দিকপাল

একযোগে ৩০ ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা বন্ধ: কেন্দ্রীয় ব্যাংককে না জানানোয় গভর্নরের ক্ষোভ


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

একযোগে ৩০ ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা বন্ধ: কেন্দ্রীয় ব্যাংককে না জানানোয় গভর্নরের ক্ষোভ

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে সিস্টেম উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করায় দেশের ৩০টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম, পিওএস ও কিউআরসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগাম না জানিয়ে একযোগে এতগুলো ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।  

ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘কিউ-ক্যাশ’ (Q-Cash) নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব ব্যাংকের বেশ কিছু কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেন সেবা বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে আইটিসি তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের ‘কিউ-ক্যাশ’ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। তবে এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে আগে বাংলাদেশ ব্যাংককে কিছু অবহিত করা হয়নি। ব্যাংকগুলোর এককভাবে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও গর্হিত কাজ হিসেবে দেখছেন এবং এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। 

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট ৩০টি ব্যাংকের সব ক্রেডিট, ডেবিট, প্রিপেইড কার্ড, এটিএম, আইবিএফটি এবং কিউআর লেনদেন পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত নয়—এমন অন্যান্য ব্যাংকে ফান্ড ট্র্যান্সফার স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি বাংলা কিউআর ও বিভিন্ন মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ফান্ড ট্রান্সফার চালু থাকবে।

প্রযুক্তিগত সেবা সাময়িক বন্ধ থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে— সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, কমার্স ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক এবং উরি ব্যাংক বাংলাদেশ।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে সাইবার নিরাপত্তা ও সিস্টেমের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে একসঙ্গে দেশের প্রায় অর্ধেক ব্যাংকের সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে সেবাগুলো পুনরায় স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকগুলো।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


একযোগে ৩০ ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা বন্ধ: কেন্দ্রীয় ব্যাংককে না জানানোয় গভর্নরের ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে সিস্টেম উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করায় দেশের ৩০টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম, পিওএস ও কিউআরসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগাম না জানিয়ে একযোগে এতগুলো ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।  

ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘কিউ-ক্যাশ’ (Q-Cash) নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব ব্যাংকের বেশ কিছু কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেন সেবা বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে আইটিসি তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের ‘কিউ-ক্যাশ’ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। তবে এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে আগে বাংলাদেশ ব্যাংককে কিছু অবহিত করা হয়নি। ব্যাংকগুলোর এককভাবে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও গর্হিত কাজ হিসেবে দেখছেন এবং এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। 

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট ৩০টি ব্যাংকের সব ক্রেডিট, ডেবিট, প্রিপেইড কার্ড, এটিএম, আইবিএফটি এবং কিউআর লেনদেন পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত নয়—এমন অন্যান্য ব্যাংকে ফান্ড ট্র্যান্সফার স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি বাংলা কিউআর ও বিভিন্ন মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ফান্ড ট্রান্সফার চালু থাকবে।

প্রযুক্তিগত সেবা সাময়িক বন্ধ থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে— সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, কমার্স ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক এবং উরি ব্যাংক বাংলাদেশ।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে সাইবার নিরাপত্তা ও সিস্টেমের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে একসঙ্গে দেশের প্রায় অর্ধেক ব্যাংকের সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে সেবাগুলো পুনরায় স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকগুলো।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল