ফিলিপাইনের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা পুরো দেশজুড়ে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ম্যানিলার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তাকলোবান শহরের সান হোসে ন্যাশনাল হাই স্কুলে গত সোমবার দুই কিশোরের চালানো এই হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশি তদন্তে এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে অনলাইন গেমের নেতিবাচক প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের বুলিং বা উৎপীড়নের শিকার হওয়ার তথ্য বেরিয়ে আসার পর ফিলিপাইন সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘটনার পরপরই সরকার ‘গোরবক্স’ নামক একটি জনপ্রিয় গেমিং অ্যাপ দেশজুড়ে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী দুই কিশোরের বয়স যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ বছর। তারা ঘটনার দিন স্কুলের বাথরুমে একত্রিত হয়ে পুরো পরিকল্পনার চূড়ান্ত ছক তৈরি করেছিল। এরপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে তারা সহপাঠীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানিয়েছে, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে তারা সহপাঠীদের কাছ থেকে বুলিং বা উৎপীড়নের শিকার হয়ে আসছিল, যা তাদের মনের ভেতরে চরম প্রতিহিংসার জন্ম দেয়। এই হামলার জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোর উৎসও ছিল বেশ চাঞ্চল্যকর। ১৪ বছর বয়সী কিশোরটি তার খালার কাছে থাকা ৯ মিলিমিটার পিস্তলটি ব্যবহার করেছিল, যিনি পেশায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং এই ঘটনার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, অন্য কিশোরটি তার দাদার নিরাপত্তা সংস্থার নামে নিবন্ধিত পিস্তলটি সংগ্রহ করেছিল।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার আন্ডার সেক্রেটারি আবয় পারাইসো স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই ঘটনায় অনলাইন গেমের প্রভাব কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ১৪ বছর বয়সী কিশোরটি ‘গোরবক্স’ নামক একটি হিংসাত্মক গেমের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিল। এই ধরনের ফার্স্ট-পার্সন শুটার গেমগুলোতে খেলোয়াড়রা বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে নৃশংস লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পায়, যা কম বয়সী শিক্ষার্থীদের মানসপটে গভীর প্রভাব ফেলে। আইন অনুযায়ী ১৪ বছর বয়সী কিশোরটি অপরাধমূলক দায়বদ্ধতার বাইরে থাকলেও, ১৫ বছর বয়সী কিশোরটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিপাইনের সিনেটর ও শিক্ষাবিদেরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। সিনেটর রিসা হন্টিভেরোস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বর্তমানে অনলাইন মাধ্যমগুলো শিশুদের মগজ ধোলাইয়ের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, যা তাদের উগ্রপন্থী করে তুলছে। শিক্ষামন্ত্রী সনি আঙ্গারা এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই স্কুল শুটিংয়ের যে চিত্র দেখা যায়, ফিলিপাইনে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি এখন সময়ের অন্যতম প্রধান চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
ফিলিপাইনের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা পুরো দেশজুড়ে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ম্যানিলার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তাকলোবান শহরের সান হোসে ন্যাশনাল হাই স্কুলে গত সোমবার দুই কিশোরের চালানো এই হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশি তদন্তে এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে অনলাইন গেমের নেতিবাচক প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের বুলিং বা উৎপীড়নের শিকার হওয়ার তথ্য বেরিয়ে আসার পর ফিলিপাইন সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘটনার পরপরই সরকার ‘গোরবক্স’ নামক একটি জনপ্রিয় গেমিং অ্যাপ দেশজুড়ে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী দুই কিশোরের বয়স যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ বছর। তারা ঘটনার দিন স্কুলের বাথরুমে একত্রিত হয়ে পুরো পরিকল্পনার চূড়ান্ত ছক তৈরি করেছিল। এরপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে তারা সহপাঠীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানিয়েছে, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে তারা সহপাঠীদের কাছ থেকে বুলিং বা উৎপীড়নের শিকার হয়ে আসছিল, যা তাদের মনের ভেতরে চরম প্রতিহিংসার জন্ম দেয়। এই হামলার জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোর উৎসও ছিল বেশ চাঞ্চল্যকর। ১৪ বছর বয়সী কিশোরটি তার খালার কাছে থাকা ৯ মিলিমিটার পিস্তলটি ব্যবহার করেছিল, যিনি পেশায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং এই ঘটনার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, অন্য কিশোরটি তার দাদার নিরাপত্তা সংস্থার নামে নিবন্ধিত পিস্তলটি সংগ্রহ করেছিল।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার আন্ডার সেক্রেটারি আবয় পারাইসো স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই ঘটনায় অনলাইন গেমের প্রভাব কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ১৪ বছর বয়সী কিশোরটি ‘গোরবক্স’ নামক একটি হিংসাত্মক গেমের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিল। এই ধরনের ফার্স্ট-পার্সন শুটার গেমগুলোতে খেলোয়াড়রা বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে নৃশংস লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পায়, যা কম বয়সী শিক্ষার্থীদের মানসপটে গভীর প্রভাব ফেলে। আইন অনুযায়ী ১৪ বছর বয়সী কিশোরটি অপরাধমূলক দায়বদ্ধতার বাইরে থাকলেও, ১৫ বছর বয়সী কিশোরটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিপাইনের সিনেটর ও শিক্ষাবিদেরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। সিনেটর রিসা হন্টিভেরোস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বর্তমানে অনলাইন মাধ্যমগুলো শিশুদের মগজ ধোলাইয়ের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, যা তাদের উগ্রপন্থী করে তুলছে। শিক্ষামন্ত্রী সনি আঙ্গারা এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই স্কুল শুটিংয়ের যে চিত্র দেখা যায়, ফিলিপাইনে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি এখন সময়ের অন্যতম প্রধান চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন