দিকপাল

জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ, আসছে ২০ লাখ ডোজ টিকা


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | ০১:৫৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ, আসছে ২০ লাখ ডোজ টিকা

দেশে জলাতঙ্ক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডোজ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে এই প্রস্তাবটি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং চলতি মাসেই তা চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন। মূলত কুকুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই মরণব্যাধি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক আকারে টিকাদান কর্মসূচি বা ম্যাস ডগ ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে পুরো দেশে বাস্তবায়িত হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম চললেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে জলাতঙ্ক পরিস্থিতি কিছুটা নাজুক হয়ে পড়ে। এই সংকট কাটাতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নিজস্ব অর্থায়নে নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যার জন্য ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাস থেকে এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরের পোষা কুকুর ও বিড়ালের টিকাদানের পাশাপাশি বন্ধ্যাকরণ বা ভ্যাসেকটমি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করা, যা নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জলাতঙ্ক সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে গত কয়েক বছরে আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার হয়ে ৯৪ হাজার ৩৮০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যা ২০২৫ সাল নাগাদ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। কেবল ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ হাজার ৭৫১ জন। প্রাণহানির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে; ২০২৩ সালে ৪২ জনের মৃত্যু হলেও ২০২৬ সালের মাত্র আড়াই মাসেই ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন যে, জলাতঙ্ক এমন একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যার লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে বাঁচার সুযোগ প্রায় থাকে না বললেই চলে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো কুকুর, বিড়াল বা বন্য প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড়ালে সময়ক্ষেপণ না করে আক্রান্ত স্থানটি দ্রুত চলমান পানিতে কাপড় কাচার সাবান দিয়ে অন্তত পনেরো মিনিট ধরে ধুয়ে ফেলতে হবে। সাবানের ক্ষার এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এরপর ক্ষতস্থানটি অ্যালকোহল বা আয়োডিন দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করতে হবে। সময়মতো সচেতনতা এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবেই মূলত মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। সরকারি এই নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কুকুরের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্ক অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ, আসছে ২০ লাখ ডোজ টিকা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

দেশে জলাতঙ্ক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডোজ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে এই প্রস্তাবটি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং চলতি মাসেই তা চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন। মূলত কুকুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই মরণব্যাধি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক আকারে টিকাদান কর্মসূচি বা ম্যাস ডগ ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে পুরো দেশে বাস্তবায়িত হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম চললেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে জলাতঙ্ক পরিস্থিতি কিছুটা নাজুক হয়ে পড়ে। এই সংকট কাটাতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নিজস্ব অর্থায়নে নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যার জন্য ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাস থেকে এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরের পোষা কুকুর ও বিড়ালের টিকাদানের পাশাপাশি বন্ধ্যাকরণ বা ভ্যাসেকটমি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করা, যা নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জলাতঙ্ক সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে গত কয়েক বছরে আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার হয়ে ৯৪ হাজার ৩৮০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যা ২০২৫ সাল নাগাদ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। কেবল ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ হাজার ৭৫১ জন। প্রাণহানির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে; ২০২৩ সালে ৪২ জনের মৃত্যু হলেও ২০২৬ সালের মাত্র আড়াই মাসেই ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন যে, জলাতঙ্ক এমন একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যার লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে বাঁচার সুযোগ প্রায় থাকে না বললেই চলে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো কুকুর, বিড়াল বা বন্য প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড়ালে সময়ক্ষেপণ না করে আক্রান্ত স্থানটি দ্রুত চলমান পানিতে কাপড় কাচার সাবান দিয়ে অন্তত পনেরো মিনিট ধরে ধুয়ে ফেলতে হবে। সাবানের ক্ষার এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এরপর ক্ষতস্থানটি অ্যালকোহল বা আয়োডিন দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করতে হবে। সময়মতো সচেতনতা এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবেই মূলত মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। সরকারি এই নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কুকুরের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্ক অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল