ইরান বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ‘প্রস্তুত’, তবে শর্ত হচ্ছে—ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান শেখোলেসলামি আল জাজিরাকে বলেন, “আমরা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রস্তুত, কিন্তু যুদ্ধ অবশ্যই সব ফ্রন্টে শেষ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে ইসরায়েল চুক্তির শর্ত মেনে চলছে।” ইরানের এই বক্তব্য এসেছে যখন ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে কমপক্ষে ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে বহু আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পুনর্নবীকৃত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এই হামলা চালানো হয়। লেবাননের সরকার ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু এই খবর স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি কোনো পক্ষ। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায় এই ‘যুদ্ধবিরতি’ কতটুকু বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “লেবাননে হামলা চলতে থাকলে আলোচনা অর্থহীন হয়ে পড়বে। আমরা চাই না এই সুযোগ নষ্ট হোক। কিন্তু ইসরায়েলের উস্কানি আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে।”
তিনি জানান, ইরান সুইজারল্যান্ডে প্রযুক্তিগত আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত, তবে লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি ছাড়া তা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন, কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সফর অনিশ্চিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ১ নম্বর ধারায় ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান বন্ধের কথা রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল বারবার সেই ধারা লঙ্ঘন করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল এই চুক্তি ব্যর্থ করতে লেবাননকে ব্যবহার করছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র টিচিং ফেলো আহরন ব্রেগম্যান বলেন, “নেতানিয়াহু চুক্তি ভেস্তে দিতে লেবাননকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি চান না ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চুক্তি স্থায়ী হোক।”
যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতি চায়, অন্যদিকে ইসরায়েলকে মিত্র হিসেবে হারাতে চায় না। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চুক্তির অর্থনৈতিক সুফলের কথা বললেও, ইসরায়েলের হামলা থামাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না মার্কিন প্রশাসন।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই শান্তি চায়, তাহলে ইসরায়েলকে থামাতে হবে। নইলে এই চুক্তি কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।”
আগামী কয়েকদিন গুরুত্বপূর্ণ। ইরান যদি সুইজারল্যান্ডে না যায়, তাহলে পুরো আলোচনা প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েল যদি হামলা চালাতে থাকে, তাহলে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিমধ্যে উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, লেবাননে মানবিক বিপর্যয় রোধে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি জরুরি।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
ইরান বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ‘প্রস্তুত’, তবে শর্ত হচ্ছে—ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান শেখোলেসলামি আল জাজিরাকে বলেন, “আমরা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রস্তুত, কিন্তু যুদ্ধ অবশ্যই সব ফ্রন্টে শেষ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে ইসরায়েল চুক্তির শর্ত মেনে চলছে।” ইরানের এই বক্তব্য এসেছে যখন ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে কমপক্ষে ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে বহু আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পুনর্নবীকৃত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এই হামলা চালানো হয়। লেবাননের সরকার ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু এই খবর স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি কোনো পক্ষ। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায় এই ‘যুদ্ধবিরতি’ কতটুকু বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “লেবাননে হামলা চলতে থাকলে আলোচনা অর্থহীন হয়ে পড়বে। আমরা চাই না এই সুযোগ নষ্ট হোক। কিন্তু ইসরায়েলের উস্কানি আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে।”
তিনি জানান, ইরান সুইজারল্যান্ডে প্রযুক্তিগত আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত, তবে লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি ছাড়া তা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন, কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সফর অনিশ্চিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ১ নম্বর ধারায় ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান বন্ধের কথা রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল বারবার সেই ধারা লঙ্ঘন করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল এই চুক্তি ব্যর্থ করতে লেবাননকে ব্যবহার করছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র টিচিং ফেলো আহরন ব্রেগম্যান বলেন, “নেতানিয়াহু চুক্তি ভেস্তে দিতে লেবাননকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি চান না ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চুক্তি স্থায়ী হোক।”
যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতি চায়, অন্যদিকে ইসরায়েলকে মিত্র হিসেবে হারাতে চায় না। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চুক্তির অর্থনৈতিক সুফলের কথা বললেও, ইসরায়েলের হামলা থামাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না মার্কিন প্রশাসন।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই শান্তি চায়, তাহলে ইসরায়েলকে থামাতে হবে। নইলে এই চুক্তি কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।”
আগামী কয়েকদিন গুরুত্বপূর্ণ। ইরান যদি সুইজারল্যান্ডে না যায়, তাহলে পুরো আলোচনা প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েল যদি হামলা চালাতে থাকে, তাহলে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিমধ্যে উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, লেবাননে মানবিক বিপর্যয় রোধে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন