বিশ্ব হার্ট দিবসের পরপরই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও অভাবনীয় সাফল্যের বার্তা দিল জাপান। ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি হৃৎপিণ্ডের পেশির স্টেম সেল ব্যবহার করে বিশ্বে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক পরিসরে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন দেশটির চিকিৎসকেরা। বিশেষ ‘ইনডিউসড প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল’ বা আইপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা এই জটিল চিকিৎসা পদ্ধতি হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জীবনযাত্রার মানে এক বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ওসাকা কেইসাতসু হাসপাতালে ৫০-এর কোঠায় থাকা এক নারীর হৃদযন্ত্রে আইপিএস সেল থেকে সংগৃহীত বিশেষ হৃদপেশির কোষের স্তরের এই প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই জটিল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক দলটি রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। মূলত যেসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত সব উপায় বন্ধ হয়ে গেছে, তাঁদের নতুন জীবন দান করতেই এই থেরাপি প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে জাপান সরকার এ সংক্রান্ত রিজেনারেটিভ থেরাপির শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন দেয়।
রিজেনারেটিভ থেরাপিতে ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যু বা অঙ্গ পুনর্গঠন ও সারিয়ে তুলতে বিশেষ টিস্যু প্রকৌশল ও মানবকোষ ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় দিক হলো, পরিণত কোষকে বিশেষ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক বা একদম আদি অবস্থায় ফিরিয়ে এনে আইপিএস সেল তৈরি করা হয়। ফলে কোনো ভ্রূণের প্রয়োজন ছাড়াই এবং নৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য শরীরের যেকোনো প্রয়োজনীয় টিস্যু কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়।
ওসাকা কেইসাতসু হাসপাতালের প্রধান শল্যচিকিৎসক ইয়োশিকি সাওয়া এবং ২০১২ সালে আইপিএস সেল গবেষণায় নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী শিনিয়া ইয়ামানাকার যৌথ দীর্ঘ গবেষণার ফসল এই আবিষ্কার। চূড়ান্ত বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার আগে ইস্কেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত ৮ জন রোগীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে এই থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেখানে রোগীদের শারীরিক লক্ষণগুলোর অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে এবং অর্ধেকেরও বেশি রোগীর হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
গবেষক দলটি ২০ ৩৩ সালের মধ্যে আরও অন্তত ৭৫ জন রোগীর ওপর এই অস্ত্রোপচার পরিচালনার বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী সাত বছরে এর কার্যকারিতা ও সুফল চূড়ান্তভাবে মূল্যায়নের পর চিকিৎসাটি স্থায়ী পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পাবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘আসাহি শিমবুন’। পারকিনসনের মতো জটিল ব্যাধির পর এবার হৃদরোগের চিকিৎসায় কৃত্রিম স্টেম সেলের এই বিস্ময়কর সাফল্য বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষের জন্য আশার নতুন দিগন্ত খুলে দিল।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্ব হার্ট দিবসের পরপরই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও অভাবনীয় সাফল্যের বার্তা দিল জাপান। ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি হৃৎপিণ্ডের পেশির স্টেম সেল ব্যবহার করে বিশ্বে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক পরিসরে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন দেশটির চিকিৎসকেরা। বিশেষ ‘ইনডিউসড প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল’ বা আইপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা এই জটিল চিকিৎসা পদ্ধতি হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জীবনযাত্রার মানে এক বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ওসাকা কেইসাতসু হাসপাতালে ৫০-এর কোঠায় থাকা এক নারীর হৃদযন্ত্রে আইপিএস সেল থেকে সংগৃহীত বিশেষ হৃদপেশির কোষের স্তরের এই প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই জটিল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক দলটি রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। মূলত যেসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত সব উপায় বন্ধ হয়ে গেছে, তাঁদের নতুন জীবন দান করতেই এই থেরাপি প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে জাপান সরকার এ সংক্রান্ত রিজেনারেটিভ থেরাপির শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন দেয়।
রিজেনারেটিভ থেরাপিতে ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যু বা অঙ্গ পুনর্গঠন ও সারিয়ে তুলতে বিশেষ টিস্যু প্রকৌশল ও মানবকোষ ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় দিক হলো, পরিণত কোষকে বিশেষ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক বা একদম আদি অবস্থায় ফিরিয়ে এনে আইপিএস সেল তৈরি করা হয়। ফলে কোনো ভ্রূণের প্রয়োজন ছাড়াই এবং নৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য শরীরের যেকোনো প্রয়োজনীয় টিস্যু কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়।
ওসাকা কেইসাতসু হাসপাতালের প্রধান শল্যচিকিৎসক ইয়োশিকি সাওয়া এবং ২০১২ সালে আইপিএস সেল গবেষণায় নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী শিনিয়া ইয়ামানাকার যৌথ দীর্ঘ গবেষণার ফসল এই আবিষ্কার। চূড়ান্ত বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার আগে ইস্কেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত ৮ জন রোগীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে এই থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেখানে রোগীদের শারীরিক লক্ষণগুলোর অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে এবং অর্ধেকেরও বেশি রোগীর হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
গবেষক দলটি ২০ ৩৩ সালের মধ্যে আরও অন্তত ৭৫ জন রোগীর ওপর এই অস্ত্রোপচার পরিচালনার বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী সাত বছরে এর কার্যকারিতা ও সুফল চূড়ান্তভাবে মূল্যায়নের পর চিকিৎসাটি স্থায়ী পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পাবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘আসাহি শিমবুন’। পারকিনসনের মতো জটিল ব্যাধির পর এবার হৃদরোগের চিকিৎসায় কৃত্রিম স্টেম সেলের এই বিস্ময়কর সাফল্য বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষের জন্য আশার নতুন দিগন্ত খুলে দিল।

আপনার মতামত লিখুন