ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম নিতে গেলে যে দুটি দেশের কথা সবার আগে মনে পড়ে, তা হলো ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এই দুই লাতিন পরাশক্তির দ্বৈরথ দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীরা সারা বছর মুখিয়ে থাকেন। আর বিশ্বকাপের মতো বিশাল কোনো মঞ্চে তাদের মুখোমুখি লড়াই মানেই রোমাঞ্চের পরাকাষ্ঠা। ফুটবল ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, সর্বশেষ ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হয়েছিল। দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে আর দেখা হয়নি তাদের। তবে ভক্তদের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে চলমান বিশ্বকাপে। সমীকরণ যদি ঠিকঠাক মেলে, তবে সেমিফাইনালেই আবারও দেখা হতে পারে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার।
চলমান আসরে আর্জেন্টিনা তাদের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। টানা দুই ম্যাচ জয়ের মাধ্যমে তারা নিজেদের গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারা জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামবে, আর সেই ম্যাচেও জয়লাভ করে অপরাজিত থাকার লক্ষ্য তাদের। আর্জেন্টিনার জন্য পরের ধাপের পথটা কিছুটা পরিষ্কার, যেখানে দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে উরুগুয়ে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের শুরুতে ছন্দহীন থাকলেও হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ব্রাজিল এখন বেশ ফর্মে রয়েছে। গ্রুপ সেরা হয়ে পরের রাউন্ডে ওঠা ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে জাপান।
টুর্নামেন্টের বর্তমান নকশা অনুযায়ী, যদি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল নিজেদের পরের ম্যাচগুলোতে জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারে এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়, তবেই সেমিফাইনালের মহারণে মুখোমুখি হবে দুই দল। এই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে ফুটবল দুনিয়ায় এখন থেকেই উত্তেজনা চরমে। বিশ্বকাপে দুই দলের সবশেষ লড়াইয়ের স্মৃতি আজও অনেক ফুটবল ভক্তের মনে গেঁথে আছে। ১৯৯০ সালের ২৪ জুন ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিত সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুকরী পাস থেকে ক্লদিও ক্যানিজিয়া গোল করে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিলেন। নকআউট পর্বে দুই দলের মধ্যে এটিই ছিল এখন পর্যন্ত একমাত্র লড়াই।
সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ব্রাজিল এবার মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে। অন্যদিকে, নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মেসি বাহিনীও এখন পর্যন্ত অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, নাকি সেলেসাওরা তাদের পুরনো হিসেব চুকিয়ে ফাইনালে পা রাখবে—সেটিই এখন কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের প্রধান আগ্রহের বিষয়। সেমিফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা লড়াই নিশ্চিত হলে তা কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ঐতিহ্যের এক নতুন লড়াইয়ে রূপ নেবে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা দেখার জন্য যে, দীর্ঘদিনের এই প্রতীক্ষার অবসান শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে রূপ নেয় কি না।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম নিতে গেলে যে দুটি দেশের কথা সবার আগে মনে পড়ে, তা হলো ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এই দুই লাতিন পরাশক্তির দ্বৈরথ দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীরা সারা বছর মুখিয়ে থাকেন। আর বিশ্বকাপের মতো বিশাল কোনো মঞ্চে তাদের মুখোমুখি লড়াই মানেই রোমাঞ্চের পরাকাষ্ঠা। ফুটবল ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, সর্বশেষ ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হয়েছিল। দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে আর দেখা হয়নি তাদের। তবে ভক্তদের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে চলমান বিশ্বকাপে। সমীকরণ যদি ঠিকঠাক মেলে, তবে সেমিফাইনালেই আবারও দেখা হতে পারে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার।
চলমান আসরে আর্জেন্টিনা তাদের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। টানা দুই ম্যাচ জয়ের মাধ্যমে তারা নিজেদের গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারা জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামবে, আর সেই ম্যাচেও জয়লাভ করে অপরাজিত থাকার লক্ষ্য তাদের। আর্জেন্টিনার জন্য পরের ধাপের পথটা কিছুটা পরিষ্কার, যেখানে দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে উরুগুয়ে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের শুরুতে ছন্দহীন থাকলেও হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ব্রাজিল এখন বেশ ফর্মে রয়েছে। গ্রুপ সেরা হয়ে পরের রাউন্ডে ওঠা ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে জাপান।
টুর্নামেন্টের বর্তমান নকশা অনুযায়ী, যদি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল নিজেদের পরের ম্যাচগুলোতে জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারে এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়, তবেই সেমিফাইনালের মহারণে মুখোমুখি হবে দুই দল। এই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে ফুটবল দুনিয়ায় এখন থেকেই উত্তেজনা চরমে। বিশ্বকাপে দুই দলের সবশেষ লড়াইয়ের স্মৃতি আজও অনেক ফুটবল ভক্তের মনে গেঁথে আছে। ১৯৯০ সালের ২৪ জুন ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিত সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুকরী পাস থেকে ক্লদিও ক্যানিজিয়া গোল করে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিলেন। নকআউট পর্বে দুই দলের মধ্যে এটিই ছিল এখন পর্যন্ত একমাত্র লড়াই।
সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ব্রাজিল এবার মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে। অন্যদিকে, নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মেসি বাহিনীও এখন পর্যন্ত অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, নাকি সেলেসাওরা তাদের পুরনো হিসেব চুকিয়ে ফাইনালে পা রাখবে—সেটিই এখন কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের প্রধান আগ্রহের বিষয়। সেমিফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা লড়াই নিশ্চিত হলে তা কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ঐতিহ্যের এক নতুন লড়াইয়ে রূপ নেবে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা দেখার জন্য যে, দীর্ঘদিনের এই প্রতীক্ষার অবসান শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে রূপ নেয় কি না।

আপনার মতামত লিখুন