রাজধানীর ব্যস্ততম রাজপথগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের বাঁশির আওয়াজ কিংবা হাতের ইশারা উপেক্ষা করে যারা হরহামেশাই আইন ভাঙতেন, উল্টো পথে গাড়ি ছোটাতেন কিংবা যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করিয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করতেন, তাদের জন্য এবার হাজির হয়েছে এক অমোঘ দুঃসংবাদ। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ও চিরচেনা মোড়গুলোতে এখন নিঃশব্দে মোতায়েন করা হয়েছে এক ‘অদৃশ্য প্রহরী’। এই আধুনিক প্রযুক্তির কড়া নজর এড়িয়ে ট্রাফিক আইন ভাঙা এখন চালকদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সনাতন পদ্ধতির অবসান ঘটাতে ইতোমধ্যে শহরের অন্তত ৩০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে চালু করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মে মাসের ৭ তারিখ থেকে রাজধানীর ব্যস্ততম মোড়গুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অটোমেটেড ট্রাফিক প্রসিকিউশন বা স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে যেসব এলাকা যানজট, বিশৃঙ্খলা ও চালকদের আইন অমান্য করার আখড়া হিসেবে পরিচিত ছিল, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম ধাপে এই প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এই আধুনিক ব্যবস্থার সুবাদে মাত্র কয়েক দিনেই ঢাকার সড়কগুলোতে একটি দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে, যা নগরীর ট্রাফিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট মোড়, উত্তরা বিমানবন্দর এলাকা এবং গুলশানের মতো তীব্র যানজটপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে এই বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য মূলত পাঁচ ধরনের প্রধান অপরাধকে দমন করা—লাল বাতি অমান্য করে গাড়ি চালানো, স্টপ লাইনের বাইরে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করানো, রাস্তার উল্টো দিক দিয়ে চলাচল, অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো। ব্যস্ত সড়কে যখনই কোনো চালক বা গাড়ি এই অপরাধগুলো করবে, তখনই মোড়ে থাকা ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই মুহূর্তের নিখুঁত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নেবে। এরপর মূল সফটওয়্যারটি গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে তা সরাসরি বিআরটিএর মূল তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে এবং মালিকের নাম-ঠিকানা যাচাই করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা তৈরি করে ফেলবে।
এই প্রযুক্তি চালুর পর থেকে গত ২৩ মে পর্যন্ত মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থাটি ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে ৬১১টি ডিজিটাল মামলা দায়ের করেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই ব্যবস্থাটি যখন পূর্ণ সক্ষমতায় চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করা শুরু করবে, তখন প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসার পাশাপাশি চালকদের মধ্যে এক ধরনের গভীর মনস্তাত্ত্বিক ভীতি ও দায়বদ্ধতা তৈরি হবে। ডিএমপির পরিকল্পনা রয়েছে ধাপে ধাপে রাজধানীর অন্তত ৫০০টি পয়েন্টে এই ধরনের ক্যামেরা বসানোর। এর পাশাপাশি বিআরটিএর তথ্যভাণ্ডার পুরোপুরি হালনাগাদ করা এবং সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব হলে এই প্রযুক্তির শতভাগ সুফল পাওয়া যাবে। এর ফলে মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের সনাতন ও ভোগান্তিকর পদ্ধতি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যা যানজট কমানোর পাশাপাশি চালক ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত তর্কবিতর্কও চিরতরে বন্ধ করে দেবে।
নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় মামলার নোটিস পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটিকেও সম্পূর্ণ আধুনিক করা হয়েছে। কোনো গাড়ি আইন অমান্য করলেই নম্বরপ্লেট থেকে মালিকের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিকভাবে খুদে বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাড়ির নিবন্ধিত স্থায়ী ঠিকানায় সরকারি রেজিস্ট্রি ডাকেও নোটিস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যাংক কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হবে। যদি কেউ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই জরিমানা পরিশোধ না করেন, তবে মামলাটি সরাসরি আদালতে চলে যাবে এবং অমান্যকারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থার আড়ালে কোনো প্রতারক চক্র যদি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ বা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
তবে এই আধুনিক ও চমৎকার উদ্যোগটি বাস্তবায়নের পথে এখনও কিছু বাস্তবমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেসব যানবাহনের নম্বরপ্লেট অস্পষ্ট, কাদা মাখা, বিকৃত কিংবা অননুমোদিত কায়দায় লেখা, সেগুলো সঠিকভাবে পড়তে সফটওয়্যারটি কিছুটা সমস্যায় পড়ছে। এই জটিলতা দূর করতে ডিএমপি কমিশনার ইতোমধ্যে একটি সতর্কতামূলক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন এবং খুব শিগগির নম্বরপ্লেট জালিয়াতি বা অস্পষ্টতার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে বলে জানা গেছে। এই প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের পাশাপাশি সড়কে যুক্ত হয়েছে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগও। গত ১১ মে উত্তরা বিমানবন্দর গোলচত্বরে সৌরবিদ্যুৎচালিত দেশের প্রথম অত্যাধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল লাইটের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও এই সিগন্যালগুলো সচল থাকবে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও নিরবচ্ছিন্ন করবে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, আগে কাগজের স্লিপে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে লেখার অস্পষ্টতা, ভুল তথ্য কিংবা স্লিপ হারিয়ে যাওয়ার মতো নানা ভোগান্তি ছিল প্রতিদিনের চিত্র। পরবর্তীতে পস মেশিন চালু হলেও গাড়ি থামিয়ে জরিমানা আদায়ের সময় সড়কে উল্টো নতুন করে যানজট তৈরি হতো এবং দুর্নীতির সুযোগ থেকে যেত। বর্তমান স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় গাড়ি না থামিয়েই অপরাধের অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে, যার ফলে সড়কে গাড়ির স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে না এবং ট্রাফিক পুলিশের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমে এসেছে। ডিএমপির মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা রাজস্ব আদায় করা নয়, বরং রাজধানীর সড়কে একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। ঢাকাকে একটি সত্যিকারের আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এই ধরনের প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
রাজধানীর ব্যস্ততম রাজপথগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের বাঁশির আওয়াজ কিংবা হাতের ইশারা উপেক্ষা করে যারা হরহামেশাই আইন ভাঙতেন, উল্টো পথে গাড়ি ছোটাতেন কিংবা যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করিয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করতেন, তাদের জন্য এবার হাজির হয়েছে এক অমোঘ দুঃসংবাদ। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ও চিরচেনা মোড়গুলোতে এখন নিঃশব্দে মোতায়েন করা হয়েছে এক ‘অদৃশ্য প্রহরী’। এই আধুনিক প্রযুক্তির কড়া নজর এড়িয়ে ট্রাফিক আইন ভাঙা এখন চালকদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সনাতন পদ্ধতির অবসান ঘটাতে ইতোমধ্যে শহরের অন্তত ৩০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে চালু করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মে মাসের ৭ তারিখ থেকে রাজধানীর ব্যস্ততম মোড়গুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অটোমেটেড ট্রাফিক প্রসিকিউশন বা স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে যেসব এলাকা যানজট, বিশৃঙ্খলা ও চালকদের আইন অমান্য করার আখড়া হিসেবে পরিচিত ছিল, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম ধাপে এই প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এই আধুনিক ব্যবস্থার সুবাদে মাত্র কয়েক দিনেই ঢাকার সড়কগুলোতে একটি দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে, যা নগরীর ট্রাফিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট মোড়, উত্তরা বিমানবন্দর এলাকা এবং গুলশানের মতো তীব্র যানজটপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে এই বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য মূলত পাঁচ ধরনের প্রধান অপরাধকে দমন করা—লাল বাতি অমান্য করে গাড়ি চালানো, স্টপ লাইনের বাইরে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করানো, রাস্তার উল্টো দিক দিয়ে চলাচল, অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো। ব্যস্ত সড়কে যখনই কোনো চালক বা গাড়ি এই অপরাধগুলো করবে, তখনই মোড়ে থাকা ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই মুহূর্তের নিখুঁত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নেবে। এরপর মূল সফটওয়্যারটি গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে তা সরাসরি বিআরটিএর মূল তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে এবং মালিকের নাম-ঠিকানা যাচাই করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা তৈরি করে ফেলবে।
এই প্রযুক্তি চালুর পর থেকে গত ২৩ মে পর্যন্ত মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থাটি ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে ৬১১টি ডিজিটাল মামলা দায়ের করেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই ব্যবস্থাটি যখন পূর্ণ সক্ষমতায় চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করা শুরু করবে, তখন প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসার পাশাপাশি চালকদের মধ্যে এক ধরনের গভীর মনস্তাত্ত্বিক ভীতি ও দায়বদ্ধতা তৈরি হবে। ডিএমপির পরিকল্পনা রয়েছে ধাপে ধাপে রাজধানীর অন্তত ৫০০টি পয়েন্টে এই ধরনের ক্যামেরা বসানোর। এর পাশাপাশি বিআরটিএর তথ্যভাণ্ডার পুরোপুরি হালনাগাদ করা এবং সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব হলে এই প্রযুক্তির শতভাগ সুফল পাওয়া যাবে। এর ফলে মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের সনাতন ও ভোগান্তিকর পদ্ধতি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যা যানজট কমানোর পাশাপাশি চালক ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত তর্কবিতর্কও চিরতরে বন্ধ করে দেবে।
নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় মামলার নোটিস পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটিকেও সম্পূর্ণ আধুনিক করা হয়েছে। কোনো গাড়ি আইন অমান্য করলেই নম্বরপ্লেট থেকে মালিকের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিকভাবে খুদে বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাড়ির নিবন্ধিত স্থায়ী ঠিকানায় সরকারি রেজিস্ট্রি ডাকেও নোটিস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যাংক কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হবে। যদি কেউ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই জরিমানা পরিশোধ না করেন, তবে মামলাটি সরাসরি আদালতে চলে যাবে এবং অমান্যকারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থার আড়ালে কোনো প্রতারক চক্র যদি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ বা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
তবে এই আধুনিক ও চমৎকার উদ্যোগটি বাস্তবায়নের পথে এখনও কিছু বাস্তবমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেসব যানবাহনের নম্বরপ্লেট অস্পষ্ট, কাদা মাখা, বিকৃত কিংবা অননুমোদিত কায়দায় লেখা, সেগুলো সঠিকভাবে পড়তে সফটওয়্যারটি কিছুটা সমস্যায় পড়ছে। এই জটিলতা দূর করতে ডিএমপি কমিশনার ইতোমধ্যে একটি সতর্কতামূলক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন এবং খুব শিগগির নম্বরপ্লেট জালিয়াতি বা অস্পষ্টতার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে বলে জানা গেছে। এই প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের পাশাপাশি সড়কে যুক্ত হয়েছে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগও। গত ১১ মে উত্তরা বিমানবন্দর গোলচত্বরে সৌরবিদ্যুৎচালিত দেশের প্রথম অত্যাধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল লাইটের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও এই সিগন্যালগুলো সচল থাকবে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও নিরবচ্ছিন্ন করবে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, আগে কাগজের স্লিপে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে লেখার অস্পষ্টতা, ভুল তথ্য কিংবা স্লিপ হারিয়ে যাওয়ার মতো নানা ভোগান্তি ছিল প্রতিদিনের চিত্র। পরবর্তীতে পস মেশিন চালু হলেও গাড়ি থামিয়ে জরিমানা আদায়ের সময় সড়কে উল্টো নতুন করে যানজট তৈরি হতো এবং দুর্নীতির সুযোগ থেকে যেত। বর্তমান স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় গাড়ি না থামিয়েই অপরাধের অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে, যার ফলে সড়কে গাড়ির স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে না এবং ট্রাফিক পুলিশের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমে এসেছে। ডিএমপির মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা রাজস্ব আদায় করা নয়, বরং রাজধানীর সড়কে একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। ঢাকাকে একটি সত্যিকারের আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এই ধরনের প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই।

আপনার মতামত লিখুন