দিকপাল

অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা, ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন লাখো ব্যবহারকারী


তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ | ০৫:৩৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা, ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন লাখো ব্যবহারকারী

যুক্তরাজ্যে অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রায় তিনশ কোটি পাউন্ডের এক বিশাল ক্লাস অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রাহকদের আইক্লাউড ব্যবহারে এক প্রকার বাধ্য করে এবং তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে এই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ভোক্তা অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠন ‘হুইচ?’-এর করা এই মামলাটি সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের লাখ লাখ অ্যাপল ব্যবহারকারী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। মামলাটি সফলভাবে পরিচালিত হলে ভুক্তভোগী প্রতিটি গ্রাহক সর্বোচ্চ ৭৭ পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ ফেরত পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এই মামলার মূল অভিযোগ হলো, অ্যাপল তার ডিভাইসের ব্যবহারকারীদের নিজস্ব আইক্লাউড সেবা নিতে অন্যায্যভাবে প্রভাবিত করেছে। সংগঠনটির দাবি, অ্যাপল ক্লাউড স্টোরেজ বাজারে নিজের একচেটিয়া অবস্থানের অপব্যবহার করছে, যা মুক্তবাজারের প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এতে গ্রাহকরা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে অন্য কোনো সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং আইক্লাউডের মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফির নামে বাড়তি অর্থ গুণতে বাধ্য হয়েছেন। স্বাভাবিক বাজারব্যবস্থা থাকলে গ্রাহকরা হয়তো আরও বেশি ফ্রি স্টোরেজ পাওয়ার সুযোগ পেতেন। বর্তমানে আইক্লাউডের মাসিক ফি প্রায় এক পাউন্ড থেকে শুরু করে প্রায় পঞ্চান্ন পাউন্ড পর্যন্ত হয়ে থাকে, যার মাধ্যমে ডিভাইসের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্যের ব্যাকআপ রাখা হয়।


যুক্তরাজ্যের ‘কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনাল’ সম্প্রতি এই মামলাটি শুনানির জন্য ‘কালেক্টিভ প্রসিডিংস অর্ডার’ প্রদান করেছে। এই বিশেষ আদেশের ফলে গ্রাহকদের ব্যক্তিগতভাবে কোনো আবেদন করার প্রয়োজন নেই; বরং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যারা যুক্তরাজ্যে আইক্লাউড সেবা ব্যবহার করেছেন, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই মামলার অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়ে যাবেন। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুনের মধ্যে যারা এই সেবা ব্যবহার করেছেন এবং সর্বশেষ উল্লিখিত তারিখে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন, তারা এই প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত হবেন। তবে কোনো ব্যবহারকারী চাইলে নিজেদের নাম এই তালিকা থেকে প্রত্যাহারও করতে পারবেন। এছাড়া ওই তারিখে যারা যুক্তরাজ্যে ছিলেন না, কিন্তু এই মামলার সঙ্গে যুক্ত হতে চান, তাদের সংগঠনটির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।


অ্যাপল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তারা তাদের বক্তব্যে জানিয়েছে, গ্রাহকরা চাইলেই আইক্লাউডের পরিবর্তে অন্য যেকোনো বিকল্প সেবা গ্রহণ করতে পারেন, এখানে কোনো জবরদস্তির সুযোগ নেই। ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণাও দিয়েছে। তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ‘হুইচ?’-এর প্রধান নির্বাহী অ্যানাবেল হোল্ট অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানিয়েছেন যে, কোনো প্রযুক্তি জায়ান্ট যতই শক্তিশালী হোক না কেন, নিজেদের অবস্থানের অপব্যবহার করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। এই আইনি প্রক্রিয়া গ্রাহকদের পাওনা ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথে এক বড় ধাপ হিসেবে কাজ করবে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে গণ্য হবে। প্রযুক্তি জগতের করপোরেট সংস্কৃতি ও একচেটিয়া ব্যবসার বিরুদ্ধে এই লড়াই ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা, ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন লাখো ব্যবহারকারী

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাজ্যে অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রায় তিনশ কোটি পাউন্ডের এক বিশাল ক্লাস অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রাহকদের আইক্লাউড ব্যবহারে এক প্রকার বাধ্য করে এবং তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে এই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ভোক্তা অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠন ‘হুইচ?’-এর করা এই মামলাটি সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের লাখ লাখ অ্যাপল ব্যবহারকারী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। মামলাটি সফলভাবে পরিচালিত হলে ভুক্তভোগী প্রতিটি গ্রাহক সর্বোচ্চ ৭৭ পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ ফেরত পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এই মামলার মূল অভিযোগ হলো, অ্যাপল তার ডিভাইসের ব্যবহারকারীদের নিজস্ব আইক্লাউড সেবা নিতে অন্যায্যভাবে প্রভাবিত করেছে। সংগঠনটির দাবি, অ্যাপল ক্লাউড স্টোরেজ বাজারে নিজের একচেটিয়া অবস্থানের অপব্যবহার করছে, যা মুক্তবাজারের প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এতে গ্রাহকরা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে অন্য কোনো সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং আইক্লাউডের মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফির নামে বাড়তি অর্থ গুণতে বাধ্য হয়েছেন। স্বাভাবিক বাজারব্যবস্থা থাকলে গ্রাহকরা হয়তো আরও বেশি ফ্রি স্টোরেজ পাওয়ার সুযোগ পেতেন। বর্তমানে আইক্লাউডের মাসিক ফি প্রায় এক পাউন্ড থেকে শুরু করে প্রায় পঞ্চান্ন পাউন্ড পর্যন্ত হয়ে থাকে, যার মাধ্যমে ডিভাইসের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্যের ব্যাকআপ রাখা হয়।


যুক্তরাজ্যের ‘কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনাল’ সম্প্রতি এই মামলাটি শুনানির জন্য ‘কালেক্টিভ প্রসিডিংস অর্ডার’ প্রদান করেছে। এই বিশেষ আদেশের ফলে গ্রাহকদের ব্যক্তিগতভাবে কোনো আবেদন করার প্রয়োজন নেই; বরং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যারা যুক্তরাজ্যে আইক্লাউড সেবা ব্যবহার করেছেন, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই মামলার অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়ে যাবেন। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুনের মধ্যে যারা এই সেবা ব্যবহার করেছেন এবং সর্বশেষ উল্লিখিত তারিখে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন, তারা এই প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত হবেন। তবে কোনো ব্যবহারকারী চাইলে নিজেদের নাম এই তালিকা থেকে প্রত্যাহারও করতে পারবেন। এছাড়া ওই তারিখে যারা যুক্তরাজ্যে ছিলেন না, কিন্তু এই মামলার সঙ্গে যুক্ত হতে চান, তাদের সংগঠনটির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।


অ্যাপল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তারা তাদের বক্তব্যে জানিয়েছে, গ্রাহকরা চাইলেই আইক্লাউডের পরিবর্তে অন্য যেকোনো বিকল্প সেবা গ্রহণ করতে পারেন, এখানে কোনো জবরদস্তির সুযোগ নেই। ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণাও দিয়েছে। তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ‘হুইচ?’-এর প্রধান নির্বাহী অ্যানাবেল হোল্ট অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানিয়েছেন যে, কোনো প্রযুক্তি জায়ান্ট যতই শক্তিশালী হোক না কেন, নিজেদের অবস্থানের অপব্যবহার করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। এই আইনি প্রক্রিয়া গ্রাহকদের পাওনা ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথে এক বড় ধাপ হিসেবে কাজ করবে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে গণ্য হবে। প্রযুক্তি জগতের করপোরেট সংস্কৃতি ও একচেটিয়া ব্যবসার বিরুদ্ধে এই লড়াই ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল