উদ্বোধনের চার বছর পর অবশেষে অলাভজনক করপোরেট মডেলে নতুন করে চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭৫০ শয্যার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। দেশে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বিদেশমুখী রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। হাসপাতালটি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর না করে কোম্পানি আইনের আওতায় একটি পৃথক স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে, যার ৯০ শতাংশ মালিকানা থাকবে বিএমইউর হাতে এবং ১০ শতাংশ থাকবে সরকারের অধীনে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উদ্বোধনের পর চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলসংকট এবং সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর অভাবে রাজধানীর শাহবাগের এই বিশেষায়িত হাসপাতালটির কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি গত ১৩ জুলাই পাস হওয়া 'বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬'-এর ওপর ভিত্তি করেই হাসপাতালটি পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন এই আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলোর আদলে একটি 'টেস্ট কেস' হিসেবে এটিকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এটি মূলত সেবাকেন্দ্রিক ও 'নন-প্রফিট' বা অলাভজনক করপোরেট প্রতিষ্ঠান হবে। রোগীদের কাছ থেকে অর্জিত ফি দিয়ে চিকিৎসক ও স্টাফদের আকর্ষণীয় আর্থিক সুবিধা প্রদান এবং হাসপাতালের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বজায় রাখা হবে। অবশিষ্ট অর্থ সেবার মানোন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।
নতুন প্রশাসনিক রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে থাকবেন বিএমইউর উপাচার্য এবং বিএমইউর একজন উপ-উপাচার্য থাকবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে। এছাড়া প্রাত্যহিক পরিচালনা সহজ করতে বাইর থেকে একজন অভিজ্ঞ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। বিএমইউর নিয়মিত চিকিৎসকদের পরিবর্তে চুক্তির ভিত্তিতে বাইর থেকে নিজস্ব চিকিৎসক ও নার্স নেবে হাসপাতালটি। এখানে নিয়োজিত চিকিৎসকদের বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ থাকবে না; তবে তার বিনিময়ে দেওয়া হবে আকর্ষণীয় আর্থিক প্যাকেজ। একই সাথে সরঞ্জাম কেনাকাটায় সরকারি পিপিআর নিয়মের দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের অধীনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে।
স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা এই মডেলকে বাস্তবসম্মত বললেও নিচু আয়ের ও দরিদ্র রোগীদের জন্য সরকারি বা জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিলের মাধ্যমে ভর্তুকির ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। কার্ডিওভাসকুলার, লিভার ট্রানসপ্লান্ট, মাদার অ্যান্ড চাইল্ডসহ ৫টি বিশেষায়িত সেন্টার, ১৪টি অপারেশন থিয়েটার ও ১০০ শয্যার আইসিইউ সংবলিত এই হাসপাতালটি আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে কার্যকরভাবে চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উদ্বোধনের চার বছর পর অবশেষে অলাভজনক করপোরেট মডেলে নতুন করে চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭৫০ শয্যার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। দেশে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বিদেশমুখী রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। হাসপাতালটি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর না করে কোম্পানি আইনের আওতায় একটি পৃথক স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে, যার ৯০ শতাংশ মালিকানা থাকবে বিএমইউর হাতে এবং ১০ শতাংশ থাকবে সরকারের অধীনে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উদ্বোধনের পর চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলসংকট এবং সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর অভাবে রাজধানীর শাহবাগের এই বিশেষায়িত হাসপাতালটির কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি গত ১৩ জুলাই পাস হওয়া 'বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬'-এর ওপর ভিত্তি করেই হাসপাতালটি পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন এই আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলোর আদলে একটি 'টেস্ট কেস' হিসেবে এটিকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এটি মূলত সেবাকেন্দ্রিক ও 'নন-প্রফিট' বা অলাভজনক করপোরেট প্রতিষ্ঠান হবে। রোগীদের কাছ থেকে অর্জিত ফি দিয়ে চিকিৎসক ও স্টাফদের আকর্ষণীয় আর্থিক সুবিধা প্রদান এবং হাসপাতালের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বজায় রাখা হবে। অবশিষ্ট অর্থ সেবার মানোন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।
নতুন প্রশাসনিক রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে থাকবেন বিএমইউর উপাচার্য এবং বিএমইউর একজন উপ-উপাচার্য থাকবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে। এছাড়া প্রাত্যহিক পরিচালনা সহজ করতে বাইর থেকে একজন অভিজ্ঞ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। বিএমইউর নিয়মিত চিকিৎসকদের পরিবর্তে চুক্তির ভিত্তিতে বাইর থেকে নিজস্ব চিকিৎসক ও নার্স নেবে হাসপাতালটি। এখানে নিয়োজিত চিকিৎসকদের বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ থাকবে না; তবে তার বিনিময়ে দেওয়া হবে আকর্ষণীয় আর্থিক প্যাকেজ। একই সাথে সরঞ্জাম কেনাকাটায় সরকারি পিপিআর নিয়মের দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের অধীনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে।
স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা এই মডেলকে বাস্তবসম্মত বললেও নিচু আয়ের ও দরিদ্র রোগীদের জন্য সরকারি বা জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিলের মাধ্যমে ভর্তুকির ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। কার্ডিওভাসকুলার, লিভার ট্রানসপ্লান্ট, মাদার অ্যান্ড চাইল্ডসহ ৫টি বিশেষায়িত সেন্টার, ১৪টি অপারেশন থিয়েটার ও ১০০ শয্যার আইসিইউ সংবলিত এই হাসপাতালটি আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে কার্যকরভাবে চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন