সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার, কার্গো হ্যান্ডলিং ও জাহাজ আগমনের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর. আজ বুধবার (১ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) প্রকাশিত সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান থেকে এই সাফল্যের তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরটিতে বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ (TEUs) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের (৩২ লাখ ৯৬` হাজার ৬৭ টিইইউ) তুলনায় ৬.৭৬ শতাংশ বেশি. একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ৫.৩৬ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টনে পৌঁছেছে. এছাড়া বন্দরে আসা সমুদ্রগামী আন্তর্জাতিক জাহাজের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এক বছর আগে যেখানে জাহাজের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৭টি, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২৪টিতে।
কার্যক্রমের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনাগত দক্ষতা ও গতিশীলতাও বৃদ্ধি পেয়েছে. কনটেইনারবাহী একটি জাহাজের গড় অবস্থানকাল (Turnaround Time) আগের অর্থবছরের ২.৫৮ দিন থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২.৩৮ দিনে নেমে এসেছে. অর্থাৎ এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত সময়ে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে।
বন্দরের এই রেকর্ড হ্যান্ডলিংয়ের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এর সার্বিক অর্থনীতিতেও. অর্থবছরটিতে বন্দরের মোট রাজস্ব আয় বেড়ে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা. অন্যদিকে বন্দরে সুশাসন ও সাশ্রয়ী নীতি বজায় থাকায় পরিচালন ব্যয় ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা থেকে কমে প্রায় ১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যার ফলে সরকারের প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) জানিয়েছে, দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ব্যাপক সম্প্রসারণ, বন্দরের অভ্যন্তরীণ পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চলমান বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের সুফলের কারণেই এই অনন্য রেকর্ড গড়া সম্ভব হয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরের এই রেকর্ড পারফরম্যান্স বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য তথা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর। জাহাজের অবস্থানকাল কমে ২.৩৮ দিনে নেমে আসা প্রমাণ করে যে বন্দরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের ডেমারেজ বা ক্ষতিপূরণের খরচ কমবে, যা পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ কমাতে সাহায্য করবে। পরিচালন ব্যয় কমিয়ে এবং রাজস্ব বাড়িয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ যে ৪৩৭ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে, তা ভবিষ্যতে বে-টার্মিনাল ও অন্যান্য মেগা প্রকল্পের সম্প্রসারণে নিজস্ব তহবিল গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার, কার্গো হ্যান্ডলিং ও জাহাজ আগমনের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর. আজ বুধবার (১ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) প্রকাশিত সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান থেকে এই সাফল্যের তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরটিতে বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ (TEUs) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের (৩২ লাখ ৯৬` হাজার ৬৭ টিইইউ) তুলনায় ৬.৭৬ শতাংশ বেশি. একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ৫.৩৬ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টনে পৌঁছেছে. এছাড়া বন্দরে আসা সমুদ্রগামী আন্তর্জাতিক জাহাজের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এক বছর আগে যেখানে জাহাজের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৭টি, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২৪টিতে।
কার্যক্রমের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনাগত দক্ষতা ও গতিশীলতাও বৃদ্ধি পেয়েছে. কনটেইনারবাহী একটি জাহাজের গড় অবস্থানকাল (Turnaround Time) আগের অর্থবছরের ২.৫৮ দিন থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২.৩৮ দিনে নেমে এসেছে. অর্থাৎ এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত সময়ে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে।
বন্দরের এই রেকর্ড হ্যান্ডলিংয়ের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এর সার্বিক অর্থনীতিতেও. অর্থবছরটিতে বন্দরের মোট রাজস্ব আয় বেড়ে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা. অন্যদিকে বন্দরে সুশাসন ও সাশ্রয়ী নীতি বজায় থাকায় পরিচালন ব্যয় ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা থেকে কমে প্রায় ১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যার ফলে সরকারের প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) জানিয়েছে, দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ব্যাপক সম্প্রসারণ, বন্দরের অভ্যন্তরীণ পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চলমান বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের সুফলের কারণেই এই অনন্য রেকর্ড গড়া সম্ভব হয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরের এই রেকর্ড পারফরম্যান্স বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য তথা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর। জাহাজের অবস্থানকাল কমে ২.৩৮ দিনে নেমে আসা প্রমাণ করে যে বন্দরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের ডেমারেজ বা ক্ষতিপূরণের খরচ কমবে, যা পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ কমাতে সাহায্য করবে। পরিচালন ব্যয় কমিয়ে এবং রাজস্ব বাড়িয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ যে ৪৩৭ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে, তা ভবিষ্যতে বে-টার্মিনাল ও অন্যান্য মেগা প্রকল্পের সম্প্রসারণে নিজস্ব তহবিল গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন