সৌদির বিমান হামলার বদলা: ধাহরানে আরামকো ভবনে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে তেল কেন্দ্রে দফায় দফায় বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সৌদি আরবের জ্বালানি জায়ান্ট ‘আরামকো’র ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। [TECHTARANGA-POST:3014]বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ (SPA)-এর বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই বিধ্বংসী ও উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করেছে।সৌদি আরব শক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর প্রধান ভবনে হামলার পর ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটলেও এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে সানার আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্টেশনে আক্রমণের কঠোর সামরিক জবাব হিসেবে আরামকোর কার্যালয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদ শোধনাগার থেকে সব কর্মী ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার হুমকিপূর্ণ নির্দেশ প্রদান করেন হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। [TECHTARANGA-POST:3013]এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি দাবি করেন, হুতিরা সানা শহরের ওই জ্বালানি কেন্দ্রটিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতকরণ এবং নিক্ষেপের ঘাঁটি হিসেবে গোপনে ব্যবহার করে আসছিল। একই সময়ে রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একাধিক হুতি ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও, এর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ৪ জন আহত এবং অন্তত ১৫টি আবাসিক বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।উল্লেখ্য, রিয়াদ বিমানবন্দরে গত শনিবার ও রোববারের প্রাণঘাতী হুতি হামলায় মোট ১৪ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো ওই অঞ্চলে ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে। বিদ্যমান সংকটে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে হুশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, হুতিদের এই চরম উসকানিমূলক পদক্ষেপের মারাত্মক পরিণাম ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি পর্যালোচনা সূত্রে জানা গেছে, উদ্ভূত সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়্যিপ এরদোয়ানকে মধ্যস্থতার আহ্বান জানাতে পারেন। [TECHTARANGA-POST:3002]ইয়েমেনজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি বর্তমানে তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ নিয়েছে। সরকারি বাহিনী ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে তায়েজ, ধুবাব ও আল-মাসরাখ এলাকায় হুতি ঘাটিতে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে তায়েজে হুতিদের আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ গোলাবর্ষণে ৫ বছর বয়সী এক শিশুসহ ৫ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই লাগামহীন সংঘাত দ্রুত নিরসনে চরম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরি পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছে রেড ক্রস ও জাতিসংঘ।