দিকপাল

‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি: আজ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু, সুবিধা পাবেন না ৮ শ্রেণির মানুষ


আল জাবিরী
আল জাবিরী সম্পাদক
প্রকাশ : সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ০২:৩০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি: আজ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু, সুবিধা পাবেন না ৮ শ্রেণির মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের দরিদ্র, অতিদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে সমন্বিত ও সুশৃঙ্খল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করেছে সরকার। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে মাঠপর্যায়ে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। 

সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে পরিবারের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরবর্তীতে প্রাপ্ত এসব তথ্য নিখুঁত যাচাই-বাছাই করে সমন্বিত ডাটাবেজের মাধ্যমে প্রকৃত অসচ্ছল ও সহায়তাপ্রত্যাশী পরিবারগুলো চিহ্নিত করা হবে।

যারা ফ্যামিলি কার্ডে অগ্রাধিকার পাবেন:

নতুন নীতিমালায় ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও পরিবারকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—

  • গ্রামীণ এলাকার চরম হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ এবং উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার।

  • নারীপ্রধান, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা বা অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার।

  • ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত কন্যাসন্তান রয়েছে এমন পরিবার।

  • বিদেশ ফেরত বা প্রত্যাগত অভিবাসী, বিশেষ করে নারী অভিবাসীদের পরিবার।

  • পরিবারে শিশু, শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবার।

  • কঁচা ঘরবাড়ি (দেয়াল মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশে তৈরি) এবং ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবার।

উল্লেখ্য, এই নীতিমালায় ভূমিহীন বলতে যাদের নিজস্ব কোনো বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই কিন্তু পুরোটাই কৃষিনির্ভর, কিংবা যাদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা রয়েছে কিন্তু চাষযোগ্য জমি নেই—তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড পেতে হলে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকা এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সুপারিশ থাকা আবশ্যক।

যে ৮ ধরনের ব্যক্তি বা পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না (নেগেটিভ লিস্ট):

নীতিমালায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঠিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম রোধে ৮ ধরণের 'নেগেটিভ লিস্ট' বা অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে:

১. উচ্চ পিএমটি স্কোর: সরকার নির্ধারিত 'প্রক্সি মিনস টেস্ট' (PMT) স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া পরিবার।

২. বেতনপ্রাপ্ত নারীপ্রধান: পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বা এমপিওভুক্ত (MPO) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত বেতন-ভাতাভোগী হলে।

৩. সরকারি পেনশনভোগী: নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসর সুবিধা পেলে (তবে প্রতিবন্ধী সন্তানের বিশেষ পেনশনভোগীরা ছাড় পাবেন)।

৪. ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ বা সঞ্চয়: পরিবারের কোনো সদস্যের সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক ডিপোজিট (FDR) বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয় থাকলে।

৫. নিবন্ধিত মোটরযান: পরিবারের কারও নামে বিআরটিএ (BRTA) নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার গাড়ি (যেমন: কার, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, সিএনজি, ট্রাক ইত্যাদি) থাকলে।

৬. বড় ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান: বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নিবন্ধিত বড় ব্যবসা বা হালনাগাদ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান থাকলে।

৭. করদাতা: পরিবারের যেকোনো সদস্য করযোগ্য আয়ের বিপরীতে নিয়মিত আয়কর প্রদানকারী হলে।

৮. নির্ধারিত সীমার বেশি জমি: বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর (৫০ শতক) বা তার বেশি হলে এবং ৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি থাকলে।

এছাড়াও নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, একই পরিবারের একাধিক সদস্য এই কার্ডের জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না। সরকার পরিচালিত 'সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম'-এ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির দ্বৈত সুবিধা পাওয়া গেলে কিংবা বিদ্যমান সুবিধা সমন্বয় করা না গেলে সেই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত হবে না। 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি: আজ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু, সুবিধা পাবেন না ৮ শ্রেণির মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের দরিদ্র, অতিদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে সমন্বিত ও সুশৃঙ্খল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করেছে সরকার। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে মাঠপর্যায়ে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। 

সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে পরিবারের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরবর্তীতে প্রাপ্ত এসব তথ্য নিখুঁত যাচাই-বাছাই করে সমন্বিত ডাটাবেজের মাধ্যমে প্রকৃত অসচ্ছল ও সহায়তাপ্রত্যাশী পরিবারগুলো চিহ্নিত করা হবে।

যারা ফ্যামিলি কার্ডে অগ্রাধিকার পাবেন:

নতুন নীতিমালায় ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও পরিবারকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—

  • গ্রামীণ এলাকার চরম হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ এবং উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার।

  • নারীপ্রধান, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা বা অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার।

  • ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত কন্যাসন্তান রয়েছে এমন পরিবার।

  • বিদেশ ফেরত বা প্রত্যাগত অভিবাসী, বিশেষ করে নারী অভিবাসীদের পরিবার।

  • পরিবারে শিশু, শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবার।

  • কঁচা ঘরবাড়ি (দেয়াল মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশে তৈরি) এবং ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবার।

উল্লেখ্য, এই নীতিমালায় ভূমিহীন বলতে যাদের নিজস্ব কোনো বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই কিন্তু পুরোটাই কৃষিনির্ভর, কিংবা যাদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা রয়েছে কিন্তু চাষযোগ্য জমি নেই—তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড পেতে হলে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকা এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সুপারিশ থাকা আবশ্যক।

যে ৮ ধরনের ব্যক্তি বা পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না (নেগেটিভ লিস্ট):

নীতিমালায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঠিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম রোধে ৮ ধরণের 'নেগেটিভ লিস্ট' বা অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে:

১. উচ্চ পিএমটি স্কোর: সরকার নির্ধারিত 'প্রক্সি মিনস টেস্ট' (PMT) স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া পরিবার।

২. বেতনপ্রাপ্ত নারীপ্রধান: পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বা এমপিওভুক্ত (MPO) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত বেতন-ভাতাভোগী হলে।

৩. সরকারি পেনশনভোগী: নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসর সুবিধা পেলে (তবে প্রতিবন্ধী সন্তানের বিশেষ পেনশনভোগীরা ছাড় পাবেন)।

৪. ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ বা সঞ্চয়: পরিবারের কোনো সদস্যের সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক ডিপোজিট (FDR) বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয় থাকলে।

৫. নিবন্ধিত মোটরযান: পরিবারের কারও নামে বিআরটিএ (BRTA) নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার গাড়ি (যেমন: কার, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, সিএনজি, ট্রাক ইত্যাদি) থাকলে।

৬. বড় ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান: বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নিবন্ধিত বড় ব্যবসা বা হালনাগাদ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান থাকলে।

৭. করদাতা: পরিবারের যেকোনো সদস্য করযোগ্য আয়ের বিপরীতে নিয়মিত আয়কর প্রদানকারী হলে।

৮. নির্ধারিত সীমার বেশি জমি: বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর (৫০ শতক) বা তার বেশি হলে এবং ৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি থাকলে।

এছাড়াও নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, একই পরিবারের একাধিক সদস্য এই কার্ডের জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না। সরকার পরিচালিত 'সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম'-এ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির দ্বৈত সুবিধা পাওয়া গেলে কিংবা বিদ্যমান সুবিধা সমন্বয় করা না গেলে সেই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত হবে না। 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল