বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে মানবপাচার প্রতিরোধ, প্রত্যর্পণ সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পারস্পরিক স্থানান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন যৌথ উদ্যোগ নিচ্ছে আঞ্চলিক জোট বিমসটেক (BIMSTEC)। আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জোটের ৫ম ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা’ বৈঠকে এই বিষয়গুলোর ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠার তিন দশক ধরে আঞ্চলিক সহযোগিতার সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারে কাজ করে আসছে ৭ দেশের এই আঞ্চলিক সংস্থা। ৩০ বছরের এই পথচলায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সম্পাদনের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সহযোগিতা নিশ্চিত করাই বিমসটেকের মূল লক্ষ্য।
বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে নিরাপত্তা খাতের অগ্রগতি নিয়ে জানান, জোটের একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ মাদক ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে নিরলস কাজ করছে। এর পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং সামগ্রিকভাবে বঙ্গোপসাগরভিত্তিক অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধেও এই গ্রুপটি বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনের লক্ষ্যে একটি কনভেনশন ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলো তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে। এর ধারাবাহিকতায় মানবপাচার প্রতিরোধ, প্রত্যর্পণ এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্থানান্তরের বিষয়টি আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে আরও তিনটি নতুন কনভেনশন নিয়ে আলোচনা চলছে, যা আসন্ন নিরাপত্তা বৈঠকে চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে। এছাড়া সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক আয়োজনের ব্যাপারেও জোটের দেশগুলো একমত হয়েছে।
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের অগ্রগতির প্রশংসা করে বিমসটেক মহাসচিব বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের স্তর উন্নীত হোক বা না হোক, আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিমসটেকের নীতি ও সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হবে না। আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার মাধ্যমে বিমসটেক বাংলাদেশের এই উন্নয়নযাত্রায় অতীতেও পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলবে। বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বিমসটেকের নেওয়া নানা উদ্যোগ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে উপকৃত হয়েছে, যা দেশের নিজস্ব উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সমানভাবে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে মানবপাচার প্রতিরোধ, প্রত্যর্পণ সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পারস্পরিক স্থানান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন যৌথ উদ্যোগ নিচ্ছে আঞ্চলিক জোট বিমসটেক (BIMSTEC)। আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জোটের ৫ম ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা’ বৈঠকে এই বিষয়গুলোর ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠার তিন দশক ধরে আঞ্চলিক সহযোগিতার সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারে কাজ করে আসছে ৭ দেশের এই আঞ্চলিক সংস্থা। ৩০ বছরের এই পথচলায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সম্পাদনের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সহযোগিতা নিশ্চিত করাই বিমসটেকের মূল লক্ষ্য।
বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে নিরাপত্তা খাতের অগ্রগতি নিয়ে জানান, জোটের একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ মাদক ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে নিরলস কাজ করছে। এর পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং সামগ্রিকভাবে বঙ্গোপসাগরভিত্তিক অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধেও এই গ্রুপটি বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনের লক্ষ্যে একটি কনভেনশন ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলো তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে। এর ধারাবাহিকতায় মানবপাচার প্রতিরোধ, প্রত্যর্পণ এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্থানান্তরের বিষয়টি আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে আরও তিনটি নতুন কনভেনশন নিয়ে আলোচনা চলছে, যা আসন্ন নিরাপত্তা বৈঠকে চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে। এছাড়া সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক আয়োজনের ব্যাপারেও জোটের দেশগুলো একমত হয়েছে।
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের অগ্রগতির প্রশংসা করে বিমসটেক মহাসচিব বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের স্তর উন্নীত হোক বা না হোক, আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিমসটেকের নীতি ও সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হবে না। আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার মাধ্যমে বিমসটেক বাংলাদেশের এই উন্নয়নযাত্রায় অতীতেও পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলবে। বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বিমসটেকের নেওয়া নানা উদ্যোগ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে উপকৃত হয়েছে, যা দেশের নিজস্ব উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সমানভাবে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন