দিকপাল

ঈদযাত্রার শেষ দিন, উত্তরের পথে যানজট ও বৃষ্টিতে ভোগান্তি


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ | ০৩:৩৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদযাত্রার শেষ দিন, উত্তরের পথে যানজট ও বৃষ্টিতে ভোগান্তি

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে শেষ মুহূর্তেও ঘরের মাঠে ছুটছেন লাখো মানুষ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা এই মানুষের ঢলে ঈদযাত্রার একেবারে শেষ দিনে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে যাত্রী ও যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ তৈরি হয়েছে। এই বিপুল চাপের কারণে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন রুটে সৃষ্টি হয়েছে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত তীব্র যানজট। আর এই যানজটের আগুনে ঘি ঢালছে প্রকৃতির বৈরী আচরণ; কিছুক্ষণ পর পরই নামছে মুষলধারে বৃষ্টি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা গণপরিবহন আর আকাশভাঙা বৃষ্টি—এই দুইয়ের কবলে পড়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটছে ঈদযাত্রী এবং দূরপাল্লার যানবাহনের চালকদের।

বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই যান চলাচলে স্থবিরতা নেমে এসেছে, যা আজ আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। মহাসড়কের করটিয়া থেকে শুরু করে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহন একেবারে স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে জামুর্কি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় কোনো রকমে ধীরগতিতে চাকা ঘুরছে গাড়ির। ভুক্তভোগী যাত্রী, চালক ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে মাত্র দুই ঘণ্টা সময় লাগত, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই একই রাস্তা পার হতে যাত্রীদের ছয় থেকে আট ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এই চরম দুর্ভোগের মধ্যেও বাড়ি পৌঁছানোর তাগিদে অনেক মানুষকে বাসের ছাদে কিংবা খোলা ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি উৎসবের এই সুযোগে পরিবহনগুলো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে বলে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এই নজিরবিহীন যানজটের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কে হঠাৎ ফিটনেসবিহীন পুরনো যানবাহন বিকল হয়ে পড়া, এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলমান থাকা এবং চার লেনের কিছু অংশের কাজ এখনো অসমাপ্ত থাকার কারণে গাড়ির গতি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, যমুনা সেতুর ধারণক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত গাড়ির এই বিশাল বহর একসঙ্গে পারাপার করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঘুরিয়ে বিকল্প পথে ঢাকার দিকে পাঠানো হচ্ছে। তবে ধীরগতি থাকলেও যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সেতু দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা। টাঙ্গাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণেই মূলত মহাসড়কে এই ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং দ্রুত যানজট নিরসন করে সড়ক সচল করতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম মহাসড়কে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


ঈদযাত্রার শেষ দিন, উত্তরের পথে যানজট ও বৃষ্টিতে ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে শেষ মুহূর্তেও ঘরের মাঠে ছুটছেন লাখো মানুষ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা এই মানুষের ঢলে ঈদযাত্রার একেবারে শেষ দিনে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে যাত্রী ও যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ তৈরি হয়েছে। এই বিপুল চাপের কারণে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন রুটে সৃষ্টি হয়েছে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত তীব্র যানজট। আর এই যানজটের আগুনে ঘি ঢালছে প্রকৃতির বৈরী আচরণ; কিছুক্ষণ পর পরই নামছে মুষলধারে বৃষ্টি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা গণপরিবহন আর আকাশভাঙা বৃষ্টি—এই দুইয়ের কবলে পড়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটছে ঈদযাত্রী এবং দূরপাল্লার যানবাহনের চালকদের।

বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই যান চলাচলে স্থবিরতা নেমে এসেছে, যা আজ আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। মহাসড়কের করটিয়া থেকে শুরু করে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহন একেবারে স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে জামুর্কি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় কোনো রকমে ধীরগতিতে চাকা ঘুরছে গাড়ির। ভুক্তভোগী যাত্রী, চালক ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে মাত্র দুই ঘণ্টা সময় লাগত, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই একই রাস্তা পার হতে যাত্রীদের ছয় থেকে আট ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এই চরম দুর্ভোগের মধ্যেও বাড়ি পৌঁছানোর তাগিদে অনেক মানুষকে বাসের ছাদে কিংবা খোলা ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি উৎসবের এই সুযোগে পরিবহনগুলো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে বলে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এই নজিরবিহীন যানজটের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কে হঠাৎ ফিটনেসবিহীন পুরনো যানবাহন বিকল হয়ে পড়া, এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলমান থাকা এবং চার লেনের কিছু অংশের কাজ এখনো অসমাপ্ত থাকার কারণে গাড়ির গতি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, যমুনা সেতুর ধারণক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত গাড়ির এই বিশাল বহর একসঙ্গে পারাপার করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঘুরিয়ে বিকল্প পথে ঢাকার দিকে পাঠানো হচ্ছে। তবে ধীরগতি থাকলেও যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সেতু দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা। টাঙ্গাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণেই মূলত মহাসড়কে এই ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং দ্রুত যানজট নিরসন করে সড়ক সচল করতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম মহাসড়কে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল