প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি অর্থহীন: ইরান
মোঃ রফিকুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান. ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান শেখোলেসলামি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রস্তুত থাকলেও তার আগে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে ইসরায়েল চুক্তির শর্ত মেনে চলছে. ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৪৭ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে. ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতির খবর আসার পরও এই হামলা চালানো হয়, যাকে লেবানন সরকার ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করেছে. রয়টার্সের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার দাবি করা হলেও, ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে তীব্র সন্দেহ তৈরি হয়েছে.ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে আলোচনা সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়বে এবং কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ছাড়া সুইজারল্যান্ডে প্রস্তাবিত কারিগরি আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণ সম্ভব নয়. ইতিমধ্যে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছালেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সফর এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত. বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ১ নম্বর ধারায় ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান বন্ধের স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েল বারবার তা লঙ্ঘন করছে. কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র টিচিং ফেলো আহরন ব্রেগম্যান মনে করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মূলত ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চুক্তি স্থায়ী হোক তা চান না, আর তাই এই চুক্তি ভেস্তে দিতেই তিনি লেবাননকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন.এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে; কারণ তারা একদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতি চায়, অন্যদিকে প্রধান মিত্র ইসরায়েলকেও হারাতে রাজি নয়. মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই চুক্তির অর্থনৈতিক সুফলের কথা বললেও ইসরায়েলের হামলা থামাতে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি. এ বিষয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই শান্তি চাইলে তাদের অবশ্যই ইসরায়েলকে থামাতে হবে, অন্যথায় এই চুক্তি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে. কূটনৈতিক মহল মনে করছে আগামী কয়েকদিন এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরান সুইজারল্যান্ডের আলোচনায় অংশ না নিলে পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়বে এবং ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে. এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ লেবাননে মানবিক বিপর্যয় রোধে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির তাগিদ দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে.
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল