দিকপাল

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | ১০:৫৭ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিং। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই বেইজিংয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার একটি।

সাক্ষাতের শুরুতেই লিউ হাইক্সিং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে চীনের দীর্ঘদিনের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, বেগম জিয়ার মোট নয়বার চীন সফরের স্মৃতি এবং সম্মানে ২০০১ সালের সফরের একটি বিশেষ ছবি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে অত্যন্ত যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই বিশেষ দিকটি তুলে ধরে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে অতীতে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রসঙ্গ টেনে দুই দলের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। লিউ হাইক্সিং বিশেষ করে গণমাধ্যম, বিভিন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বা থিংক ট্যাংক, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, চীন সর্বদা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের অকৃত্রিম সমর্থক হিসেবে পাশে থাকবে। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুউচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এবং চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বাস্তবায়নে চীনের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক লিগ্যাসি, তা বর্তমান সরকারের সময়েও অটুট থাকবে এবং নতুন মাত্রায় বিকশিত হবে। চীনা মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পূর্ণ ঐকমত্য পোষণ করেন। লিউ হাইক্সিং দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত জীবন লাভ করবে এবং চীন এই অগ্রযাত্রার অংশীদার হিসেবে সবসময় পাশে থাকবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, চীনা পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ানসহ সে দেশের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিং। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই বেইজিংয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার একটি।

সাক্ষাতের শুরুতেই লিউ হাইক্সিং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে চীনের দীর্ঘদিনের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, বেগম জিয়ার মোট নয়বার চীন সফরের স্মৃতি এবং সম্মানে ২০০১ সালের সফরের একটি বিশেষ ছবি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে অত্যন্ত যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই বিশেষ দিকটি তুলে ধরে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে অতীতে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রসঙ্গ টেনে দুই দলের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। লিউ হাইক্সিং বিশেষ করে গণমাধ্যম, বিভিন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বা থিংক ট্যাংক, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, চীন সর্বদা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের অকৃত্রিম সমর্থক হিসেবে পাশে থাকবে। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুউচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এবং চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বাস্তবায়নে চীনের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক লিগ্যাসি, তা বর্তমান সরকারের সময়েও অটুট থাকবে এবং নতুন মাত্রায় বিকশিত হবে। চীনা মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পূর্ণ ঐকমত্য পোষণ করেন। লিউ হাইক্সিং দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত জীবন লাভ করবে এবং চীন এই অগ্রযাত্রার অংশীদার হিসেবে সবসময় পাশে থাকবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, চীনা পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ানসহ সে দেশের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল