দিকপাল

হামলার পরও শান্তি চুক্তি টিকে থাকবে: সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ | ১১:০৭ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হামলার পরও শান্তি চুক্তি টিকে থাকবে: সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা

ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও চলমান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও চলমান শান্তি চুক্তিটি পুরোপুরি ধূলিসাৎ বা ভেঙে পড়বে না বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেমেন্টস। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নিজের এমন বিশ্লেষণাত্মক মতামত তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন এই সাবেক কর্মকর্তা চলমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, ওয়াশিংটন সম্ভবত অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে এই অঞ্চলে কাজ করছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালির আশেপাশে ইরানের সামরিক গতিবিধি, যুদ্ধকৌশল এবং তাদের সামুদ্রিক সম্পদের বর্তমান প্রকৃত অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছে তারা। একই সাথে মার্কিন বাহিনী এই অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সুনির্দিষ্ট কিছু গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং পারস্য উপসাগরে মাইন বা সমুদ্র বোমা স্থাপনের চেষ্টায় লিপ্ত থাকা ইরানি নৌযানগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে অ্যাডাম ক্লেমেন্টস বলেন, বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রের এসব প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই সামরিক পদক্ষেপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের অভিযানটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত।

সমুদ্রপথে ইরানের মাইন স্থাপনের চেষ্টা এবং এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম যে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন এই সাবেক কর্মকর্তা। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আন্তর্জাতিক এই ব্যস্ত নৌপথে ইরানি বাহিনীর এ ধরনের যেকোনো উসকানিমূলক বা বৈরী পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের জন্যই একটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী পাল্টা প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে। পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে এই ধরণের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তা ইরানি নীতিনির্ধারক ও সামরিক বাহিনীর জন্য কোনো অবস্থাতেই আশ্চর্যজনক বা অপ্রত্যাশিত হওয়া উচিত নয়। কারণ বর্তমান বৈশ্বিক সমীকরণে ওয়াশিংটন তাদের কৌশলগত অবস্থান এবং এই অঞ্চলের নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


হামলার পরও শান্তি চুক্তি টিকে থাকবে: সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও চলমান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও চলমান শান্তি চুক্তিটি পুরোপুরি ধূলিসাৎ বা ভেঙে পড়বে না বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেমেন্টস। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নিজের এমন বিশ্লেষণাত্মক মতামত তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন এই সাবেক কর্মকর্তা চলমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, ওয়াশিংটন সম্ভবত অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে এই অঞ্চলে কাজ করছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালির আশেপাশে ইরানের সামরিক গতিবিধি, যুদ্ধকৌশল এবং তাদের সামুদ্রিক সম্পদের বর্তমান প্রকৃত অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছে তারা। একই সাথে মার্কিন বাহিনী এই অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সুনির্দিষ্ট কিছু গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং পারস্য উপসাগরে মাইন বা সমুদ্র বোমা স্থাপনের চেষ্টায় লিপ্ত থাকা ইরানি নৌযানগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে অ্যাডাম ক্লেমেন্টস বলেন, বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রের এসব প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই সামরিক পদক্ষেপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের অভিযানটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত।

সমুদ্রপথে ইরানের মাইন স্থাপনের চেষ্টা এবং এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম যে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন এই সাবেক কর্মকর্তা। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আন্তর্জাতিক এই ব্যস্ত নৌপথে ইরানি বাহিনীর এ ধরনের যেকোনো উসকানিমূলক বা বৈরী পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের জন্যই একটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী পাল্টা প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে। পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে এই ধরণের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তা ইরানি নীতিনির্ধারক ও সামরিক বাহিনীর জন্য কোনো অবস্থাতেই আশ্চর্যজনক বা অপ্রত্যাশিত হওয়া উচিত নয়। কারণ বর্তমান বৈশ্বিক সমীকরণে ওয়াশিংটন তাদের কৌশলগত অবস্থান এবং এই অঞ্চলের নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল