দিকপাল

পবিত্র কাবা শরিফ ধৌত করলেন প্রিন্স সৌদ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ | ০৬:৩৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

পবিত্র কাবা শরিফ ধৌত করলেন প্রিন্স সৌদ

ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র স্থাপনা পবিত্র কাবা শরিফের বার্ষিক ঐতিহ্যবাহী ধৌতকরণ অনুষ্ঠান (গুসলুল কাবা) গভীর ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফজরের নামাজের পর পবিত্র মসজিদুল হারামে বিশেষ এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় বলে ইসলামিক ইনফরমেশনের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের পক্ষে এই গৌরবময় অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল বিন আবদুল আজিজ। প্রতিবছরের সুন্নাহ ও নির্ধারিত নিয়মের ধারাবাহিকতায় এবারও কাবা শরিফের অভ্যন্তরভাগ পবিত্র জমজমের পানি, খাটি গোলাপজল, বিশেষ আতর ও বখুর (ধূপ) দিয়ে ধৌত ও সুগন্ধিমণ্ডিত করা হয়।

ধৌতকরণ প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপে কাবার গিলাফ বা কিসওয়া সংরক্ষণের জন্য দরজার পর্দার নিচের অংশ সাময়িকভাবে কিছুটা ওপরে উত্তোলন করা হয় এবং ধৌতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ সময় কাবার অভ্যন্তরে ২০ লিটার জমজমের পানি এবং ৮০ মিলিলিটার বিশেষ উদ তেল আনা হয়।

দ্বিতীয় ধাপে জমজমের পানি ও তায়েফের বিখ্যাত গোলাপজলের মিশ্রণে ভেজানো বিশেষ সাদা কাপড় দিয়ে কাবার অভ্যন্তরের দেয়াল, স্তম্ভ ও মেঝে নিপুণভাবে পরিষ্কার করা হয়। এ ধাপে ৫৪০ মিলিলিটার তায়েফের গোলাপজল, ১১ লিটার বিশেষ সুগন্ধি এবং ৩ মিলিলিটার মূল্যবান মৃগনাভি (মাস্ক) ব্যবহার করা হয়। শেষ ধাপে কাবার ভেতরের দেয়াল ও প্রতিটি কোণায় বিশেষ আতর প্রয়োগ করা হয় এবং অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের বখুর ধূপ জ্বালিয়ে পুরো অভ্যন্তরভাগ সুগন্ধিমণ্ডিত করা হয়, যেখানে ৫০০ মিলিলিটার আতর এবং ৫০০ গ্রাম প্রিমিয়াম বখুর ব্যবহৃত হয়।

ইসলামের ইতিহাসে কাবা শরিফ ধৌত করার এই ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন ও তাৎপর্যপূর্ণ। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মক্কা বিজয়ের পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কাবা শরিফে প্রবেশ করে এর অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করেছিলেন এবং আল্লাহর এই পবিত্র ঘরটি সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিমণ্ডিত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। সেই রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই সৌদি রাজপরিবার ও পবিত্র হারামাইন কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে এই বিশেষ গোসলের আয়োজন করে থাকে, যা বিশ্ব মুসলিমের কাছে কাবার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক অনুপম প্রতীক।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


পবিত্র কাবা শরিফ ধৌত করলেন প্রিন্স সৌদ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র স্থাপনা পবিত্র কাবা শরিফের বার্ষিক ঐতিহ্যবাহী ধৌতকরণ অনুষ্ঠান (গুসলুল কাবা) গভীর ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফজরের নামাজের পর পবিত্র মসজিদুল হারামে বিশেষ এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় বলে ইসলামিক ইনফরমেশনের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের পক্ষে এই গৌরবময় অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল বিন আবদুল আজিজ। প্রতিবছরের সুন্নাহ ও নির্ধারিত নিয়মের ধারাবাহিকতায় এবারও কাবা শরিফের অভ্যন্তরভাগ পবিত্র জমজমের পানি, খাটি গোলাপজল, বিশেষ আতর ও বখুর (ধূপ) দিয়ে ধৌত ও সুগন্ধিমণ্ডিত করা হয়।

ধৌতকরণ প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপে কাবার গিলাফ বা কিসওয়া সংরক্ষণের জন্য দরজার পর্দার নিচের অংশ সাময়িকভাবে কিছুটা ওপরে উত্তোলন করা হয় এবং ধৌতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ সময় কাবার অভ্যন্তরে ২০ লিটার জমজমের পানি এবং ৮০ মিলিলিটার বিশেষ উদ তেল আনা হয়।

দ্বিতীয় ধাপে জমজমের পানি ও তায়েফের বিখ্যাত গোলাপজলের মিশ্রণে ভেজানো বিশেষ সাদা কাপড় দিয়ে কাবার অভ্যন্তরের দেয়াল, স্তম্ভ ও মেঝে নিপুণভাবে পরিষ্কার করা হয়। এ ধাপে ৫৪০ মিলিলিটার তায়েফের গোলাপজল, ১১ লিটার বিশেষ সুগন্ধি এবং ৩ মিলিলিটার মূল্যবান মৃগনাভি (মাস্ক) ব্যবহার করা হয়। শেষ ধাপে কাবার ভেতরের দেয়াল ও প্রতিটি কোণায় বিশেষ আতর প্রয়োগ করা হয় এবং অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের বখুর ধূপ জ্বালিয়ে পুরো অভ্যন্তরভাগ সুগন্ধিমণ্ডিত করা হয়, যেখানে ৫০০ মিলিলিটার আতর এবং ৫০০ গ্রাম প্রিমিয়াম বখুর ব্যবহৃত হয়।

ইসলামের ইতিহাসে কাবা শরিফ ধৌত করার এই ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন ও তাৎপর্যপূর্ণ। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মক্কা বিজয়ের পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কাবা শরিফে প্রবেশ করে এর অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করেছিলেন এবং আল্লাহর এই পবিত্র ঘরটি সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিমণ্ডিত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। সেই রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই সৌদি রাজপরিবার ও পবিত্র হারামাইন কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে এই বিশেষ গোসলের আয়োজন করে থাকে, যা বিশ্ব মুসলিমের কাছে কাবার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক অনুপম প্রতীক।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল