দিকপাল

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বেড়েছে ১০৫ শতাংশ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ | ১০:১৪ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বেড়েছে ১০৫ শতাংশ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আবার জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ জুন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ পারাপারের হার ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই দিন রেকর্ড ৭০টি নৌযান প্রণালিটি অতিক্রম করে, যার মধ্যে ৫৩টি ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ। ওমানের সক্রিয় মধ্যস্থতা এবং জলপথে পুঁতে রাখা মাইন অপসারণের ফলে এই রুটটি পুনরায় নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক নৌযান পরিচালনাকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ শিথিলের ফলে এই অঞ্চলে বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই পূর্ণ নিশ্চয়তার কথা বলছেন না, কারণ এখনো কিছু মাইন অপসারণ বাকি রয়েছে এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও বিভিন্ন বিষয়ে সতর্কবার্তাও অব্যাহত রয়েছে।


নতুন এই রুট চালুর বিষয়টি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে কিছুটা কূটনৈতিক উত্তেজনাও দেখা দিয়েছে। ওমান আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি শিপিং করিডোর চালুর ঘোষণা দিলে ইরান তীব্র আপত্তি জানায়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দাবি, তাদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই এই পথ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, তাদের নির্ধারিত রুটই প্রণালির একমাত্র অনুমোদিত পথ এবং এই জলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব জাহাজকে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, কোনো ধরনের বাড়তি শুল্ক ছাড়াই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে জাতিসংঘের অনুমোদিত রুট দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী ও মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যদিও এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বা বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেনি, তবে হামলাকারী কারা তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের তরফ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন ঘটনা বাণিজ্য রুটের নিরাপত্তাকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে বর্তমানে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং এ সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে উভয় পক্ষ ৬০ দিন সময় পেয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই জলপথ বন্ধ হলে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশ্ববাজারে এর সরাসরি প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে। জাহাজ চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম কিছুটা কমে প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা বাজারের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। তবে সামগ্রিক নৌচলাচল এখনো যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন যেকোনো সময় ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

সূত্র: এনডিটিভি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বেড়েছে ১০৫ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালি দিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আবার জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ জুন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ পারাপারের হার ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই দিন রেকর্ড ৭০টি নৌযান প্রণালিটি অতিক্রম করে, যার মধ্যে ৫৩টি ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ। ওমানের সক্রিয় মধ্যস্থতা এবং জলপথে পুঁতে রাখা মাইন অপসারণের ফলে এই রুটটি পুনরায় নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক নৌযান পরিচালনাকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ শিথিলের ফলে এই অঞ্চলে বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই পূর্ণ নিশ্চয়তার কথা বলছেন না, কারণ এখনো কিছু মাইন অপসারণ বাকি রয়েছে এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও বিভিন্ন বিষয়ে সতর্কবার্তাও অব্যাহত রয়েছে।


নতুন এই রুট চালুর বিষয়টি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে কিছুটা কূটনৈতিক উত্তেজনাও দেখা দিয়েছে। ওমান আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি শিপিং করিডোর চালুর ঘোষণা দিলে ইরান তীব্র আপত্তি জানায়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দাবি, তাদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই এই পথ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, তাদের নির্ধারিত রুটই প্রণালির একমাত্র অনুমোদিত পথ এবং এই জলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব জাহাজকে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, কোনো ধরনের বাড়তি শুল্ক ছাড়াই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে জাতিসংঘের অনুমোদিত রুট দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী ও মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যদিও এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বা বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেনি, তবে হামলাকারী কারা তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের তরফ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন ঘটনা বাণিজ্য রুটের নিরাপত্তাকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে বর্তমানে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং এ সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে উভয় পক্ষ ৬০ দিন সময় পেয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই জলপথ বন্ধ হলে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশ্ববাজারে এর সরাসরি প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে। জাহাজ চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম কিছুটা কমে প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা বাজারের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। তবে সামগ্রিক নৌচলাচল এখনো যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন যেকোনো সময় ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

সূত্র: এনডিটিভি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল