দিকপাল

১৭ বছরের শাহেদের ‘ঘুষ ডট সাইট’, ৯ দিনে ৯ হাজারের বেশি অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ০১:৩৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

১৭ বছরের শাহেদের ‘ঘুষ ডট সাইট’, ৯ দিনে ৯ হাজারের বেশি অভিযোগ

মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও কল্যাণের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে একের পর এক সরকারি দপ্তরে ঘুষের দাবির মুখোমুখি হতে হয়েছিল পরিবারটিকে। পরবর্তীতে নিজের ও-লেভেল পরীক্ষার পাসপোর্ট তৈরিতেও মেলে একই তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেই ক্ষোভ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোর শাহেদ শরীফ আহমেদ তৈরি করেছে ‘ঘুষ ডট সাইট’ (Ghush.site) নামের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম—যেখানে ভুক্তভোগীরা পরিচয় গোপন রেখেই ঘুষ চাওয়া ও নেওয়ার তথ্য জমা দিতে পারছেন।

ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষিকা আমিনা খাতুনের ছেলে শাহেদ শরীফ আহমেদ। ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে অধ্যয়নরত শাহেদ জানান, ২০২২ সালে তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর জমানো প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা ও ট্রেজারি অফিসে ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হন তাঁরা। পরবর্তীতে কল্যাণ তহবিল ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা ছাড় করতে আরও ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীরা। এ ঘটনার জের ধরে ও প্রযুক্তির প্রতি টান থেকে বন্ধু সাইফ কবিরকে সাথে নিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার কোডিংয়ে ওয়েবসাইটটির প্রাথমিক কাঠামো দাঁড় করান তিনি।

গত ২১ আগস্ট চালু হওয়ার পর থেকে অবিশ্বাস্য সাড়া পেয়েছে এই প্ল্যাটফর্মটি। চালুর মাত্র ৯ দিনের মাথায় এতে জমা পড়েছে ৯ হাজার ৬৬৫টিরও বেশি দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ। এসব অভিযোগে উল্লেখিত দাবিকৃত ঘুষের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকা। ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় গোপন রেখে একটি পর্যালোচনা দল অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর ড্যাশবোর্ডে তা প্রকাশ করছে।

শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম শামীম (যিনি সাবেক সৌদি প্রবাসী ব্যাংক কর্মকর্তা) ছেলের এই উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন যে, স্ত্রীর প্রাপ্য বকেয়া টাকা তিনি আর কোনো ঘুষ না দিয়েই উদ্ধার করবেন।

তবে ঘুষ চাওয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন দ্রুত বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি তদন্তের কথা জানান। অন্যদিকে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন ও টিআইবি জেলা প্রতিনিধিরা তরুণদের এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


১৭ বছরের শাহেদের ‘ঘুষ ডট সাইট’, ৯ দিনে ৯ হাজারের বেশি অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও কল্যাণের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে একের পর এক সরকারি দপ্তরে ঘুষের দাবির মুখোমুখি হতে হয়েছিল পরিবারটিকে। পরবর্তীতে নিজের ও-লেভেল পরীক্ষার পাসপোর্ট তৈরিতেও মেলে একই তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেই ক্ষোভ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোর শাহেদ শরীফ আহমেদ তৈরি করেছে ‘ঘুষ ডট সাইট’ (Ghush.site) নামের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম—যেখানে ভুক্তভোগীরা পরিচয় গোপন রেখেই ঘুষ চাওয়া ও নেওয়ার তথ্য জমা দিতে পারছেন।

ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষিকা আমিনা খাতুনের ছেলে শাহেদ শরীফ আহমেদ। ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে অধ্যয়নরত শাহেদ জানান, ২০২২ সালে তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর জমানো প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা ও ট্রেজারি অফিসে ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হন তাঁরা। পরবর্তীতে কল্যাণ তহবিল ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা ছাড় করতে আরও ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীরা। এ ঘটনার জের ধরে ও প্রযুক্তির প্রতি টান থেকে বন্ধু সাইফ কবিরকে সাথে নিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার কোডিংয়ে ওয়েবসাইটটির প্রাথমিক কাঠামো দাঁড় করান তিনি।

গত ২১ আগস্ট চালু হওয়ার পর থেকে অবিশ্বাস্য সাড়া পেয়েছে এই প্ল্যাটফর্মটি। চালুর মাত্র ৯ দিনের মাথায় এতে জমা পড়েছে ৯ হাজার ৬৬৫টিরও বেশি দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ। এসব অভিযোগে উল্লেখিত দাবিকৃত ঘুষের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকা। ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় গোপন রেখে একটি পর্যালোচনা দল অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর ড্যাশবোর্ডে তা প্রকাশ করছে।

শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম শামীম (যিনি সাবেক সৌদি প্রবাসী ব্যাংক কর্মকর্তা) ছেলের এই উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন যে, স্ত্রীর প্রাপ্য বকেয়া টাকা তিনি আর কোনো ঘুষ না দিয়েই উদ্ধার করবেন।

তবে ঘুষ চাওয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন দ্রুত বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি তদন্তের কথা জানান। অন্যদিকে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন ও টিআইবি জেলা প্রতিনিধিরা তরুণদের এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল