দিকপাল

১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ে মুক্তি, ঘণ্টা না পেরোতেই মাদকসহ আটক


ইয়াসরির মাহবুব
ইয়াসরির মাহবুব স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৫:৩২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ে মুক্তি, ঘণ্টা না পেরোতেই মাদকসহ আটক

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোবাইল ফোন ও নারীদের ব্যাগ চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে ছেড়ে দেন স্থানীয়রা। তবে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন মো. করিম নামে ওই যুবক। তিনি জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ফকির আস্তানা এলাকায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে। পরে রাতেই পুলিশ তাকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, একটি মোবাইল ফোন ও লেডিস ব্যাগ চুরির অভিযোগে করিমকে প্রথমে আটক করা হয়েছিল। পরে তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অসহায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের হাতে তুলে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভবিষ্যতে আর কখনো চুরি বা কোনো ধরনের অসৎ কাজে জড়াবেন না—এমন লিখিত ও মৌখিক প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয় তার কাছ থেকে।

এই অঙ্গীকারের শাস্তিস্বরূপ এবং নিজেকে সংশোধনের সুযোগ হিসেবে তাকে মণ্ডপেই ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় এবং তওবা করতে বলা হয়। করিম স্থানীয়দের নির্দেশমতো নামাজ ও তওবা সম্পন্ন করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নফল নামাজ পড়ে মুক্ত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই করিম আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। গভীর রাতে মাদক সেবন ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

এ বিষয়ে স্থানীয় যুবক ইকবাল হোসেন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ভালো হওয়ার সব রকম অঙ্গীকার করে এবং ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ে মুক্ত হওয়ার পরও করিম রাতেই আবার মাদকসহ ধরা পড়েছেন। নিজের ভেতর থেকে পরিবর্তনের সৎ ইচ্ছা না থাকলে কাউকে জোর করে সংশোধন করা যে কঠিন, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, করিমকে নিতান্তই অসহায় মনে করে শেষবারের মতো একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, অল্প সময়ের ব্যবধানেই তিনি আবার অপরাধ করে আইনের আওতায় চলে গেলেন।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়রা চুরির অভিযোগে করিমকে আটক করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ ও তওবা করিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে আমরা জেনেছি। তবে রাতেই তাকে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে থানা পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ে মুক্তি, ঘণ্টা না পেরোতেই মাদকসহ আটক

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোবাইল ফোন ও নারীদের ব্যাগ চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে ছেড়ে দেন স্থানীয়রা। তবে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন মো. করিম নামে ওই যুবক। তিনি জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ফকির আস্তানা এলাকায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে। পরে রাতেই পুলিশ তাকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, একটি মোবাইল ফোন ও লেডিস ব্যাগ চুরির অভিযোগে করিমকে প্রথমে আটক করা হয়েছিল। পরে তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অসহায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের হাতে তুলে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভবিষ্যতে আর কখনো চুরি বা কোনো ধরনের অসৎ কাজে জড়াবেন না—এমন লিখিত ও মৌখিক প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয় তার কাছ থেকে।

এই অঙ্গীকারের শাস্তিস্বরূপ এবং নিজেকে সংশোধনের সুযোগ হিসেবে তাকে মণ্ডপেই ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় এবং তওবা করতে বলা হয়। করিম স্থানীয়দের নির্দেশমতো নামাজ ও তওবা সম্পন্ন করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নফল নামাজ পড়ে মুক্ত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই করিম আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। গভীর রাতে মাদক সেবন ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

এ বিষয়ে স্থানীয় যুবক ইকবাল হোসেন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ভালো হওয়ার সব রকম অঙ্গীকার করে এবং ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ে মুক্ত হওয়ার পরও করিম রাতেই আবার মাদকসহ ধরা পড়েছেন। নিজের ভেতর থেকে পরিবর্তনের সৎ ইচ্ছা না থাকলে কাউকে জোর করে সংশোধন করা যে কঠিন, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, করিমকে নিতান্তই অসহায় মনে করে শেষবারের মতো একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, অল্প সময়ের ব্যবধানেই তিনি আবার অপরাধ করে আইনের আওতায় চলে গেলেন।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়রা চুরির অভিযোগে করিমকে আটক করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ ও তওবা করিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে আমরা জেনেছি। তবে রাতেই তাকে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে থানা পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল