দিকপাল

২৩ জুন ঘিরে বিশেষ সতর্কতা, নিরাপত্তায় প্রস্তুত ১৮ হাজার পুলিশ


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ | ১০:০৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

২৩ জুন ঘিরে বিশেষ সতর্কতা, নিরাপত্তায় প্রস্তুত ১৮ হাজার পুলিশ

আগামী তেইশ জুন নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ এই দিনটি ঘিরে রাজধানীতে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে, যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো অবকাশ না থাকে।

রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি মহানগরজুড়ে দুই শতাধিক কৌশলগত স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট ও নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করবে। নগরের প্রতিটি প্রবেশপথে কঠোর তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বাইরে থেকে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রবেশ করতে না পারে। সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করবে। বিশেষ করে গোয়েন্দা শাখা, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে। কোনো রকম নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও নিবিড় করা হয়েছে।

যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পনেরোটি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই দলগুলো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য স্ট্যান্ডবাই বা রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ডিএমপির আঠারো হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা মহানগরজুড়ে দায়িত্ব পালন করবেন। ডিএমপির এই ব্যাপক প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হলো নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন বজায় রাখা।

এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে চলতি জুন মাসের শুরু থেকেই ডিএমপি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। গত বিশ দিনে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অপরাধের সঙ্গে জড়িত এক হাজার পাঁচশ সাঁইত্রিশ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতা দমন করতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের অস্থিরতা মোকাবিলায় তারা শতভাগ প্রস্তুত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


২৩ জুন ঘিরে বিশেষ সতর্কতা, নিরাপত্তায় প্রস্তুত ১৮ হাজার পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

আগামী তেইশ জুন নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ এই দিনটি ঘিরে রাজধানীতে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে, যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো অবকাশ না থাকে।

রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি মহানগরজুড়ে দুই শতাধিক কৌশলগত স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট ও নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করবে। নগরের প্রতিটি প্রবেশপথে কঠোর তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বাইরে থেকে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রবেশ করতে না পারে। সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করবে। বিশেষ করে গোয়েন্দা শাখা, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে। কোনো রকম নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও নিবিড় করা হয়েছে।

যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পনেরোটি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই দলগুলো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য স্ট্যান্ডবাই বা রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ডিএমপির আঠারো হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা মহানগরজুড়ে দায়িত্ব পালন করবেন। ডিএমপির এই ব্যাপক প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হলো নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন বজায় রাখা।

এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে চলতি জুন মাসের শুরু থেকেই ডিএমপি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। গত বিশ দিনে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অপরাধের সঙ্গে জড়িত এক হাজার পাঁচশ সাঁইত্রিশ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতা দমন করতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের অস্থিরতা মোকাবিলায় তারা শতভাগ প্রস্তুত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল