বিশ্বকাপ ফুটবলের জোয়ারে মেতে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে খেলা দেখার বড় পর্দার সামনে প্রতিদিন জমছে হাজারো শিক্ষার্থীর ভিড়। প্রিয় দলের সমর্থনে জার্সি ও পতাকা হাতে উম্মাদনা আর বন্ধুদের সাথে মিলে খেলা উপভোগের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এমন বড় আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা-সমালোচনাও তৈরি হয়েছে।
সমালোচনা থাকলেও শুধু খেলার অনাবিল আনন্দেই সীমাবদ্ধ থাকেননি চবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বরং খেলার এই বিশাল জমায়েতকে কাজে লাগিয়ে বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় বড় ধরনের তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। বড় পর্দায় খেলা দেখতে আসা ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেওয়া হচ্ছে স্বেচ্ছা অনুদান। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, অনুষদ-বিভাগ এবং ক্রিয়াশীল শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোও এই ত্রাণ তহবিল গঠনে জোরালোভাবে অংশ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন।
আন্দোলন ও উৎসবের চবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে ঘিরে একসঙ্গে খেলা দেখা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক স্বাভাবিক ও আনন্দময় সংস্কৃতির অংশ। তবে সেই আনন্দ আয়োজনকে এবার বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো একটি মানবিক উদ্যোগের সাথে যুক্ত করাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এবারের অন্যতম ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় দিক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রবল মানবিক দায়বদ্ধতার পেছনে রয়েছে এক শোকাতুর ও গৌরবময় স্মৃতি। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ পলাশ। তার সেই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও মানবিক চেতনা আজও চবি শিক্ষার্থীদের দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস এটিই প্রমাণ করে যে, জীবনের আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং সমাজের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ একসঙ্গেই পথ চলতে পারে। বিশ্বকাপের খেলা দেখার উন্মাদনার পাশাপাশি দেশের এই চরম দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানবিক ও সামাজিক সচেতনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের জোয়ারে মেতে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে খেলা দেখার বড় পর্দার সামনে প্রতিদিন জমছে হাজারো শিক্ষার্থীর ভিড়। প্রিয় দলের সমর্থনে জার্সি ও পতাকা হাতে উম্মাদনা আর বন্ধুদের সাথে মিলে খেলা উপভোগের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এমন বড় আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা-সমালোচনাও তৈরি হয়েছে।
সমালোচনা থাকলেও শুধু খেলার অনাবিল আনন্দেই সীমাবদ্ধ থাকেননি চবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বরং খেলার এই বিশাল জমায়েতকে কাজে লাগিয়ে বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় বড় ধরনের তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। বড় পর্দায় খেলা দেখতে আসা ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেওয়া হচ্ছে স্বেচ্ছা অনুদান। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, অনুষদ-বিভাগ এবং ক্রিয়াশীল শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোও এই ত্রাণ তহবিল গঠনে জোরালোভাবে অংশ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন।
আন্দোলন ও উৎসবের চবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে ঘিরে একসঙ্গে খেলা দেখা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক স্বাভাবিক ও আনন্দময় সংস্কৃতির অংশ। তবে সেই আনন্দ আয়োজনকে এবার বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো একটি মানবিক উদ্যোগের সাথে যুক্ত করাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এবারের অন্যতম ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় দিক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রবল মানবিক দায়বদ্ধতার পেছনে রয়েছে এক শোকাতুর ও গৌরবময় স্মৃতি। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ পলাশ। তার সেই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও মানবিক চেতনা আজও চবি শিক্ষার্থীদের দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস এটিই প্রমাণ করে যে, জীবনের আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং সমাজের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ একসঙ্গেই পথ চলতে পারে। বিশ্বকাপের খেলা দেখার উন্মাদনার পাশাপাশি দেশের এই চরম দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানবিক ও সামাজিক সচেতনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

আপনার মতামত লিখুন