দিকপাল

এই অ্যাপ ইনস্টল করলেই ঝুঁকি! ফাঁকা হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ | ০৩:১৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

এই অ্যাপ ইনস্টল করলেই ঝুঁকি! ফাঁকা হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

স্মার্টফোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধীদের দৌরাত্ম্য। বর্তমানে অনেকেই গুগল প্লে স্টোর বা অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর এড়িয়ে বিভিন্ন অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার প্রবণতা দেখাচ্ছেন, যা ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, হ্যাকাররা গুগল ক্রোম ও টিকটকের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর নকল সংস্করণ তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ফোনে ব্যাংকিং ট্রোজান ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দিচ্ছে। রকারোলা নামক এই ভয়ংকর ম্যালওয়্যারটি ফোনে একবার প্রবেশ করলে সেটি ২০০টিরও বেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম। এমনকি এটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্যের পাশাপাশি ডিজিটাল ক্রিপ্টোকারেন্সিও চুরি করে নিতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিম্পেরিয়ামের তথ্যমতে, অপরাধীরা অত্যন্ত কৌশলে বিভিন্ন নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করে। ব্যবহারকারীরা যখন এসব ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করতে যান, তখন তাদের ডিভাইসে গুগল প্লে প্রোটেক্টের আদলে একটি ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। অধিকাংশ মানুষই এই সতর্কবার্তাটিকে গুগলের আসল নিরাপত্তা বার্তারূপে ভুল করে এবং অনুমতি প্রদান করে। এই অনুমতির সুযোগ নিয়েই রকারোলা ম্যালওয়্যারটি ডিভাইসে ঢুকে পড়ে এবং সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। এরপর এটি প্রায় দুই শতাধিক ব্যাংকিং অ্যাপের নকল লগইন পৃষ্ঠা তৈরি করে, যেখানে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই তাদের গোপন ব্যবহারকারী নাম ও পাসওয়ার্ড প্রবেশ করান। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য চলে যায় অপরাধীদের হাতে।

এই ম্যালওয়্যারটি কেবল লগইন তথ্য চুরি করেই ক্ষান্ত হয় না; এটি ব্যবহারকারীর ফোনের লকস্ক্রিন থেকে শুরু করে যোগাযোগের তালিকা, এমনকি ফোনের কি-বোর্ডে টাইপ করা প্রতিটি তথ্যও রেকর্ড করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যাংক থেকে আসা নিরাপত্তা সতর্কবার্তাও আটকে দিতে পারে এবং সন্দেহজনক কোনো লেনদেন সম্পর্কে ব্যাংক থেকে আসা ফোনকল পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী নিজের অজান্তেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব পুরোপুরি খালি হয়ে যায়।

নিরাপদ থাকার উপায় হিসেবে প্রযুক্তিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন, অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর অর্থাৎ গুগল প্লে স্টোর বা স্যামসাং গ্যালাক্সি স্টোরের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কখনোই কোনো অপরিচিত ওয়েবসাইট বা লিঙ্কে ক্লিক করে অ্যাপ নামানো উচিত নয়। এছাড়া ফোনে গুগল প্লে প্রোটেক্ট অপশনটি সবসময় চালু আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। কোনো পপ-আপ বা অস্বাভাবিক নিরাপত্তা বার্তা দেখলে সেটি নিশ্চিত না হয়ে কোনো অবস্থাতেই অনুমতি দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য ফোনে নির্ভরযোগ্য কোনো অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারের সময় যদি ডিভাইসের কার্যক্রমে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়, তবে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং প্রয়োজনে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশলে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে, তাই অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক হিসাবকে অপূরণীয় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।

 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


এই অ্যাপ ইনস্টল করলেই ঝুঁকি! ফাঁকা হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

স্মার্টফোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধীদের দৌরাত্ম্য। বর্তমানে অনেকেই গুগল প্লে স্টোর বা অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর এড়িয়ে বিভিন্ন অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার প্রবণতা দেখাচ্ছেন, যা ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, হ্যাকাররা গুগল ক্রোম ও টিকটকের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর নকল সংস্করণ তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ফোনে ব্যাংকিং ট্রোজান ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দিচ্ছে। রকারোলা নামক এই ভয়ংকর ম্যালওয়্যারটি ফোনে একবার প্রবেশ করলে সেটি ২০০টিরও বেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম। এমনকি এটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্যের পাশাপাশি ডিজিটাল ক্রিপ্টোকারেন্সিও চুরি করে নিতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিম্পেরিয়ামের তথ্যমতে, অপরাধীরা অত্যন্ত কৌশলে বিভিন্ন নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করে। ব্যবহারকারীরা যখন এসব ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করতে যান, তখন তাদের ডিভাইসে গুগল প্লে প্রোটেক্টের আদলে একটি ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। অধিকাংশ মানুষই এই সতর্কবার্তাটিকে গুগলের আসল নিরাপত্তা বার্তারূপে ভুল করে এবং অনুমতি প্রদান করে। এই অনুমতির সুযোগ নিয়েই রকারোলা ম্যালওয়্যারটি ডিভাইসে ঢুকে পড়ে এবং সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। এরপর এটি প্রায় দুই শতাধিক ব্যাংকিং অ্যাপের নকল লগইন পৃষ্ঠা তৈরি করে, যেখানে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই তাদের গোপন ব্যবহারকারী নাম ও পাসওয়ার্ড প্রবেশ করান। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য চলে যায় অপরাধীদের হাতে।

এই ম্যালওয়্যারটি কেবল লগইন তথ্য চুরি করেই ক্ষান্ত হয় না; এটি ব্যবহারকারীর ফোনের লকস্ক্রিন থেকে শুরু করে যোগাযোগের তালিকা, এমনকি ফোনের কি-বোর্ডে টাইপ করা প্রতিটি তথ্যও রেকর্ড করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যাংক থেকে আসা নিরাপত্তা সতর্কবার্তাও আটকে দিতে পারে এবং সন্দেহজনক কোনো লেনদেন সম্পর্কে ব্যাংক থেকে আসা ফোনকল পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী নিজের অজান্তেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব পুরোপুরি খালি হয়ে যায়।

নিরাপদ থাকার উপায় হিসেবে প্রযুক্তিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন, অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর অর্থাৎ গুগল প্লে স্টোর বা স্যামসাং গ্যালাক্সি স্টোরের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কখনোই কোনো অপরিচিত ওয়েবসাইট বা লিঙ্কে ক্লিক করে অ্যাপ নামানো উচিত নয়। এছাড়া ফোনে গুগল প্লে প্রোটেক্ট অপশনটি সবসময় চালু আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। কোনো পপ-আপ বা অস্বাভাবিক নিরাপত্তা বার্তা দেখলে সেটি নিশ্চিত না হয়ে কোনো অবস্থাতেই অনুমতি দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য ফোনে নির্ভরযোগ্য কোনো অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারের সময় যদি ডিভাইসের কার্যক্রমে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়, তবে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং প্রয়োজনে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশলে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে, তাই অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক হিসাবকে অপূরণীয় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।

 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল