বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় চার দশমিক ৮৮ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, মাদকাসক্তদের সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত নিরাময় কেন্দ্রগুলোর সেবার মান বৃদ্ধিতে সরকার নিয়মিত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭৩টি বেসরকারি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে এক কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কেন্দ্রগুলোকে অবশ্যই নির্ধারিত বিধিমালা ও গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইকে আরও বেগবান করতে বর্তমান আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন মাদক নির্মূলে পুরোপুরি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই আইনটিকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অতি দ্রুতই তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাদক কারবারিদের সশস্ত্র গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আধুনিক ল্যাবরেটরির অভাব বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে অনেক মামলা বছরের পর বছর বিচারাধীন থাকায় আসামিরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে।
এসব জটিলতা নিরসনে মাদকসংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। আইন সংশোধন পরবর্তী সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এছাড়া, বর্তমান সময়ে অনলাইনে মাদক কেনাবেচার প্রবণতা এবং মাদক বিক্রির অর্থ মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদে রূপান্তর হওয়ার বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাজকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সকাল আটটায় মৎস্য ভবন থেকে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হবে। এছাড়া রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় চার দশমিক ৮৮ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, মাদকাসক্তদের সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত নিরাময় কেন্দ্রগুলোর সেবার মান বৃদ্ধিতে সরকার নিয়মিত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭৩টি বেসরকারি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে এক কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কেন্দ্রগুলোকে অবশ্যই নির্ধারিত বিধিমালা ও গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইকে আরও বেগবান করতে বর্তমান আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন মাদক নির্মূলে পুরোপুরি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই আইনটিকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অতি দ্রুতই তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাদক কারবারিদের সশস্ত্র গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আধুনিক ল্যাবরেটরির অভাব বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে অনেক মামলা বছরের পর বছর বিচারাধীন থাকায় আসামিরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে।
এসব জটিলতা নিরসনে মাদকসংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। আইন সংশোধন পরবর্তী সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এছাড়া, বর্তমান সময়ে অনলাইনে মাদক কেনাবেচার প্রবণতা এবং মাদক বিক্রির অর্থ মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদে রূপান্তর হওয়ার বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাজকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সকাল আটটায় মৎস্য ভবন থেকে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হবে। এছাড়া রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন