দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত তিনটার দিকে জাহাজটি সফলভাবে প্রণালির ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা পাড়ি দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। বিএসসি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে জাহাজটি জ্বালানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ফুজাইরা বন্দরে নোঙরের অপেক্ষায় আছে এবং জাহাজে কর্মরত ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।
এমভি বাংলার জয়যাত্রার এই দীর্ঘ আটকা পড়ার নেপথ্যে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ভারত থেকে পণ্য খালাস শেষে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে এবং কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে জাহাজটির স্বাভাবিক চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ চলে আসে। এরপর জাহাজটি প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের দিকে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিলেও হরমুজ প্রণালিতে কঠোর চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও জাহাজটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
এই দীর্ঘ স্থবিরতার সময়টিতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। জাহাজটিকে সংকটমুক্ত করতে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন তৎপরতা চালানো হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির অপেক্ষায় থাকতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। অবশেষে আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার প্রেক্ষাপটে জাহাজটির জন্য চলাচলের পথ উন্মুক্ত হয়। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল হিসেবেই এমভি বাংলার জয়যাত্রা অবশেষে তার গন্তব্যের পথে এগিয়ে যেতে পারছে। দীর্ঘ এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে জাহাজের নাবিকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাদের স্বজন ও সংশ্লিষ্টরা। জাহাজটি এখন তার নির্ধারিত গন্তব্যের পথে স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত তিনটার দিকে জাহাজটি সফলভাবে প্রণালির ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা পাড়ি দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। বিএসসি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে জাহাজটি জ্বালানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ফুজাইরা বন্দরে নোঙরের অপেক্ষায় আছে এবং জাহাজে কর্মরত ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।
এমভি বাংলার জয়যাত্রার এই দীর্ঘ আটকা পড়ার নেপথ্যে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ভারত থেকে পণ্য খালাস শেষে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে এবং কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে জাহাজটির স্বাভাবিক চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ চলে আসে। এরপর জাহাজটি প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের দিকে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিলেও হরমুজ প্রণালিতে কঠোর চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও জাহাজটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
এই দীর্ঘ স্থবিরতার সময়টিতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। জাহাজটিকে সংকটমুক্ত করতে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন তৎপরতা চালানো হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির অপেক্ষায় থাকতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। অবশেষে আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার প্রেক্ষাপটে জাহাজটির জন্য চলাচলের পথ উন্মুক্ত হয়। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল হিসেবেই এমভি বাংলার জয়যাত্রা অবশেষে তার গন্তব্যের পথে এগিয়ে যেতে পারছে। দীর্ঘ এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে জাহাজের নাবিকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাদের স্বজন ও সংশ্লিষ্টরা। জাহাজটি এখন তার নির্ধারিত গন্তব্যের পথে স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন