দিকপাল

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু, বিপাকে দুই লাখ জেলে


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু, বিপাকে দুই লাখ জেলে

মা ইলিশ রক্ষায় ভোলা অঞ্চলের নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। 

এই ২২ দিন ভোলার মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার ও তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রজনন মৌসুমের এই নিষেধাজ্ঞায় ভোলার ২ লক্ষাধিক জেলে গভীর অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন মাছঘাটে সচেতনতামূলক মাইকিং, ব্যানার টাঙানো এবং সভা-সেমিনার করা হয়েছে। তবে পুরো ভরা মৌসুমে নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় এমনিতেই দেনার চাপে জর্জরিত জেলেরা। সংসারের দৈনন্দিন খরচের পাশাপাশি আড়তদারের দাদন ও এনজিওর ঋণের কিস্তি শোধ করা নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তাঁরা। 

নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকার এক লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য ২৫ কেজি করে মোট তিন লাখ ৫৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু জেলেদের অভিযোগ, সব জেলে সরকারি চাল পান না; আর যাঁরা পান, তাঁদেরও এই বরাদ্দে এক সপ্তাহের বেশি সংসার চলে না। ফলে অভিযানের দিনগুলোতে জীবনধারণের জন্য নতুন করে ঋণের বোঝা বাড়াতে হয় তাঁদের।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জানান, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম সফল করতে নদীপথে পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে উপজেলাগুলোতে বরাদ্দকৃত চাল পাঠানো হয়েছে এবং অভিযানের প্রথম দিন থেকেই চাল বিতরণ শুরু হবে। 

বিষয় : মা ইলিশ রক্ষায় ভোলায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু, বিপাকে দুই লাখ জেলে

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু, বিপাকে দুই লাখ জেলে

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মা ইলিশ রক্ষায় ভোলা অঞ্চলের নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। 

এই ২২ দিন ভোলার মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার ও তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রজনন মৌসুমের এই নিষেধাজ্ঞায় ভোলার ২ লক্ষাধিক জেলে গভীর অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন মাছঘাটে সচেতনতামূলক মাইকিং, ব্যানার টাঙানো এবং সভা-সেমিনার করা হয়েছে। তবে পুরো ভরা মৌসুমে নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় এমনিতেই দেনার চাপে জর্জরিত জেলেরা। সংসারের দৈনন্দিন খরচের পাশাপাশি আড়তদারের দাদন ও এনজিওর ঋণের কিস্তি শোধ করা নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তাঁরা। 

নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকার এক লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য ২৫ কেজি করে মোট তিন লাখ ৫৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু জেলেদের অভিযোগ, সব জেলে সরকারি চাল পান না; আর যাঁরা পান, তাঁদেরও এই বরাদ্দে এক সপ্তাহের বেশি সংসার চলে না। ফলে অভিযানের দিনগুলোতে জীবনধারণের জন্য নতুন করে ঋণের বোঝা বাড়াতে হয় তাঁদের।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জানান, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম সফল করতে নদীপথে পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে উপজেলাগুলোতে বরাদ্দকৃত চাল পাঠানো হয়েছে এবং অভিযানের প্রথম দিন থেকেই চাল বিতরণ শুরু হবে। 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল