দিকপাল

ইরানের অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের গম, ভুট্টা ও সয়াবিন পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ | ০৯:২৭ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের গম, ভুট্টা ও সয়াবিন পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বৈরিতা ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার মাঝে এক নতুন ও অভাবনীয় কৌশল সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে দেশটির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে হোয়াইট হাউস। এই পরিকল্পনার আওতায় মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে গম, সয়াবিন ও ভুট্টা কেনা হবে এবং পরবর্তীতে তা ইরানে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিখাতের জন্য একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর ও অভিনব উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান বর্তমানে এক ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই সংকট লাঘবের উদ্দেশ্যেই জব্দ করা অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে মানবিক ও বাণিজ্যিক উভয় দিক থেকেই একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এই প্রক্রিয়াটিকে মার্কিন অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমেরিকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের জন্য একটি বিশাল ও নতুন বাজার খুঁজে পাবে। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও দেশটির ভৌগোলিক সৌন্দর্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি ভিন্নধর্মী বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হতে যাচ্ছে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও নিশ্চিত করেন যে, শস্য ক্রয়ের এই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতগতিতে শুরু হতে যাচ্ছে এবং এটি একটি বিশাল বাণিজ্যিক তৎপরতা হতে চলেছে। হোয়াইট হাউসের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন চরম পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের পেছনে নিগূঢ় ভূ-রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে। একদিকে জব্দ করা অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে মার্কিন কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে খাদ্য সহায়তার দোহাই দিয়ে ইরানের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলও স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ কেবল মানবিক সহায়তা নয়, বরং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি তেহরানের অভ্যন্তরীণ সংকটকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ব্যবহারের চেষ্টাও লক্ষণীয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ইরান এতে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা এখন দেখার বিষয়।

 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


ইরানের অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের গম, ভুট্টা ও সয়াবিন পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বৈরিতা ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার মাঝে এক নতুন ও অভাবনীয় কৌশল সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে দেশটির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে হোয়াইট হাউস। এই পরিকল্পনার আওতায় মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে গম, সয়াবিন ও ভুট্টা কেনা হবে এবং পরবর্তীতে তা ইরানে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিখাতের জন্য একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর ও অভিনব উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান বর্তমানে এক ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই সংকট লাঘবের উদ্দেশ্যেই জব্দ করা অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে মানবিক ও বাণিজ্যিক উভয় দিক থেকেই একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এই প্রক্রিয়াটিকে মার্কিন অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমেরিকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের জন্য একটি বিশাল ও নতুন বাজার খুঁজে পাবে। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও দেশটির ভৌগোলিক সৌন্দর্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি ভিন্নধর্মী বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হতে যাচ্ছে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও নিশ্চিত করেন যে, শস্য ক্রয়ের এই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতগতিতে শুরু হতে যাচ্ছে এবং এটি একটি বিশাল বাণিজ্যিক তৎপরতা হতে চলেছে। হোয়াইট হাউসের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন চরম পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের পেছনে নিগূঢ় ভূ-রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে। একদিকে জব্দ করা অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে মার্কিন কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে খাদ্য সহায়তার দোহাই দিয়ে ইরানের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলও স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ কেবল মানবিক সহায়তা নয়, বরং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি তেহরানের অভ্যন্তরীণ সংকটকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ব্যবহারের চেষ্টাও লক্ষণীয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ইরান এতে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা এখন দেখার বিষয়।

 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল