দিকপাল

ফ্রান্সে প্রথম ইবোলা আক্রান্ত শনাক্ত, বাড়ছে উদ্বেগ


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | ১১:১৮ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রান্সে প্রথম ইবোলা আক্রান্ত শনাক্ত, বাড়ছে উদ্বেগ

ইউরোপের জনস্বাস্থ্যে এক বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনায়। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি পেশায় একজন চিকিৎসক, যিনি সম্প্রতি মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে একটি মানবিক মিশন সফল করে নিজ দেশে ফিরেছিলেন। ইউরোপের ভূখণ্ডে এটিই ইবোলা সংক্রমণের প্রথম নিশ্চিত ঘটনা, যা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার আক্রান্ত চিকিৎসককে শনাক্ত করার পরপরই তাকে প্যারিসের একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে কঠোর আইসোলেশনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ফ্রান্স সরকার অত্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কঙ্গোসহ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে ফিরে আসা সকল ত্রাণকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি কঠোর মনিটরিং বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ওই চিকিৎসক দেশে ফেরার পর কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাদের তালিকা তৈরি করে কোয়ারেন্টাইনে আনার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে প্রশাসন। কঙ্গোতে গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভাইরাসটি এর অনেক আগে থেকেই নীরবে ছড়িয়ে পড়ছিল। বর্তমানে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি, দক্ষিণ কিভু এবং উত্তর কিভু প্রদেশগুলোতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্য আফ্রিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ইতুরি প্রদেশেই ৯০ শতাংশের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে অন্তত ৭৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমান প্রাদুর্ভাবটির কারণ ইবোলার ‘বান্ডিবুগিও’ নামক এক বিশেষ প্রজাতি, যা অত্যন্ত সংক্রামক এবং দুঃখজনকভাবে এই নির্দিষ্ট প্রজাতিটির জন্য এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে অন্তত ২০ জন আক্রান্ত এবং দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে যে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের কারণে সেখানে ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ইবোলা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। মার্কিন জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং আফ্রিকা অঞ্চলের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ইবোলা বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার স্বার্থে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, অন্যথায় সংক্রমণটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


ফ্রান্সে প্রথম ইবোলা আক্রান্ত শনাক্ত, বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

ইউরোপের জনস্বাস্থ্যে এক বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনায়। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি পেশায় একজন চিকিৎসক, যিনি সম্প্রতি মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে একটি মানবিক মিশন সফল করে নিজ দেশে ফিরেছিলেন। ইউরোপের ভূখণ্ডে এটিই ইবোলা সংক্রমণের প্রথম নিশ্চিত ঘটনা, যা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার আক্রান্ত চিকিৎসককে শনাক্ত করার পরপরই তাকে প্যারিসের একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে কঠোর আইসোলেশনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ফ্রান্স সরকার অত্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কঙ্গোসহ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে ফিরে আসা সকল ত্রাণকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি কঠোর মনিটরিং বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ওই চিকিৎসক দেশে ফেরার পর কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাদের তালিকা তৈরি করে কোয়ারেন্টাইনে আনার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে প্রশাসন। কঙ্গোতে গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভাইরাসটি এর অনেক আগে থেকেই নীরবে ছড়িয়ে পড়ছিল। বর্তমানে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি, দক্ষিণ কিভু এবং উত্তর কিভু প্রদেশগুলোতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্য আফ্রিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ইতুরি প্রদেশেই ৯০ শতাংশের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে অন্তত ৭৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমান প্রাদুর্ভাবটির কারণ ইবোলার ‘বান্ডিবুগিও’ নামক এক বিশেষ প্রজাতি, যা অত্যন্ত সংক্রামক এবং দুঃখজনকভাবে এই নির্দিষ্ট প্রজাতিটির জন্য এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে অন্তত ২০ জন আক্রান্ত এবং দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে যে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের কারণে সেখানে ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ইবোলা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। মার্কিন জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং আফ্রিকা অঞ্চলের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ইবোলা বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার স্বার্থে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, অন্যথায় সংক্রমণটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল