গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন কার্য সম্পন্ন হয়েছে। টানা ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র মাশহাদ শহরে লাখো শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। তবে সর্বোচ্চ নেতার দাফনের এই ঐতিহাসিক দিনেও থামেনি মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত। খামেনিকে বিদায় জানানোর দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর প্রলয়ঙ্করী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে তারা ইরানের অন্তত ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মার্কিন হামলাকে ‘গুরুতর যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘অশুভ’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, গত দুই দিনের মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, তেহরান থেকে মাশহাদে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও রেলপথ এই হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও দাবি করেছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি অঞ্চলেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যদিও ওয়াশিংটন এই বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধ্বংসী হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তারা কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পরবর্তীতে ইরাক ও জর্ডানে থাকা মার্কিন স্থাপনাতেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এই হামলার পর বাহরাইনের রাজধানী মানামায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, কুয়েত তাদের আকাশসীমায় একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে এবং কাতারজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনারাক নৌঘাঁটিতেও একটি বড় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই সুনির্দিষ্ট হামলায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।
নতুন করে এই ভয়াবহ সংঘাতের জেরে গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক ও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কার্যত ভেস্তে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ঘোষণা করেছেন, “ওই যুদ্ধবিরতি এখন শেষ। আমি আর ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা করতে চাই না এবং নতুন করে আলোচনা চালানো কেবলই সময়ের অপচয়।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) লিখেছেন, “অশালীন কথার জবাব আমরা অশালীনভাবে দিই না; জবাব দিই কাজের মাধ্যমে, নির্ভীকভাবে।”
এদিকে, এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে। ট্যাংকার মালিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ইন্টারট্যাঙ্কো’ জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ রুট ব্যবহারকারী জাহাজের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি এবং এক সপ্তাহ আগেও প্রায় ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, তা এখন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়ে মাত্র ৩০টিতে নেমে এসেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন কার্য সম্পন্ন হয়েছে। টানা ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র মাশহাদ শহরে লাখো শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। তবে সর্বোচ্চ নেতার দাফনের এই ঐতিহাসিক দিনেও থামেনি মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত। খামেনিকে বিদায় জানানোর দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর প্রলয়ঙ্করী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে তারা ইরানের অন্তত ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মার্কিন হামলাকে ‘গুরুতর যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘অশুভ’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, গত দুই দিনের মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, তেহরান থেকে মাশহাদে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও রেলপথ এই হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও দাবি করেছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি অঞ্চলেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যদিও ওয়াশিংটন এই বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধ্বংসী হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তারা কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পরবর্তীতে ইরাক ও জর্ডানে থাকা মার্কিন স্থাপনাতেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এই হামলার পর বাহরাইনের রাজধানী মানামায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, কুয়েত তাদের আকাশসীমায় একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে এবং কাতারজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনারাক নৌঘাঁটিতেও একটি বড় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই সুনির্দিষ্ট হামলায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।
নতুন করে এই ভয়াবহ সংঘাতের জেরে গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক ও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কার্যত ভেস্তে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ঘোষণা করেছেন, “ওই যুদ্ধবিরতি এখন শেষ। আমি আর ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা করতে চাই না এবং নতুন করে আলোচনা চালানো কেবলই সময়ের অপচয়।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) লিখেছেন, “অশালীন কথার জবাব আমরা অশালীনভাবে দিই না; জবাব দিই কাজের মাধ্যমে, নির্ভীকভাবে।”
এদিকে, এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে। ট্যাংকার মালিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ইন্টারট্যাঙ্কো’ জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ রুট ব্যবহারকারী জাহাজের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি এবং এক সপ্তাহ আগেও প্রায় ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, তা এখন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়ে মাত্র ৩০টিতে নেমে এসেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন