দিকপাল

অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগেও বাধা দেবে না সরকার: জাহেদ উর রহমান


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | ১২:০৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগেও বাধা দেবে না সরকার: জাহেদ উর রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন যেকোনো দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান. তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং বর্তমান সরকারের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ এলে দুদকের উচিত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তা তদন্ত করা।

গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন. সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে সেবা খাতে ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির যে চিত্র উঠে এসেছে, সে বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতির দায় কেবল কোনো রাজনৈতিক সরকারের একার নয়; বরং রাষ্ট্রের স্থায়ী অংশ অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও এতে সমান অংশীদারিত্ব রয়েছে. তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার পরিচালনায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসন উভয় অংশই জড়িত থাকে এবং সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে, তা মূলত দীর্ঘদিনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমন কোনো দাবি তারা করছেন না. তবে সরকার দুর্নীতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী বছরের টিআইবির প্রতিবেদনে এই দুর্নীতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন. তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেরা ওই ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন দাবি করা যৌক্তিক হবে না; তবে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যে ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি এখনও বিদ্যমান রয়েছে, তা দূর করতে সরকার কাজ করছে।

একই ব্রিফিংয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলোর দায়িত্বশীলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের বক্তব্য প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এ সংক্রান্ত আদালতের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা দেশের সকল গণমাধ্যমকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে. আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু গণমাধ্যমে এখনও তাঁর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা একেবারেই অনুচিত ও আইনবহির্ভূত উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের গণমাধ্যমগুলো এ ব্যাপারে নিজেদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করবে।

তথ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্য অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতা ও সুশাসনের প্রতি অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে। সাধারণত যেকোনো সরকারের আমলে তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা বা উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে এক ধরনের অনীহা দেখা যায়, কিন্তু এখানে দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তবে মাঠপর্যায়ের সেবা খাতে যে ১২ হাজার কোটি টাকার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কথা টিআইবি উল্লেখ করেছে, তা রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক সংস্কার, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল পেমেন্ট ও সেবা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। একই সাথে আদালতের নির্দেশনা মেনে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য প্রচার বন্ধে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই হুঁশিয়ারি গণমাধ্যমের আইনি দায়বদ্ধতাকে আরও দৃঢ় করবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগেও বাধা দেবে না সরকার: জাহেদ উর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন যেকোনো দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান. তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং বর্তমান সরকারের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ এলে দুদকের উচিত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তা তদন্ত করা।

গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন. সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে সেবা খাতে ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির যে চিত্র উঠে এসেছে, সে বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতির দায় কেবল কোনো রাজনৈতিক সরকারের একার নয়; বরং রাষ্ট্রের স্থায়ী অংশ অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও এতে সমান অংশীদারিত্ব রয়েছে. তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার পরিচালনায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসন উভয় অংশই জড়িত থাকে এবং সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে, তা মূলত দীর্ঘদিনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমন কোনো দাবি তারা করছেন না. তবে সরকার দুর্নীতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী বছরের টিআইবির প্রতিবেদনে এই দুর্নীতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন. তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেরা ওই ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন দাবি করা যৌক্তিক হবে না; তবে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যে ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি এখনও বিদ্যমান রয়েছে, তা দূর করতে সরকার কাজ করছে।

একই ব্রিফিংয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলোর দায়িত্বশীলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের বক্তব্য প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এ সংক্রান্ত আদালতের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা দেশের সকল গণমাধ্যমকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে. আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু গণমাধ্যমে এখনও তাঁর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা একেবারেই অনুচিত ও আইনবহির্ভূত উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের গণমাধ্যমগুলো এ ব্যাপারে নিজেদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করবে।

তথ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্য অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতা ও সুশাসনের প্রতি অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে। সাধারণত যেকোনো সরকারের আমলে তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা বা উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে এক ধরনের অনীহা দেখা যায়, কিন্তু এখানে দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তবে মাঠপর্যায়ের সেবা খাতে যে ১২ হাজার কোটি টাকার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কথা টিআইবি উল্লেখ করেছে, তা রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক সংস্কার, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল পেমেন্ট ও সেবা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। একই সাথে আদালতের নির্দেশনা মেনে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য প্রচার বন্ধে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই হুঁশিয়ারি গণমাধ্যমের আইনি দায়বদ্ধতাকে আরও দৃঢ় করবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল