ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে দেশের সব নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, "একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে আমার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।" [TECHTARANGA-POST:2981]সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক আন্তরিক মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত আটটি পূজা মণ্ডপ ও বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে শারদীয় পূজার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।মতবিনিময়কালে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তাবিধান ও কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের প্রশংসা করেন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে এবার দুর্গাপূজার ছুটি ও সরকারি অনুদান বৃদ্ধি করায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। [TECHTARANGA-POST:2978]উপস্থিত প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "আপনারা নিজেরাই উল্লেখ করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু কাজ সম্ভব হয়েছে, আমরা তা আন্তরিকতার সঙ্গে করেছি। আরও কিছু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। এসব পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণ সাধনে আমাদের সদিচ্ছা শতভাগ রয়েছে।" বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মৃতি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অংশ নিয়েছিলেন এবং সেই ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সমগ্র দেশবাসী একসূত্রে গেঁথে অংশ নিয়েছিল।তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেন, "জাতির চরম ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মীয় পরিচয়কে বিবেচনায় আনিনি, তখন রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্য কোনো কাজে কেন আমরা ধর্মকে পার্থক্য হিসেবে দেখব? এই দেশটা আমরা সবাই মিলে যৌথভাবে স্বাধীন করেছি, আর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও সবাই রাজপথে সমানভাবে অবদান রেখেছি।"বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালের চিত্র টেনে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক নির্যাতনের সময় বিএনপির মুসলিম কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও সমানভাবে অত্যাচার ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন, সেখানে ধর্মের কোনো ভিন্নতা ছিল না। [TECHTARANGA-POST:2978]তিনি আবেগঘন কণ্ঠে আরও যোগ করেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে দেশ সেবার এক মহা সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে সাধ্যমতো চেষ্টা করব, ধর্মের নিরিখে নয়—বরং একজন রক্ত-মাংসের মানুষ ও নাগরিক হিসেবে আমার ক্ষমতার সর্বাত্মক প্রয়োগের মাধ্যমে প্রত্যেকের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।"মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বর্তমান শাসনব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। বর্তমান সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকাণ্ডেই প্রমাণিত হচ্ছে যে বিএনপিকে সমর্থন জানানো অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। এছাড়া বৈঠকে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন অংশ নেন।