চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধ বসতি স্থাপন কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না। বন্দরনগরীর ২৬টি পাহাড়ে বর্তমানে অন্তত সহস্রাধিক পরিবার চরম মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হলেও, বিভিন্ন অজুহাতে সেখান থেকে সরতে রাজি নন বসবাসকারীরা।
নগরীর বায়েজিদের রৌফাবাদ মিয়া পাহাড়ে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়টির ভাঁজে ভাঁজে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ কাঁচা-পাকা বসতঘর। সেখানে নিয়মিত পাহাড় কাটার কারণে বৃষ্টি শুরু হলেই পাহাড় বেয়ে নেমে আসছে কর্দমাক্ত পানির ঢল, যা দেখতে অনেকটা পাহাড়ি ঝর্ণার মতো রূপ নিয়েছে।
বিরামহীন বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন মাইকিং করলেও স্থানীয় বাসিন্দারা সরতে নারাজ। এক বাসিন্দা নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “কী করব আমাদের জায়গা-সম্পদ নেই। আমরা বাচ্চার-কাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব, কোথায় থাকব।” আবার অপর এক বাসিন্দা পাহাড়ের ঝুঁকিকে পাত্তা না দিয়ে বলেন, “এতদিন যেহেতু আছি আমাদের কখনও এরকম ঝুঁকিপূর্ণ লাগেনি। আমাদের কাছে এই বর্ষাকালটা অন্যবারের মতোই সাধারণ মনে হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এই অবৈধ বসতিগুলো উচ্ছেদ না হওয়ার পেছনে বড় কারণ হলো সেখানে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো সব ধরনের নাগরিক সুবিধার (ইউটিলিটি) সহজলভ্যতা। পাহাড় কাটা ও অবৈধ বসতি বন্ধে 'পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি' ৩০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করলেও এখন পর্যন্ত তার একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এমনকি দখলদারদের সুনির্দিষ্ট তালিকা থাকার পরও কোনো বড় ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়নি। গত বছরের সভায় পাহাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বৃষ্টি শুরু হলে প্রশাসনের সাময়িক তৎপরতা দেখা গেলেও বছরের বাকি সময় কার্যকর নজরদারির তীব্র অভাব থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ইউটিলিটি সংযোগ ও উচ্ছেদ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, “এখানে অবৈধভাবে যে ইউটিলিটিগুলো (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) দেওয়া হয়, সেগুলো বিচ্ছিন্ন করা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আশা করি এবার পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আরও জোরদার এবং কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আমরা পাবো।” তবে সাধারণ মানুষের মতে, বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এই সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করে স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালানো জরুরি।

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধ বসতি স্থাপন কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না। বন্দরনগরীর ২৬টি পাহাড়ে বর্তমানে অন্তত সহস্রাধিক পরিবার চরম মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হলেও, বিভিন্ন অজুহাতে সেখান থেকে সরতে রাজি নন বসবাসকারীরা।
নগরীর বায়েজিদের রৌফাবাদ মিয়া পাহাড়ে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়টির ভাঁজে ভাঁজে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ কাঁচা-পাকা বসতঘর। সেখানে নিয়মিত পাহাড় কাটার কারণে বৃষ্টি শুরু হলেই পাহাড় বেয়ে নেমে আসছে কর্দমাক্ত পানির ঢল, যা দেখতে অনেকটা পাহাড়ি ঝর্ণার মতো রূপ নিয়েছে।
বিরামহীন বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন মাইকিং করলেও স্থানীয় বাসিন্দারা সরতে নারাজ। এক বাসিন্দা নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “কী করব আমাদের জায়গা-সম্পদ নেই। আমরা বাচ্চার-কাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব, কোথায় থাকব।” আবার অপর এক বাসিন্দা পাহাড়ের ঝুঁকিকে পাত্তা না দিয়ে বলেন, “এতদিন যেহেতু আছি আমাদের কখনও এরকম ঝুঁকিপূর্ণ লাগেনি। আমাদের কাছে এই বর্ষাকালটা অন্যবারের মতোই সাধারণ মনে হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এই অবৈধ বসতিগুলো উচ্ছেদ না হওয়ার পেছনে বড় কারণ হলো সেখানে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো সব ধরনের নাগরিক সুবিধার (ইউটিলিটি) সহজলভ্যতা। পাহাড় কাটা ও অবৈধ বসতি বন্ধে 'পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি' ৩০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করলেও এখন পর্যন্ত তার একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এমনকি দখলদারদের সুনির্দিষ্ট তালিকা থাকার পরও কোনো বড় ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়নি। গত বছরের সভায় পাহাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বৃষ্টি শুরু হলে প্রশাসনের সাময়িক তৎপরতা দেখা গেলেও বছরের বাকি সময় কার্যকর নজরদারির তীব্র অভাব থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ইউটিলিটি সংযোগ ও উচ্ছেদ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, “এখানে অবৈধভাবে যে ইউটিলিটিগুলো (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) দেওয়া হয়, সেগুলো বিচ্ছিন্ন করা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আশা করি এবার পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আরও জোরদার এবং কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আমরা পাবো।” তবে সাধারণ মানুষের মতে, বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এই সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করে স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালানো জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন