দিকপাল

পরকীয়া সম্পর্ককে হাতিয়ার করে বিল গেটসকে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | ০৪:৩৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

পরকীয়া সম্পর্ককে হাতিয়ার করে বিল গেটসকে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস মার্কিন কংগ্রেসের একটি বিশেষ কমিটির রুদ্ধদ্বার শুনানিতে ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্পর্শকাতর বিষয়ে মুখ খুলেছেন। দণ্ডিত অর্থদাতা জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার অতীত সম্পর্ক এবং এর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেলের শিকার হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি। মূলত জেফরি এপস্টাইনের বিতর্কিত নেটওয়ার্ক ও তার সঙ্গে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবেই বিল গেটসকে এই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়।


শুনানিতে বিল গেটস তার ব্যক্তিগত জীবনের তিনটি প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এই সম্পর্কগুলোর মধ্যে দুটি সম্পর্কে এপস্টাইন অবগত ছিলেন। বিল গেটস বলেন, রুশ বংশোদ্ভূত ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং পরমাণু বিজ্ঞানী কারিমা নিগমাতুলিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি এপস্টাইনের জানা ছিল। এছাড়া মেডিকেল উদ্যোক্তা অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরডটের সঙ্গে আরেকটি সম্পর্কের কথা তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেন। বিল গেটস জোর দিয়ে বলেন যে, ব্যক্তিগত এই সম্পর্কের সঙ্গে এপস্টাইনের ব্যবসায়িক বা দাতব্য কর্মকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র নেই। তবে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, তার ব্যক্তিগত জীবনের এসব বিষয় ফাঁস হওয়ার ঘটনা তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল।


এপস্টাইনের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টার বিষয়ে বিল গেটস জানান, তাকে সরাসরি কোনো হুমকি দেওয়া না হলেও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি নিশ্চিত যে এপস্টাইন তাকে ব্ল্যাকমেল করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২০১৩ সালে এপস্টাইনের লেখা একটি ইমেইলের খসড়ার দিকে ইঙ্গিত করে বিল গেটস বলেন, সেখানে তার ব্যক্তিগত জীবন এবং তার সাবেক কর্মী বরিস নিকোলিচের বিষয়ে যে তথ্য ছিল, তা স্পষ্টতই অনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা ছিল। বিল গেটস মনে করেন, এপস্টাইন সত্য ও মিথ্যা তথ্য মিলিয়ে একটি জাল বুনছিলেন, যাতে তাকে পুনরায় কোনো চুক্তিতে বা কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা যায়।

এপস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা তার জীবনের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলেও মন্তব্য করেন বিল গেটস। তিনি জানান, দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও জনকল্যাণমূলক কাজ এবং সম্ভাব্য দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনে তিনি কয়েকবার এপস্টাইনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে চার বছর মেয়াদে প্রায় ১২ থেকে ১৪ বার সরাসরি বৈঠক ও দুবার ভিডিও কলে কথা বলার পরও এপস্টাইনের দেওয়া দাতা সংগ্রহের প্রতিশ্রুতিগুলোর কোনোটিই বাস্তবে রূপ নেয়নি। এছাড়া শুনানিতে আইনপ্রণেতারা গেটসের যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি তা দৃঢ়তার সঙ্গে নাকচ করে দেন। গেটস স্পষ্ট জানান যে, তার কখনোই কোনো যৌনবাহিত রোগ ছিল না এবং কাউকে গোপনে কোনো ওষুধ দেওয়ার অভিযোগটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।


জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে এই সম্পর্কের বিষয়টি বর্তমানে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরীণ কর্মীরাও অনেক ক্ষেত্রে এপস্টাইনের সাথে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ায় এখন বিষয়টি নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের এই কঠোর তদন্ত এবং গেটসের এই স্বীকারোক্তি বিশ্বব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের স্বচ্ছতার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: এনডিটিভি  ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


পরকীয়া সম্পর্ককে হাতিয়ার করে বিল গেটসকে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস মার্কিন কংগ্রেসের একটি বিশেষ কমিটির রুদ্ধদ্বার শুনানিতে ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্পর্শকাতর বিষয়ে মুখ খুলেছেন। দণ্ডিত অর্থদাতা জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার অতীত সম্পর্ক এবং এর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেলের শিকার হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি। মূলত জেফরি এপস্টাইনের বিতর্কিত নেটওয়ার্ক ও তার সঙ্গে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবেই বিল গেটসকে এই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়।


শুনানিতে বিল গেটস তার ব্যক্তিগত জীবনের তিনটি প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এই সম্পর্কগুলোর মধ্যে দুটি সম্পর্কে এপস্টাইন অবগত ছিলেন। বিল গেটস বলেন, রুশ বংশোদ্ভূত ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং পরমাণু বিজ্ঞানী কারিমা নিগমাতুলিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি এপস্টাইনের জানা ছিল। এছাড়া মেডিকেল উদ্যোক্তা অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরডটের সঙ্গে আরেকটি সম্পর্কের কথা তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেন। বিল গেটস জোর দিয়ে বলেন যে, ব্যক্তিগত এই সম্পর্কের সঙ্গে এপস্টাইনের ব্যবসায়িক বা দাতব্য কর্মকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র নেই। তবে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, তার ব্যক্তিগত জীবনের এসব বিষয় ফাঁস হওয়ার ঘটনা তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল।


এপস্টাইনের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টার বিষয়ে বিল গেটস জানান, তাকে সরাসরি কোনো হুমকি দেওয়া না হলেও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি নিশ্চিত যে এপস্টাইন তাকে ব্ল্যাকমেল করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২০১৩ সালে এপস্টাইনের লেখা একটি ইমেইলের খসড়ার দিকে ইঙ্গিত করে বিল গেটস বলেন, সেখানে তার ব্যক্তিগত জীবন এবং তার সাবেক কর্মী বরিস নিকোলিচের বিষয়ে যে তথ্য ছিল, তা স্পষ্টতই অনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা ছিল। বিল গেটস মনে করেন, এপস্টাইন সত্য ও মিথ্যা তথ্য মিলিয়ে একটি জাল বুনছিলেন, যাতে তাকে পুনরায় কোনো চুক্তিতে বা কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা যায়।

এপস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা তার জীবনের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলেও মন্তব্য করেন বিল গেটস। তিনি জানান, দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও জনকল্যাণমূলক কাজ এবং সম্ভাব্য দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনে তিনি কয়েকবার এপস্টাইনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে চার বছর মেয়াদে প্রায় ১২ থেকে ১৪ বার সরাসরি বৈঠক ও দুবার ভিডিও কলে কথা বলার পরও এপস্টাইনের দেওয়া দাতা সংগ্রহের প্রতিশ্রুতিগুলোর কোনোটিই বাস্তবে রূপ নেয়নি। এছাড়া শুনানিতে আইনপ্রণেতারা গেটসের যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি তা দৃঢ়তার সঙ্গে নাকচ করে দেন। গেটস স্পষ্ট জানান যে, তার কখনোই কোনো যৌনবাহিত রোগ ছিল না এবং কাউকে গোপনে কোনো ওষুধ দেওয়ার অভিযোগটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।


জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে এই সম্পর্কের বিষয়টি বর্তমানে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরীণ কর্মীরাও অনেক ক্ষেত্রে এপস্টাইনের সাথে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ায় এখন বিষয়টি নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের এই কঠোর তদন্ত এবং গেটসের এই স্বীকারোক্তি বিশ্বব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের স্বচ্ছতার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: এনডিটিভি  ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল