দিকপাল

ঢাকায় ৮ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নতুন মাস্টারপ্ল্যান


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৫৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকায় ৮ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নতুন মাস্টারপ্ল্যান

রাজধানী ঢাকায় অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল শৃঙ্খলায় আনতে সুদূরপ্রসারী ও প্রযুক্তিভিত্তিক একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করেছে সরকার। নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে মোট আটটি জোনে ভাগ করে রিকশা নিবন্ধন, জিপিএস নজরদারি এবং ব্যাটারি সোয়াপিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। নির্ধারিত ফিডার সড়কে মোট ৮ লাখ বুয়েট-অনুমোদিত নতুন রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তবে এগুলো কোনোভাবেই প্রধান সড়কে (মেইন রোড) উঠতে পারবে না।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘ই-মোবিলিটি ও ব্যাটারি সোয়াপিং সিস্টেম রোল-আউট পরিকল্পনা (ঢাকা শহর)’ শীর্ষক কৌশলগত নথিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় নিবন্ধন, জোনভিত্তিক রুট, চালকের লাইসেন্স ও চার্জিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নথির তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে অবৈধভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ এবং ঢাকার বাইরে রয়েছে আরও ৪০ লাখ। অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে সৃষ্ট যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২,২৫০ কিলোমিটার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১,১৭০ কিলোমিটার ফিডার সড়কে ৪ লাখ করে মোট ৮ লাখ রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক জোনের রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ ঠেকাতে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ও আলাদা রঙের সংকেত ব্যবহার করা হবে।

নিবন্ধন ও চলাচলের জন্য বুয়েট অনুমোদিত নতুন দুই সিটের রিকশা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। পুরনো রিকশা বদলে নতুন রিকশা নেওয়ার এক্সচেঞ্জ সুবিধাও থাকবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একজন সর্বোচ্চ ৫টি রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন, যার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হবে ১০ বছর। প্রতি রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী চালকেরা ৫০০ টাকা ফি দিয়ে ৫ বছরের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন।

ব্যাটারি চার্জে অনিয়ম ও বিদ্যুৎ অপচয় রোধে প্রচলিত পদ্ধতির বদলে দ্রুততম সময়ে ব্যাটারি পরিবর্তনের ‘ব্যাটারি সোয়াপিং’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে মাত্র দেড় মিনিটে খালি ব্যাটারি বদলে চার্জ করা ব্যাটারি বসানো সম্ভব হবে। ৮ লাখ রিকশার জন্য ১ হাজার থেকে ৬ হাজার পর্যন্ত ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন প্রয়োজন হতে পারে, যেখানে গ্রিন ফান্ড, সরকারি প্রণোদনা ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের যৌথ অর্থায়নে প্রতিটি স্টেশন গড়ে তোলার প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকায় ৮ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নতুন মাস্টারপ্ল্যান

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকায় অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল শৃঙ্খলায় আনতে সুদূরপ্রসারী ও প্রযুক্তিভিত্তিক একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করেছে সরকার। নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে মোট আটটি জোনে ভাগ করে রিকশা নিবন্ধন, জিপিএস নজরদারি এবং ব্যাটারি সোয়াপিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। নির্ধারিত ফিডার সড়কে মোট ৮ লাখ বুয়েট-অনুমোদিত নতুন রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তবে এগুলো কোনোভাবেই প্রধান সড়কে (মেইন রোড) উঠতে পারবে না।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘ই-মোবিলিটি ও ব্যাটারি সোয়াপিং সিস্টেম রোল-আউট পরিকল্পনা (ঢাকা শহর)’ শীর্ষক কৌশলগত নথিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় নিবন্ধন, জোনভিত্তিক রুট, চালকের লাইসেন্স ও চার্জিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নথির তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে অবৈধভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ এবং ঢাকার বাইরে রয়েছে আরও ৪০ লাখ। অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে সৃষ্ট যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২,২৫০ কিলোমিটার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১,১৭০ কিলোমিটার ফিডার সড়কে ৪ লাখ করে মোট ৮ লাখ রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক জোনের রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ ঠেকাতে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ও আলাদা রঙের সংকেত ব্যবহার করা হবে।

নিবন্ধন ও চলাচলের জন্য বুয়েট অনুমোদিত নতুন দুই সিটের রিকশা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। পুরনো রিকশা বদলে নতুন রিকশা নেওয়ার এক্সচেঞ্জ সুবিধাও থাকবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একজন সর্বোচ্চ ৫টি রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন, যার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হবে ১০ বছর। প্রতি রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী চালকেরা ৫০০ টাকা ফি দিয়ে ৫ বছরের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন।

ব্যাটারি চার্জে অনিয়ম ও বিদ্যুৎ অপচয় রোধে প্রচলিত পদ্ধতির বদলে দ্রুততম সময়ে ব্যাটারি পরিবর্তনের ‘ব্যাটারি সোয়াপিং’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে মাত্র দেড় মিনিটে খালি ব্যাটারি বদলে চার্জ করা ব্যাটারি বসানো সম্ভব হবে। ৮ লাখ রিকশার জন্য ১ হাজার থেকে ৬ হাজার পর্যন্ত ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন প্রয়োজন হতে পারে, যেখানে গ্রিন ফান্ড, সরকারি প্রণোদনা ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের যৌথ অর্থায়নে প্রতিটি স্টেশন গড়ে তোলার প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল