দিকপাল

উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কা, সিলেটেও বাড়ছে ঝুঁকি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ | ১১:৫৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কা, সিলেটেও বাড়ছে ঝুঁকি

দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারতের অরুণাচল প্রদেশসহ উজান এলাকায় প্রবল বর্ষণের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এসব জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট বিভাগেও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের ৪৪টি জলকপাটই খুলে দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আগের দিন একই সময়ে তা ছিল বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু ফসলি জমি ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

সিলেটে কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের অন্যতম।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতের মেঘালয়সহ উজান অঞ্চলে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামী তিন দিনে বিপৎসীমা অতিক্রমের ঝুঁকি রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই পরিস্থিতি অন্তত আরও তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ছাড়া টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কা, সিলেটেও বাড়ছে ঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারতের অরুণাচল প্রদেশসহ উজান এলাকায় প্রবল বর্ষণের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এসব জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট বিভাগেও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের ৪৪টি জলকপাটই খুলে দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আগের দিন একই সময়ে তা ছিল বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু ফসলি জমি ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

সিলেটে কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের অন্যতম।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতের মেঘালয়সহ উজান অঞ্চলে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামী তিন দিনে বিপৎসীমা অতিক্রমের ঝুঁকি রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই পরিস্থিতি অন্তত আরও তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ছাড়া টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল