সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত
প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) খসড়া সোমবার মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে
উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬
সালের ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে
সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে জানা গেছে,
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকটি
অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে সকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর
সাথে প্রধানমন্ত্রীর এক বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন লাভ করলে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ
সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরিতে মন্ত্রিপরিষদ
সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি দুই অর্থবছরে এটি
বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। প্রাথমিক প্রস্তাবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল
বেতন এবং আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা বলা
হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত খসড়ায় সংশোধন এনে ১ জুলাই থেকেই মূল বেতন কার্যকর রেখে
অর্থ পরিশোধের সময়সূচি ধাপে ধাপে নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার ওপর ছেড়ে
দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির
আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের ‘নবম জাতীয় বেতন কমিশন’ গঠন করা হয়েছিল। চলতি
বছরের ২১ জানুয়ারি জমা দেওয়া প্রতিবেদনে কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে
মূল বেতন সর্বনিম্ন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা
এবং সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা
করার (১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির) প্রস্তাব করে।
তবে নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পর্যালোচনা সচিব কমিটি
সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শতভাগের বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ না
রেখে খসড়া কিছুটা পরিমার্জন করেছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ
পেনশনভোগীর বেতন-ভাতায় বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন পে-স্কেল
পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে ১ লাখ ৪১,৪৩৪ কোটি
টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বিগত অর্থবছরের চেয়ে ৫৪,৫৭২ কোটি
টাকা বেশি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামো বহাল থাকা
এবং মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার চ্যালেঞ্জ
সত্ত্বেও ধাপে ধাপে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত
প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) খসড়া সোমবার মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে
উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬
সালের ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে
সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে জানা গেছে,
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকটি
অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে সকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর
সাথে প্রধানমন্ত্রীর এক বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন লাভ করলে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ
সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরিতে মন্ত্রিপরিষদ
সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি দুই অর্থবছরে এটি
বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। প্রাথমিক প্রস্তাবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল
বেতন এবং আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা বলা
হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত খসড়ায় সংশোধন এনে ১ জুলাই থেকেই মূল বেতন কার্যকর রেখে
অর্থ পরিশোধের সময়সূচি ধাপে ধাপে নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার ওপর ছেড়ে
দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির
আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের ‘নবম জাতীয় বেতন কমিশন’ গঠন করা হয়েছিল। চলতি
বছরের ২১ জানুয়ারি জমা দেওয়া প্রতিবেদনে কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে
মূল বেতন সর্বনিম্ন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা
এবং সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা
করার (১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির) প্রস্তাব করে।
তবে নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পর্যালোচনা সচিব কমিটি
সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শতভাগের বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ না
রেখে খসড়া কিছুটা পরিমার্জন করেছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ
পেনশনভোগীর বেতন-ভাতায় বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন পে-স্কেল
পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে ১ লাখ ৪১,৪৩৪ কোটি
টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বিগত অর্থবছরের চেয়ে ৫৪,৫৭২ কোটি
টাকা বেশি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামো বহাল থাকা
এবং মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার চ্যালেঞ্জ
সত্ত্বেও ধাপে ধাপে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন