আনলোড না করার কড়া হুঁশিয়ারি দেয়। অন্যথায় যেকোনো স্থানে হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল বন্ধ থাকার কারণে এতদিন সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় ‘ইয়ানবু’ বন্দরই ছিল মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির মূল বিকল্প রুট। তবে হুথিদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে এই প্রধান বিকল্প পথটিও বড় ধরণের ঝুঁকিতে পড়ল।
শিপিং ট্র্যাকিং তথ্যে জানা যায়, চিন মুখী ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী ‘জিন লং ইয়াং’ (Xin Long Yang) নামক ভিএলসিসি ট্যাংকারটি লোহিত সাগর ছেড়ে বের হওয়ার বদলে পথ বদলে সুয়েজ খালের দিকে রওনা দিয়েছে। একই সাথে ভারতের উদ্দেশ্যে প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ছোট ট্যাংকার ‘রোদোস’ (Rodos) এবং অপর একটি ট্যাংকার ‘অ্যামাজন’ (Amazon) একই ভাবে দিক পরিবর্তন করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে এসব জাহাজ তাদের ট্রান্সপন্ডার (অবস্থান জানানোর যন্ত্র) বন্ধ রেখেছে।
বিশ্লেষকরা জানান, লোহিত সাগর হয়ে বাবেল মান্দেব প্রণালী অতিক্রম করতে না পেরে জাহাজগুলোকে যদি সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর এবং পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে এশিয়ায় যেতে হয়, তবে পণ্য পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ অতিরিক্ত সময় লেগে যাবে। এর ফলে জাহাজ চলাচলের খরচ এবং বীমা মাশুল একলাফে অনেক বেড়ে গেছে। সমুদ্রপথে চলাচলে হুথিদের এই বাধা বহাল থাকলে ইয়ানবু বন্দর থেকে উত্তোলিত সৌদি তেল এশিয়ার পরিবর্তে ইউরোপের বাজারগুলোর দিকে ডাইভার্ট হতে পারে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: রয়টার্স

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কড়া হুমকির মুখে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী তিনটি বিশাল ট্যাংকার দিক পরিবর্তন করে সুয়েজ খালের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। চীন ও ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এসব জাহাজ সংঘাতপূর্ণ ইয়েমেন উপকূল অতিক্রম না করে নিরাপদ দূরত্বের দিকে মোড় নেয়।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের পর এবার লোহিত সাগরের কৌশলগত পথে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন-ইসরায়েলি ও ইরান সংঘাতের নতুন ধাপ হিসেবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। বিভিন্ন শিপিং কোম্পানিতে পাঠানো ই-মেইলে তারা সৌদি আরবের কোনো বন্দরে পণ্য লোড বা আনলোড না করার কড়া হুঁশিয়ারি দেয়। অন্যথায় যেকোনো স্থানে হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল বন্ধ থাকার কারণে এতদিন সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় ‘ইয়ানবু’ বন্দরই ছিল মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির মূল বিকল্প রুট। তবে হুথিদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে এই প্রধান বিকল্প পথটিও বড় ধরণের ঝুঁকিতে পড়ল।
শিপিং ট্র্যাকিং তথ্যে জানা যায়, চিন মুখী ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী ‘জিন লং ইয়াং’ (Xin Long Yang) নামক ভিএলসিসি ট্যাংকারটি লোহিত সাগর ছেড়ে বের হওয়ার বদলে পথ বদলে সুয়েজ খালের দিকে রওনা দিয়েছে। একই সাথে ভারতের উদ্দেশ্যে প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ছোট ট্যাংকার ‘রোদোস’ (Rodos) এবং অপর একটি ট্যাংকার ‘অ্যামাজন’ (Amazon) একই ভাবে দিক পরিবর্তন করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে এসব জাহাজ তাদের ট্রান্সপন্ডার (অবস্থান জানানোর যন্ত্র) বন্ধ রেখেছে।
বিশ্লেষকরা জানান, লোহিত সাগর হয়ে বাবেল মান্দেব প্রণালী অতিক্রম করতে না পেরে জাহাজগুলোকে যদি সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর এবং পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে এশিয়ায় যেতে হয়, তবে পণ্য পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ অতিরিক্ত সময় লেগে যাবে। এর ফলে জাহাজ চলাচলের খরচ এবং বীমা মাশুল একলাফে অনেক বেড়ে গেছে। সমুদ্রপথে চলাচলে হুথিদের এই বাধা বহাল থাকলে ইয়ানবু বন্দর থেকে উত্তোলিত সৌদি তেল এশিয়ার পরিবর্তে ইউরোপের বাজারগুলোর দিকে ডাইভার্ট হতে পারে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন