দিকপাল

চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি, তবে আলোচনা এগোচ্ছে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ | ০৫:২৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি, তবে আলোচনা এগোচ্ছে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে একটি নতুন চুক্তির খসড়া তৈরি হলেও তা এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত বা অনুমোদিত কোনো চুক্তি নয়, বরং এটি বর্তমানে প্রাথমিক আলোচনা ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই চুক্তির মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বেশ স্পষ্ট। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে একটি বাস্তবমুখী ও কার্যকর আলোচনা শুরু করার বিষয়ে একটি বেশ জোরালো এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বর্তমানে আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


সম্প্রতি নিজের ভারত সফর চলাকালীন সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে তার প্রধান লক্ষ্য দুটি। প্রথমত, হরমুজ প্রণালি যাতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকে সেই সক্ষমতা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত, তাৎপর্যপূর্ণ এবং একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনায় প্রবেশ করা। এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন বেশ আশাবাদী।


মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করে বলেন যে, তারা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এই আলোচনা প্রক্রিয়াটি সফল করতে পারবেন। তিনি আরও দাবি করেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোসহ বিশ্বজুড়ে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পক্ষে একটি ব্যাপক ও শক্তিশালী সমর্থন তৈরি হয়েছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে যে সমস্ত দেশের সঙ্গে এই প্রস্তাব বা খসড়া চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তারা সবাই এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছে। সংশ্লিষ্ট সব রাষ্ট্রই একমত হয়েছে যে, এই উদ্যোগটি কেবল অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত ও যৌক্তিকই নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাসীর কল্যাণের কথা চিন্তা করলে এই মুহূর্তে এটিই সবচেয়ে সঠিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।


তবে আলোচনার এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে একটি বিষয়ে বেশ জোর দিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে তড়িঘড়ি করে বা তাড়াহুড়ো করে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর পক্ষে নন। আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো দুর্বল বা ত্রুটিপূর্ণ চুক্তিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো অবস্থাতেই সই করবেন না। তাই এই আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতি কী দাঁড়ায় তা দেখার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। ওয়াশিংটন প্রশাসন অন্য কোনো কঠোর বা বিকল্প পথ খতিয়ে দেখার আগে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে সফল করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সুযোগ ও সময় দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।


উৎস: আল-জাজিরা

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি, তবে আলোচনা এগোচ্ছে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে একটি নতুন চুক্তির খসড়া তৈরি হলেও তা এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত বা অনুমোদিত কোনো চুক্তি নয়, বরং এটি বর্তমানে প্রাথমিক আলোচনা ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই চুক্তির মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বেশ স্পষ্ট। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে একটি বাস্তবমুখী ও কার্যকর আলোচনা শুরু করার বিষয়ে একটি বেশ জোরালো এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বর্তমানে আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


সম্প্রতি নিজের ভারত সফর চলাকালীন সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে তার প্রধান লক্ষ্য দুটি। প্রথমত, হরমুজ প্রণালি যাতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকে সেই সক্ষমতা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত, তাৎপর্যপূর্ণ এবং একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনায় প্রবেশ করা। এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন বেশ আশাবাদী।


মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করে বলেন যে, তারা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এই আলোচনা প্রক্রিয়াটি সফল করতে পারবেন। তিনি আরও দাবি করেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোসহ বিশ্বজুড়ে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পক্ষে একটি ব্যাপক ও শক্তিশালী সমর্থন তৈরি হয়েছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে যে সমস্ত দেশের সঙ্গে এই প্রস্তাব বা খসড়া চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তারা সবাই এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছে। সংশ্লিষ্ট সব রাষ্ট্রই একমত হয়েছে যে, এই উদ্যোগটি কেবল অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত ও যৌক্তিকই নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাসীর কল্যাণের কথা চিন্তা করলে এই মুহূর্তে এটিই সবচেয়ে সঠিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।


তবে আলোচনার এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে একটি বিষয়ে বেশ জোর দিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে তড়িঘড়ি করে বা তাড়াহুড়ো করে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর পক্ষে নন। আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো দুর্বল বা ত্রুটিপূর্ণ চুক্তিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো অবস্থাতেই সই করবেন না। তাই এই আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতি কী দাঁড়ায় তা দেখার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। ওয়াশিংটন প্রশাসন অন্য কোনো কঠোর বা বিকল্প পথ খতিয়ে দেখার আগে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে সফল করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সুযোগ ও সময় দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।


উৎস: আল-জাজিরা


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল