দিকপাল

ইরানে গোপনে স্টারলিংক পাঠিয়েছিল ইসরায়েল: বেনেট


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ | ১০:০৩ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানে গোপনে স্টারলিংক পাঠিয়েছিল ইসরায়েল: বেনেট

ইরানের অভ্যন্তরীণ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বিদেশি সহায়তার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তার চাঞ্চল্যকর দাবি অনুযায়ী, ইরানি আন্দোলনকারীদের ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখার উদ্দেশ্যে এবং তাদের সহায়তার লক্ষ্যে ইসরায়েল গোপনে দেশটিতে হাজার হাজার স্টারলিংক ইন্টারনেট রিসিভার পাঠিয়েছিল। বেনেটের অভিযোগ, তিনি যখন দায়িত্বে ছিলেন তখন এই পরিকল্পনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগটি আর এগিয়ে নেয়নি বা কার্যকর রাখেনি।

জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নীতি বিষয়ক একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাফতালি বেনেট এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তার মেয়াদে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে হাজার হাজার রিসিভার সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল যাতে ইরানি নাগরিকরা কঠোর সেন্সরশিপের মধ্যেও ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন। বেনেটের দাবি, এই ডিভাইসগুলো পাঠানোর মূল লক্ষ্য ছিল বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সাংগঠনিক সমন্বয় তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত ইরানি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে ইসরায়েলে ক্ষমতায় থাকা অদক্ষ সরকার তার শুরু করা সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি অব্যাহত রাখেনি, যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সেখানে অনুপস্থিত ছিল।

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের এই স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা নিয়ে অতীতেও নানা বিতর্ক হয়েছে। ইরান সরকার বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে গোপনে এসব ডিভাইস অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। যদিও স্টারলিংকের ইরানে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সরকারি অনুমতি নেই, তবুও মাস্ক আগেভাগে জানিয়েছিলেন যে, প্রযুক্তিগতভাবে সেখানে এই সেবা চালু রাখা সম্ভব। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষ বহুবার সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের তীব্র বিক্ষোভ এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের শুরুর দিকেও ইরানিরা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থেকে প্রায় পুরোপুরি বঞ্চিত হয়েছিল। রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই কঠিন সময়ে জীবন বাঁচাতে বা তথ্যের প্রবাহ সচল রাখতে অনেক সাধারণ ইরানি নাগরিক এই স্যাটেলাইট সেবার ওপর নির্ভর করেছিলেন।

আগামী নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত নাফতালি বেনেট মনে করেন, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর উচিত ইরানের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। তার মতে, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী একটি পচে যাওয়া এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন অদক্ষ কাঠামো, যা সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো এক সময় অভ্যন্তরীণ চাপে ভেঙে পড়তে বাধ্য। বেনেটের এই বক্তব্যের বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। অন্যদিকে, সময়ের ব্যবধানের কারণে স্পেসএক্সের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


ইরানে গোপনে স্টারলিংক পাঠিয়েছিল ইসরায়েল: বেনেট

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

ইরানের অভ্যন্তরীণ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বিদেশি সহায়তার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তার চাঞ্চল্যকর দাবি অনুযায়ী, ইরানি আন্দোলনকারীদের ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখার উদ্দেশ্যে এবং তাদের সহায়তার লক্ষ্যে ইসরায়েল গোপনে দেশটিতে হাজার হাজার স্টারলিংক ইন্টারনেট রিসিভার পাঠিয়েছিল। বেনেটের অভিযোগ, তিনি যখন দায়িত্বে ছিলেন তখন এই পরিকল্পনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগটি আর এগিয়ে নেয়নি বা কার্যকর রাখেনি।

জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নীতি বিষয়ক একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাফতালি বেনেট এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তার মেয়াদে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে হাজার হাজার রিসিভার সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল যাতে ইরানি নাগরিকরা কঠোর সেন্সরশিপের মধ্যেও ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন। বেনেটের দাবি, এই ডিভাইসগুলো পাঠানোর মূল লক্ষ্য ছিল বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সাংগঠনিক সমন্বয় তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত ইরানি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে ইসরায়েলে ক্ষমতায় থাকা অদক্ষ সরকার তার শুরু করা সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি অব্যাহত রাখেনি, যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সেখানে অনুপস্থিত ছিল।

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের এই স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা নিয়ে অতীতেও নানা বিতর্ক হয়েছে। ইরান সরকার বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে গোপনে এসব ডিভাইস অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। যদিও স্টারলিংকের ইরানে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সরকারি অনুমতি নেই, তবুও মাস্ক আগেভাগে জানিয়েছিলেন যে, প্রযুক্তিগতভাবে সেখানে এই সেবা চালু রাখা সম্ভব। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষ বহুবার সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের তীব্র বিক্ষোভ এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের শুরুর দিকেও ইরানিরা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থেকে প্রায় পুরোপুরি বঞ্চিত হয়েছিল। রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই কঠিন সময়ে জীবন বাঁচাতে বা তথ্যের প্রবাহ সচল রাখতে অনেক সাধারণ ইরানি নাগরিক এই স্যাটেলাইট সেবার ওপর নির্ভর করেছিলেন।

আগামী নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত নাফতালি বেনেট মনে করেন, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর উচিত ইরানের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। তার মতে, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী একটি পচে যাওয়া এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন অদক্ষ কাঠামো, যা সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো এক সময় অভ্যন্তরীণ চাপে ভেঙে পড়তে বাধ্য। বেনেটের এই বক্তব্যের বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। অন্যদিকে, সময়ের ব্যবধানের কারণে স্পেসএক্সের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল