দিকপাল

ঢাকার ট্রাফিকে এআই ক্যামেরা, দেড় হাজার মামলার তথ্য ডিএমপি কমিশনারের


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ | ০৪:৫৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার ট্রাফিকে এআই ক্যামেরা, দেড় হাজার মামলার তথ্য ডিএমপি কমিশনারের

রাজধানীর চিরচেনা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সনাতন পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই ক্যামেরা’ প্রযুক্তি। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে জিয়া উদ্যান সংলগ্ন লেক রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ ৪টি পয়েন্টে এই এআই ক্যামেরা ট্রাফিক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকার মোট ১৯টি ইন্টারসেকশনে (মোড়) স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মনিটরিং ও মামলা দেওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থার উদ্বোধন ও অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

ডিএমপি কমিশনার জানান, পরীক্ষামূলক ও প্রাথমিক কার্যক্রম চালুর পর নতুন এই এআই ক্যামেরার নিখুঁত নজরদারিতে ইতোমধ্যে প্রায় দেড় হাজার ট্রাফিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো এই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা লগে যুক্ত করছে। পর্যায়ক্রমে এই আধুনিক প্রযুক্তি রাজধানীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও ট্রাফিক ইন্টারসেকশনে চালুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

একই অনুষ্ঠানে রাজধানীর ট্রাফিক জটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে আলোচিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার স্পষ্ট করেন যে, অটোরিকশা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো গ্রহণ করা হয়নি। তবে মূল সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ এবং সামগ্রিকভাবে এদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত কাজ চলছে। ঢাকার মতো মেগাসিটিতে অটোরিকশার বিশাল সংখ্যা ও জটিলতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল পুলিশের একার পক্ষে রাজধানীর অটোরিকশা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এর জন্য সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবা সংস্থা এবং নগরবাসীর সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

ঢাকার তীব্র ট্রাফিক জট এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি দূর করতে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ম্যানুয়ালি কাগজ-কলমে বা পস (POS) মেশিনের মাধ্যমে মামলা দিতেন, যা অনেক সময় ট্রাফিক জট আরও বাড়িয়ে দিত এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এআই ক্যামেরা চালুর ফলে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর প্লেট স্ক্যান করে নিখুঁতভাবে মামলা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা উন্নত বিশ্বের ট্রাফিক ব্যবস্থার সমকক্ষ। তবে এই প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার সুশৃঙ্খল বিন্যাস এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে কেবল ডিজিটাল মামলা দিয়ে ঢাকার যানজট পুরোপুরি নিরসন করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


ঢাকার ট্রাফিকে এআই ক্যামেরা, দেড় হাজার মামলার তথ্য ডিএমপি কমিশনারের

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর চিরচেনা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সনাতন পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই ক্যামেরা’ প্রযুক্তি। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে জিয়া উদ্যান সংলগ্ন লেক রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ ৪টি পয়েন্টে এই এআই ক্যামেরা ট্রাফিক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকার মোট ১৯টি ইন্টারসেকশনে (মোড়) স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মনিটরিং ও মামলা দেওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থার উদ্বোধন ও অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

ডিএমপি কমিশনার জানান, পরীক্ষামূলক ও প্রাথমিক কার্যক্রম চালুর পর নতুন এই এআই ক্যামেরার নিখুঁত নজরদারিতে ইতোমধ্যে প্রায় দেড় হাজার ট্রাফিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো এই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা লগে যুক্ত করছে। পর্যায়ক্রমে এই আধুনিক প্রযুক্তি রাজধানীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও ট্রাফিক ইন্টারসেকশনে চালুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

একই অনুষ্ঠানে রাজধানীর ট্রাফিক জটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে আলোচিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার স্পষ্ট করেন যে, অটোরিকশা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো গ্রহণ করা হয়নি। তবে মূল সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ এবং সামগ্রিকভাবে এদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত কাজ চলছে। ঢাকার মতো মেগাসিটিতে অটোরিকশার বিশাল সংখ্যা ও জটিলতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল পুলিশের একার পক্ষে রাজধানীর অটোরিকশা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এর জন্য সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবা সংস্থা এবং নগরবাসীর সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

ঢাকার তীব্র ট্রাফিক জট এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি দূর করতে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ম্যানুয়ালি কাগজ-কলমে বা পস (POS) মেশিনের মাধ্যমে মামলা দিতেন, যা অনেক সময় ট্রাফিক জট আরও বাড়িয়ে দিত এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এআই ক্যামেরা চালুর ফলে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর প্লেট স্ক্যান করে নিখুঁতভাবে মামলা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা উন্নত বিশ্বের ট্রাফিক ব্যবস্থার সমকক্ষ। তবে এই প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার সুশৃঙ্খল বিন্যাস এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে কেবল ডিজিটাল মামলা দিয়ে ঢাকার যানজট পুরোপুরি নিরসন করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল