দিকপাল

হরমুজে ইরানি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় নিহত ৪


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ | ০১:০১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজে ইরানি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় নিহত ৪

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার এই প্রণালির লারাক দ্বীপের দক্ষিণ দিকে অবস্থানরত একটি ইরানি নৌযানের ওপর যৌথভাবে শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান বাহিনী। আকস্মিক ও ভয়াবহ এই যৌথ হামলায় অন্তত চারজন ক্রু বা আরোহী নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, লারাক দ্বীপের অদূরে সাগরের বুকে এই ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী বিমান হামলার ঘটনা ঘটলেও এর কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের সার্বিক পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ থমথমে ও শান্ত রয়েছে। সেখানে জনজীবন ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের বরাতে একজন উচ্চপদস্থ ও শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এই হামলার কারণ ও পটভূমি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দাবি করেন, লারাক দ্বীপের আকাশে টহলরত মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে হঠাৎ করেই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। নিজেদের যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সেই আক্রমণের জেরে মার্কিন বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা আঘাত হানে। তারা বন্দর আব্বাসের ওই নির্দিষ্ট ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে এই বিমান হামলাটি পরিচালনা করে এবং এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে যে, এই যৌথ সামরিক পদক্ষেপটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত আগ্রাসন বা নতুন কোনো যুদ্ধের সূচনা নয়, বরং এটি ছিল সম্পূর্ণভাবে একটি তাৎক্ষণিক ও আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আকস্মিক এই সংঘাতের অর্থ এই নয় যে ওই অঞ্চলে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে বা ভেঙে পড়েছে। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনো শান্তি বজায় রাখার পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ইরান যদি পুনরায় কোনো উসকানিমূলক আচরণ করে, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


হরমুজে ইরানি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় নিহত ৪

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার এই প্রণালির লারাক দ্বীপের দক্ষিণ দিকে অবস্থানরত একটি ইরানি নৌযানের ওপর যৌথভাবে শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান বাহিনী। আকস্মিক ও ভয়াবহ এই যৌথ হামলায় অন্তত চারজন ক্রু বা আরোহী নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, লারাক দ্বীপের অদূরে সাগরের বুকে এই ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী বিমান হামলার ঘটনা ঘটলেও এর কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের সার্বিক পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ থমথমে ও শান্ত রয়েছে। সেখানে জনজীবন ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের বরাতে একজন উচ্চপদস্থ ও শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এই হামলার কারণ ও পটভূমি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দাবি করেন, লারাক দ্বীপের আকাশে টহলরত মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে হঠাৎ করেই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। নিজেদের যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সেই আক্রমণের জেরে মার্কিন বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা আঘাত হানে। তারা বন্দর আব্বাসের ওই নির্দিষ্ট ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে এই বিমান হামলাটি পরিচালনা করে এবং এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে যে, এই যৌথ সামরিক পদক্ষেপটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত আগ্রাসন বা নতুন কোনো যুদ্ধের সূচনা নয়, বরং এটি ছিল সম্পূর্ণভাবে একটি তাৎক্ষণিক ও আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আকস্মিক এই সংঘাতের অর্থ এই নয় যে ওই অঞ্চলে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে বা ভেঙে পড়েছে। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনো শান্তি বজায় রাখার পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ইরান যদি পুনরায় কোনো উসকানিমূলক আচরণ করে, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল