পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বাঘমারা বাজারে গভীর রাতে এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বাজারের অর্ধশতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সর্বস্ব হারানো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে যখন বাজারের মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলার অন্তর্গত জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারের একটি বন্ধ দোকানের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। গভীর রাতে চারপাশ জনশূন্য থাকায় এবং বাজারে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংলগ্ন দোকান ও ঘরবাড়িগুলোকে গ্রাস করে নেয়। আগুনের লেলিহান শিখা আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিজস্ব উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। একই সাথে খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকে। খবর পাওয়া মাত্রই বান্দরবান সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি বিশেষ ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের এবং স্থানীয় জনসাধারণকে চরম বেগ পেতে হয়। সবার সম্মিলিত ও দীর্ঘক্ষণের আপ্রাণ চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে বাজারের অধিকাংশ দোকান ও বসতঘর সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
এই আকস্মিক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাঘমারা বাজারের ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক দোকানপাট এবং বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা চাল, ডাল, কাপড়সহ বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল এবং নগদ টাকা পুড়ে যাওয়ায় বহু ব্যবসায়ী রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজেদের জীবিকার একমাত্র সম্বল হারানোর বেদনায় অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে, যা কাটিয়ে উঠতে তাদের দীর্ঘ সময় লাগবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই তাদের কর্মীরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের টানা প্রায় তিন ঘণ্টার অক্লান্ত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তিনি আরও জানান যে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্টসার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষেই বিস্তারিত জানা যাবে। উল্লেখ্য, এই বাঘমারা বাজারটি এর আগেও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছিল, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের স্মৃতিতে নতুন করে এক গভীর ক্ষত ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বাঘমারা বাজারে গভীর রাতে এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বাজারের অর্ধশতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সর্বস্ব হারানো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে যখন বাজারের মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলার অন্তর্গত জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারের একটি বন্ধ দোকানের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। গভীর রাতে চারপাশ জনশূন্য থাকায় এবং বাজারে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংলগ্ন দোকান ও ঘরবাড়িগুলোকে গ্রাস করে নেয়। আগুনের লেলিহান শিখা আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিজস্ব উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। একই সাথে খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকে। খবর পাওয়া মাত্রই বান্দরবান সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি বিশেষ ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের এবং স্থানীয় জনসাধারণকে চরম বেগ পেতে হয়। সবার সম্মিলিত ও দীর্ঘক্ষণের আপ্রাণ চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে বাজারের অধিকাংশ দোকান ও বসতঘর সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
এই আকস্মিক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাঘমারা বাজারের ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক দোকানপাট এবং বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা চাল, ডাল, কাপড়সহ বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল এবং নগদ টাকা পুড়ে যাওয়ায় বহু ব্যবসায়ী রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজেদের জীবিকার একমাত্র সম্বল হারানোর বেদনায় অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে, যা কাটিয়ে উঠতে তাদের দীর্ঘ সময় লাগবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই তাদের কর্মীরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের টানা প্রায় তিন ঘণ্টার অক্লান্ত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তিনি আরও জানান যে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্টসার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষেই বিস্তারিত জানা যাবে। উল্লেখ্য, এই বাঘমারা বাজারটি এর আগেও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছিল, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের স্মৃতিতে নতুন করে এক গভীর ক্ষত ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন