দিকপাল

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় নকশা প্রণয়নসহ কারিগরি সহায়তা দিতে চায় চীন


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ | ০৮:০৭ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় নকশা প্রণয়নসহ কারিগরি সহায়তা দিতে চায় চীন

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ সম্প্রতি বাংলাদেশ ও চীনের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যকার এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে এসেছে, যা আগামী দিনগুলোতে ঢাকা ও বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও নিবিড় ও অর্থবহ করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সফরের প্রাক্কালে চীনা সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান করে। সেই সাথে তাকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার, যা চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি তাদের বিশেষ গুরুত্ব ও শ্রদ্ধাবোধেরই বহিঃপ্রকাশ। এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সরকারের মধ্যে মোট তেরোটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য প্রসার এবং প্রযুক্তিগত বিনিময়ের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।


বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তিস্তা প্রকল্পের পরিকল্পনা, নকশা প্রণয়ন এবং এর কারিগরি দিকগুলো বাস্তবায়নে চীনের সক্রিয় আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। মাহদী আমিন আরও জানান, কোনো বড় প্রকল্প শুরু করার আগে যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে, যা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে। কেবল তিস্তা নয়, বরং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নদীকেন্দ্রিক টেকসই উন্নয়ন নিয়ে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।


বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোও এই বৈঠকে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। বর্তমানে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও, দুই দেশের আমদানিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী বাণিজ্যের মধ্যে বিশাল একটি ব্যবধান বা ভারসাম্যহীনতা রয়ে গেছে। এই ঘাটতি কমিয়ে আনার উপায় নিয়ে দুই নেতা খোলামেলা আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের জন্য চীনের বাজারে নতুন সুবিধা সৃষ্টি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।


পরিশেষে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই বৈঠক কেবল প্রথাগত কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দেবে। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পের মতো একটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চীনের কারিগরি সহায়তা বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী সুফল দেবে। বেইজিংয়ের এই সফর ও তেরোটি চুক্তির স্বাক্ষর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন এক উচ্চতা ও গভীরতা এনে দিয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


তিস্তা মহাপরিকল্পনায় নকশা প্রণয়নসহ কারিগরি সহায়তা দিতে চায় চীন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ সম্প্রতি বাংলাদেশ ও চীনের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যকার এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে এসেছে, যা আগামী দিনগুলোতে ঢাকা ও বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও নিবিড় ও অর্থবহ করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সফরের প্রাক্কালে চীনা সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান করে। সেই সাথে তাকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার, যা চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি তাদের বিশেষ গুরুত্ব ও শ্রদ্ধাবোধেরই বহিঃপ্রকাশ। এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সরকারের মধ্যে মোট তেরোটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য প্রসার এবং প্রযুক্তিগত বিনিময়ের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।


বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তিস্তা প্রকল্পের পরিকল্পনা, নকশা প্রণয়ন এবং এর কারিগরি দিকগুলো বাস্তবায়নে চীনের সক্রিয় আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। মাহদী আমিন আরও জানান, কোনো বড় প্রকল্প শুরু করার আগে যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে, যা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে। কেবল তিস্তা নয়, বরং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নদীকেন্দ্রিক টেকসই উন্নয়ন নিয়ে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।


বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোও এই বৈঠকে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। বর্তমানে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও, দুই দেশের আমদানিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী বাণিজ্যের মধ্যে বিশাল একটি ব্যবধান বা ভারসাম্যহীনতা রয়ে গেছে। এই ঘাটতি কমিয়ে আনার উপায় নিয়ে দুই নেতা খোলামেলা আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের জন্য চীনের বাজারে নতুন সুবিধা সৃষ্টি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।


পরিশেষে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই বৈঠক কেবল প্রথাগত কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দেবে। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পের মতো একটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চীনের কারিগরি সহায়তা বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী সুফল দেবে। বেইজিংয়ের এই সফর ও তেরোটি চুক্তির স্বাক্ষর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন এক উচ্চতা ও গভীরতা এনে দিয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল