দিকপাল

গণতন্ত্র রক্ষায় জুলাই সনদ জরুরি: রিজভী


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ | ০৫:৫৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গণতন্ত্র রক্ষায় জুলাই সনদ জরুরি: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এটি দ্রুত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান এবং বলেন, সনদটি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলো আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন সম্পন্ন করতে পারে।

আজ সোমবার উত্তরায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিটি) অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই স্মৃতি’ এবং ‘তারুণ্যের স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠিত করতে সবাইকে একটি টেবিলে বসে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তা আইনিকরণ করতে হবে। তিনি এই কাজগুলো দ্রুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সতর্ক করেন যে, নানা ছিদ্রপথে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান ঘটতে পারে, যারা বিপুল অর্থ ও বিদেশি মদদ পেয়ে আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

জুলাই-আগস্টের এই পরিবর্তনের মাধ্যমে কমপক্ষে গণতন্ত্রের কিছুটা আলো দেখানোর চেষ্টা হয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এখন কমপক্ষে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা রয়েছে এবং বর্তমানে কাউকে গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, কথা বলা ও সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক সমাজের অপরিহার্য উপাদান, যা আগে ছিল না এবং জুলাই তা নিশ্চিত করেছে।

জুলাইয়ের গভীর তাৎপর্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশে বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি ন্যূনতম প্রধান ইস্যুতে ন্যূনতম সমঝোতা (মিনিমাম আন্ডারস্ট্যান্ডিং) থাকার ওপর জোর দেন। এই সমঝোতা না থাকলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাও বিঘ্নিত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শহীদ মীর মুগ্ধের ‘পানি লাগবে, পানি?’—এই স্মৃতি স্মরণ করে রিজভী বলেন, মুগ্ধ ও অন্যরা এখানে শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ ভোলা যায় না।

পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনসহ সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে তছনছ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যা বলতেন তাই মিডিয়ায় প্রচার করতে হতো এবং সব মিডিয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ছিল। তিনি বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা ছিল না এবং নির্বাচন কমিশন একের পর এক তামাশার নির্বাচন করে নিজেও তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে জরাজীর্ণ কারাগারে রেখে অসুস্থ করে তোলার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, সেই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্যোগ নিয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার এবং হিটলারের মতো একই কায়দা এখানেও অবলম্বন করা হয়েছিল।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি), অ্যাব নেতা আবু সাঈদ চঞ্চল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


গণতন্ত্র রক্ষায় জুলাই সনদ জরুরি: রিজভী

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এটি দ্রুত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান এবং বলেন, সনদটি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলো আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন সম্পন্ন করতে পারে।

আজ সোমবার উত্তরায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিটি) অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই স্মৃতি’ এবং ‘তারুণ্যের স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠিত করতে সবাইকে একটি টেবিলে বসে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তা আইনিকরণ করতে হবে। তিনি এই কাজগুলো দ্রুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সতর্ক করেন যে, নানা ছিদ্রপথে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান ঘটতে পারে, যারা বিপুল অর্থ ও বিদেশি মদদ পেয়ে আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

জুলাই-আগস্টের এই পরিবর্তনের মাধ্যমে কমপক্ষে গণতন্ত্রের কিছুটা আলো দেখানোর চেষ্টা হয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এখন কমপক্ষে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা রয়েছে এবং বর্তমানে কাউকে গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, কথা বলা ও সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক সমাজের অপরিহার্য উপাদান, যা আগে ছিল না এবং জুলাই তা নিশ্চিত করেছে।

জুলাইয়ের গভীর তাৎপর্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশে বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি ন্যূনতম প্রধান ইস্যুতে ন্যূনতম সমঝোতা (মিনিমাম আন্ডারস্ট্যান্ডিং) থাকার ওপর জোর দেন। এই সমঝোতা না থাকলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাও বিঘ্নিত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শহীদ মীর মুগ্ধের ‘পানি লাগবে, পানি?’—এই স্মৃতি স্মরণ করে রিজভী বলেন, মুগ্ধ ও অন্যরা এখানে শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ ভোলা যায় না।

পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনসহ সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে তছনছ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যা বলতেন তাই মিডিয়ায় প্রচার করতে হতো এবং সব মিডিয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ছিল। তিনি বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা ছিল না এবং নির্বাচন কমিশন একের পর এক তামাশার নির্বাচন করে নিজেও তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে জরাজীর্ণ কারাগারে রেখে অসুস্থ করে তোলার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, সেই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্যোগ নিয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার এবং হিটলারের মতো একই কায়দা এখানেও অবলম্বন করা হয়েছিল।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি), অ্যাব নেতা আবু সাঈদ চঞ্চল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল