দক্ষিণ লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, যেখানে যুদ্ধের পর ফেলে যাওয়া অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষ বেসামরিক মানুষের জীবনের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত বুধবার জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই এলাকাগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে ছড়িয়ে থাকা বিস্ফোরকগুলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় অনেক গ্রাম থেকেই অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ পাওয়ার খবর আসছে, যার ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা জারি করতে হয়েছে।
জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থা যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে, তারা এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের মতে, মাটিতে লুকিয়ে থাকা এসব বিস্ফোরক মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত বিপন্ন করে তুলছে এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া পরিবারগুলোর নিজ বাড়িতে নিরাপদ ও টেকসই ফেরার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে। এই ঝুঁকিগুলো এতটাই প্রবল যে, মানুষ চাইলেও এখন তাদের ভিটেমাটিতে ফিরে যেতে পারছে না। জাতিসংঘ গুরুত্বের সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের সর্বোচ্চ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে এবং এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো কোনো ধরনের ভয় বা শঙ্কা ছাড়াই মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের আবাসস্থলে ফিরতে পারে।
উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ লেবাননের একটি বিশাল অংশ এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে রয়েছে। এর মধ্যে কিছু এলাকা গত কয়েক দশক ধরে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের সর্বশেষ সামরিক অভিযানের সময় আরও নতুন নতুন অঞ্চল দখল করা হয়। সামরিক অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে ১০ কিলোমিটার বা প্রায় ৬ মাইলেরও বেশি গভীরে ঢুকে পড়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
লেবাননের সরকারি তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক আগ্রাসন দেশটিতে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। এই সংঘাতের ফলে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৯২ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার ১৭১ জনেরও বেশি। ভয়াবহ এই সহিংসতায় প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যুদ্ধ শেষ হলেও মাটিতে পুঁতে রাখা মাইন এবং অবিস্ফোরিত বোমার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনের অনিশ্চয়তা কাটছে না, বরং তা দীর্ঘমেয়াদী বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
দক্ষিণ লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, যেখানে যুদ্ধের পর ফেলে যাওয়া অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষ বেসামরিক মানুষের জীবনের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত বুধবার জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই এলাকাগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে ছড়িয়ে থাকা বিস্ফোরকগুলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় অনেক গ্রাম থেকেই অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ পাওয়ার খবর আসছে, যার ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা জারি করতে হয়েছে।
জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থা যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে, তারা এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের মতে, মাটিতে লুকিয়ে থাকা এসব বিস্ফোরক মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত বিপন্ন করে তুলছে এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া পরিবারগুলোর নিজ বাড়িতে নিরাপদ ও টেকসই ফেরার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে। এই ঝুঁকিগুলো এতটাই প্রবল যে, মানুষ চাইলেও এখন তাদের ভিটেমাটিতে ফিরে যেতে পারছে না। জাতিসংঘ গুরুত্বের সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের সর্বোচ্চ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে এবং এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো কোনো ধরনের ভয় বা শঙ্কা ছাড়াই মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের আবাসস্থলে ফিরতে পারে।
উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ লেবাননের একটি বিশাল অংশ এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে রয়েছে। এর মধ্যে কিছু এলাকা গত কয়েক দশক ধরে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের সর্বশেষ সামরিক অভিযানের সময় আরও নতুন নতুন অঞ্চল দখল করা হয়। সামরিক অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে ১০ কিলোমিটার বা প্রায় ৬ মাইলেরও বেশি গভীরে ঢুকে পড়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
লেবাননের সরকারি তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক আগ্রাসন দেশটিতে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। এই সংঘাতের ফলে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৯২ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার ১৭১ জনেরও বেশি। ভয়াবহ এই সহিংসতায় প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যুদ্ধ শেষ হলেও মাটিতে পুঁতে রাখা মাইন এবং অবিস্ফোরিত বোমার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনের অনিশ্চয়তা কাটছে না, বরং তা দীর্ঘমেয়াদী বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

আপনার মতামত লিখুন