যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর নিজের অবস্থান নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুপক্ষকে এমন এক কঠিন জবাব দিয়েছে, যা তারা কল্পনাও করতে পারেনি। বুধবার এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও বলেন, এই সংঘাতের পরবর্তী সময়ে ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন একটি শক্তিশালী এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে নতুন স্বীকৃতি লাভ করেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে অতীতের উত্তেজনার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের শত্রুরা ভুল ধারণা নিয়েছিল যে মাত্র তিন দিনের মধ্যেই তারা ইরানের পতন ঘটাতে পারবে এবং তাদের পছন্দের অনুগত কোনো পক্ষকে ক্ষমতায় বসাতে সক্ষম হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, তা শত্রুপক্ষকে সম্পূর্ণরূপে হতবাক করে দিয়েছে। যুদ্ধের একেবারে শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে এবং দুই পক্ষ এখন কূটনৈতিক আলোচনার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তেহরান থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সংঘাতের শুরুর দিকের সেই ভয়াবহ দিনগুলো পার করার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি এখনো কার্যকর রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তির সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করেছে। যদিও সাধারণ ইরানি নাগরিকরা সংঘাতের স্থায়ী অবসানে আশাবাদী, তবুও তারা পরিস্থিতির বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন। সাধারণ মানুষের জীবনে যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব এবং অর্থনীতির টানাপোড়েন এখনো স্পষ্ট। মধ্য তেহরানের একজন বাসিন্দা এহসান জানান, নিয়মিত বোমা হামলার ভয়াবহতা থেকে বেরিয়ে এসে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়াটা অবশ্যই একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। তবে তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান এখনো আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি এবং অর্থনৈতিক সংকট তাদের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।
নতুন এই সমঝোতা অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের কিছু আর্থিক সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবে তেহরান। তবে এই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে কেবল মানবিক সহায়তাসংক্রান্ত পণ্য বা খাদ্যদ্রব্য কেনার কাজে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সমঝোতা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। যদিও শান্তি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, তবুও দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনে সামনের দিনগুলোতে দুই দেশ কতটা ছাড় দেয় এবং চূড়ান্ত আলোচনায় কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষকদের মূল আগ্রহের বিষয়।
সূত্র: আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর নিজের অবস্থান নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুপক্ষকে এমন এক কঠিন জবাব দিয়েছে, যা তারা কল্পনাও করতে পারেনি। বুধবার এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও বলেন, এই সংঘাতের পরবর্তী সময়ে ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন একটি শক্তিশালী এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে নতুন স্বীকৃতি লাভ করেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে অতীতের উত্তেজনার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের শত্রুরা ভুল ধারণা নিয়েছিল যে মাত্র তিন দিনের মধ্যেই তারা ইরানের পতন ঘটাতে পারবে এবং তাদের পছন্দের অনুগত কোনো পক্ষকে ক্ষমতায় বসাতে সক্ষম হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, তা শত্রুপক্ষকে সম্পূর্ণরূপে হতবাক করে দিয়েছে। যুদ্ধের একেবারে শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে এবং দুই পক্ষ এখন কূটনৈতিক আলোচনার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তেহরান থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সংঘাতের শুরুর দিকের সেই ভয়াবহ দিনগুলো পার করার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি এখনো কার্যকর রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তির সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করেছে। যদিও সাধারণ ইরানি নাগরিকরা সংঘাতের স্থায়ী অবসানে আশাবাদী, তবুও তারা পরিস্থিতির বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন। সাধারণ মানুষের জীবনে যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব এবং অর্থনীতির টানাপোড়েন এখনো স্পষ্ট। মধ্য তেহরানের একজন বাসিন্দা এহসান জানান, নিয়মিত বোমা হামলার ভয়াবহতা থেকে বেরিয়ে এসে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়াটা অবশ্যই একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। তবে তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান এখনো আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি এবং অর্থনৈতিক সংকট তাদের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।
নতুন এই সমঝোতা অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের কিছু আর্থিক সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবে তেহরান। তবে এই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে কেবল মানবিক সহায়তাসংক্রান্ত পণ্য বা খাদ্যদ্রব্য কেনার কাজে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সমঝোতা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। যদিও শান্তি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, তবুও দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনে সামনের দিনগুলোতে দুই দেশ কতটা ছাড় দেয় এবং চূড়ান্ত আলোচনায় কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষকদের মূল আগ্রহের বিষয়।
সূত্র: আল জাজিরা।

আপনার মতামত লিখুন